ঢাবিতে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে জমজ দুই বোন, দায়িত্ব নিলেন এমপি ও ডিসি

✍ বাগেরহাট প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হওয়া বাগেরহাটের পৌরসভার হরিণখানা এলাকার জমজ দুই বোন সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়ার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময় ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সার্কিটে হাউসে মেধাবী ওই দুই শিক্ষার্থী ও তার মাকে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক। এসময় বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বাগেরহাট পৌরসভার হরিণখানা এলাকার রাজমিস্ত্রি বাবা মহিদুল হাওলাদারের জমজ দুই মেয়ে সাদিয়া ও নাদিরা অর্থাভাবে টিউশনি করে লেখাপড়া চালিয়েছে। মাধ্যমিক বাণিজ্য বিভাগে সাদিয়া ৪.৮৬, নাদিরা ৪.৯১ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে দুই বোনই জিপিএ-৫ পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় গ-ইউনিটে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার মেধাক্রম ১১৬৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর। কিন্তু অভাবে তাদের ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ তথ্য জানতে পেরে এগিয়ে আসেন এমপি ও ডিসি।

মা শাহিদা বেগম বলেন, অনেক অর্থ কষ্টে থাকার পরও মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। মেয়রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ছিলাম। সবাই এখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। তাই এখন একটু ভারমুক্ত হয়েছি। ভাল লাগছে অনেক।

সাদিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পরে এক ধরণের অনশ্চিয়তা কাজ করছিল মনের মধ্যে। আমাদের এমপি, জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রসহ অনেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সকলের কাছে দোয়া চাই। যাতে ভাল লেখা পড়া করে দেশের সেবা করতে পারি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মানুনুর রশীদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাগেরহাটের দরিদ্র দুই মেধাবী মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে এ খবর দেখতে পেয়ে আমি তাদের খোঁজ খবর নেই। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরা জানাই।

শনিবার দুপুরে মেয়ে দুটির পরিবারকে সার্কিট হাউজে আসতে বলি। স্থানীয় এমপি ও জেলা প্রশাসন ওই মেয়ে দুটির ভর্তি ফিসহ পড়ালেখার সব দায়িত্ব নিয়েছে।