গড়াই ভাঙনে বদলে যাচ্ছে শৈলকুপার তিন ইউনিয়নের মানচিত্র

✍ শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

গড়াই নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিঘা বিঘা ফসলি জমি। পানি বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছাড়ছে। বদলে যাচ্ছে ৩টি ইউনিয়নের মানচিত্র।

গত এক মাসে সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।

এছাড়াও হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা ও খুলুমবাড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, নতুনভুক্ত মালিথিয়া ও লাঙ্গলবাঁধ বাজার এখন নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে এসব গ্রামের বহু ফসলের মাঠ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়–রিয়া কৃষ্ণনগর এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নদীভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বহুমানুষ তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে এসেছে, কেউ কেউ ঠাঁই নিয়েছে বেড়িবাধে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে। যাদের ঘরবাড়ি এখনো ভাঙনতটে অবস্থান করছে এদের কারো চোখেই ঘুম নেই যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলিন হবে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা।

৯০ দশক পর থেকেই বছরের পর বছর গড়াই নদীর গর্ভে চলে গেছে বড়ুরিয়া, বাখরবা, কৃষ্ণনগর, কৃর্ত্তিনগর, গোসাইডাঙ্গা, সারুটিয়া, শাহবাড়িয়া, গাংকুলা অংশে এবং হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা ও খুলুমবাড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, নতুনভুক্ত মালিথিয়া, চরপাড়া ও লাঙ্গলবাঁধ বাজারসহ ৩ ইউনিয়নের বৃহৎ এলাকা।

২০০০ সাল পরবর্তী সময়ে বড়ুরিয়া-কৃষ্ণনগর এলাকার কিছু মানুষ ওপারে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানাধীন জেগে ওঠা প্রায় দেড় হাজার বিঘা আয়তনে চরে জীবন যাপনের জন্য ভূমিহীন হিসাবে আশ্রয় খুঁজলেও ঠাঁই হয়নি।

গড়াই নদীর দুই পাড়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতিহিংসার শিকারে অমিমাংসীত থেকে গেছে নানা উদ্যোগ। নদীর এপার-ওপার মানুষের মাঝে চর দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এমনকি মারামারির ঘটনাও কম ঘটেনি।

অপরদিকে বেড়েই চলেছে নদী ভাঙন। এ বছর বর্ষার পানি বাড়তেই আবার শুরু হয়েছে ভাঙন । গৃহহীন ভোক্তভোগীরা গভীর করে ড্রেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাঙন বন্ধ, স্পার্কিং ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টি চ্যানেল নির্মাণ অথবা স্থায়ী ব্লক দিয়ে শৈলকুপার মানচিত্র ঠিক রাখা, একই সাথে বড়ুরিয়া-কৃষ্ণনগর, কাঁশিনাথপুর, লাঙ্গলবাঁধ ও মাদলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের আবাদী জমিজমা বাঁচানোর সত্বর অনুরোধ জানিয়েছেন। দিনে দিনে হারিয়ে গেছে বড়–রিয়া থেকে শুরু হয়ে লাঙ্গলবাঁধ বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, যা পুননির্মাণ জরুরি।

এ ব্যাপারে পাউবো ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন জানান, স্থায়ী ভিত্তিতে স্পার্কিং ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টি চ্যানেল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধ পুনঃনির্মাণসহ ভাঙনরোধ করে বাড়িঘর কৃষিজমি রক্ষায় শৈলকুপার ৩টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে জরুরি প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দের চেষ্টা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।