মণিরামপুরে শিক্ষার্থী ধর্ষণ ঘটনায় মাদ্রাসায় বিক্ষোভ, অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত

  • গণপিটুনির শিকার সহায়তাকারী, অবরুদ্ধ অধ্যক্ষ

 

প্রতীকী ছবি

✍ আব্দুল মতিন, মণিরামপুর (যশোর)

যশোরের মণিরামপুরে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা জানিয়েছেন ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িত শিক্ষকের কঠিন শাস্তির দাবিতে মাদ্রাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যায়। তাকে সহায়তার অভিযোগে আরেক শিক্ষক গণপিটুনির শিকার হন। পরে বিক্ষুব্ধরা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহাদৎ হোসেনকে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১ টার দিকে ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া মহিলা দাখিল মাদরাসায় ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মণিরামপুর সার্কেল) রাকিবুল হাসান ও সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) সায়েমা হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত ও মাদ্রাসা সুপারকে মুক্ত করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় তার পরিবারকে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ঘটনা জানতে পেরে শিক্ষক তরিকুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

ওই ছাত্রীর পিতা জানান, তার মেয়ে ঝাঁপা দক্ষিণপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। আসন্ন দাখিল পরীক্ষাকে ঘিরে সন্ধ্যার পরই মাদ্রাসায় কোচিংয়ের ব্যবস্থা চালু করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার কোচিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ও মৌলভি শিক্ষক নজরুল ইসলাম। তার মেয়ে সেদিন কোচিংয়ে গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার পরও বাড়ি ফেরেনি।

এ সময় মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষকরা জানান, অনেক আগেই বাড়ি চলে গেছে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্রাসার বাথরুমের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তার গোপণাঙ্গ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। তাকে উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলে লোকলজ্জার ভয়ে মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে মেয়েকে বাড়ি নেয়া হয়।

পরে ঘটনার বিস্তারিত তার মাকে বলে। প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও এখন ফাঁস করেছি ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে।

ওই ছাত্রী জানায়, কোচিং শেষ হওয়ার পর অন্যরা চলে যায়। পড়ার লেখার বিষয়ে কথা আছে বলে শিক্ষক তরিকুল তাকে গোপনে থাকতে বলেন। কথা বলতে বলতে মাদ্রাসার বাথরুমের পাশে যেতেই ওই শিক্ষক আমাকে জাপটে ধরে।

এ সময় সে চিৎকার করলেও মৌলভি শিক্ষক নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। বরং তার সহায়তায় তরিকুল ইসলাম আমাকে ধর্ষণ করে। পরে কি হয়েছে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ায় আমি বলতে পারবো না।

ধর্ষণের ঘটনাটি বৃহস্পতিবার জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা জোটবদ্ধ হয়ে মাদ্রাসায় হানা দেয়।

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি বুঝতে পেরে কৌশলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম। এসময় ধর্ষণ ঘটনার সহায়তার অভিযোগে মৌলভি শিক্ষক নজরুল ইসলামকে গণপিটুনি দেয়া হয়। পরে অধ্যক্ষ শাহাদৎ হোসেনকে ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হোক।

অধ্যক্ষ শাহাদৎ হোসেন মুঠোফোনে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি জানতে পেরে ম্যানেজিং কমিটি জরুরী আলোচনায় বসে। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে শিক্ষক তরিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের সময় এলাকাবাসী মাদ্রাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় আমার রুমে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ৩ ঘণ্টা পর পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরো জানান, ধর্ষণ ঘটনার সহায়তার অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।