নড়াইলের সাগর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, আটক ২

✍ নিজস্ব প্রতিবেদক

নড়াইলের সাগর দাস (২০) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামি নড়াইল সদরের উজিরপুর কুলইতলা গ্রামের কালিপদ দাসের ছেলে তপন দাস (২৩) ও চিত্তরঞ্জন দাসের ছেলে মিলন দাসকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

গাঁজা বিক্রির টাকা না পাওয়া ও প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পিবিআই জানিয়েছে। নিহত সাগর দাস নড়াইল সদরের কুলইতলা গ্রামের বুদোই দাসের ছেলে।

পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ২৮ আগস্ট নড়াইলের ধোপাখোলা গ্রামের জিল্লুর রহমানের বাড়ির পাশ থেকে সাগর দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাগরের পিতা বুদোই দাস নড়াইল থাকায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই যশোরে এ হত্যা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তভার গ্রহণের পর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দ্বৈপায়ন মণ্ডল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শুক্রবার এলাকা থেকে দুই আসামি তপন দাস ও মিলন দাসকে গ্রেফতার করে শনিবার নড়াইলের আদালতে সোপর্দ করে।

পিবিআই জানায়, নিহত সাগর দাস এবং আসামি তপন ও মিলন বন্ধু ছিল। সাগর আসামি তপনের কাছ থেকে বাকিতে গাঁজা কিনে সেবন করতো। গাঁজা বিক্রির ৫ হাজার টাকা বকেয়া হওয়ায় তপন টাকার জন্য চাপ দেয়। সাগর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

অন্যদিকে, সাগরের সাথে ধোপাখোলার বন্যা নামে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বন্যার বোন বর্ষার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আসামি মিলনের। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় বন্যার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা পোষণ করে মিলন। কিন্তু তাতে সাগর বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ দুই কারণে সাগরকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামি তপন ও মিলন।

২৭ আগস্ট সন্ধ্যা রাতে বাড়ি থেকে সাগর সাইকেল নিয়ে বের হয়। রাতে তপন ও মিলন তাদের আরও দুই সঙ্গী নিয়ে ধোপাখোলার মাঠে সাগরকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশ প্রেমিকা বন্যার বাড়ির পাশে পাটগাদা ও কলাগাছের নিচে ফেলে দেয়।

পরদিন লাশ উদ্ধার হলে আসামিরা সাগরের বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে স্বজনদের সান্ত্বনাও দিয়ে আসে।

পিবিআই তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের শনাক্তের পর তাদের আটক করে। এরপর আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারে ওই ঘটনার বর্ণনা দেয়।