এবার এমপি রুহুলের অডিও ফাঁস!

✍ স্পন্দন ডেস্ক

এবার ইউটিউবে ফাঁস হয়েছে চাঁদপুর ২ আসনের (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) এমপি নুরুল আমিন রুহুলের একটি অডিও রের্কড। প্রায় ১০ মিনিটের এই অডিওতে জাপানি হান্নান মিয়া নামের স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কমিটি দেয়া নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে শোনা গেছে।

একইসঙ্গে তার সংসদীয় আসনের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

এমপি নুরুল আমিন রুহুল এ সময় ফেসবুকে তাকে নিয়ে বিভিন্ন লেখালেখির জন্য জাপানি হান্নান মিয়াকে দোষারোপ করেন। তার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো :

নুরুল আমিন রুহুল : হ্যালো।
জাপানি হান্নান : হ্যালো।
নুরুল আমিন রুহুল : হ্যা, রুহুল।
জাপানি হান্নান : হ্যা, বলেন।
নুরুল আমিন রুহুল : পাগল হয়ে গেছেন নি। এই আইডিতে এইসব লেখা শুরু করছেন।
জাপানি হান্নান : এখন কি করমু, আপনারা পাগল বানায়লাইলে আর করার কি আছে?
নুরুল আমিন রুহুল : কি এক পাগল লোক! একটা কমিটি তিন মাসের লাইগ্যা। আমারে তো!

জাপানি হান্নান : আপনি একদিনের জন্য করেন। আমরা তিনটা ভাই, আপনার ওখানে বসাইয়া চা খাওয়াইলেন, কথা কইলেন, যে বেয়াই আচ্ছা ঠিক আছে, কমিটিতে একটা লোক দিতে হবে, যারেই হোক, এখান থেকেই বানামু, তারপর আমরা আলাপ করমু। আপনি হঠাৎ করে একজনকে দিয়া দিলেন, এই স্কুল থেকে আমি লেখাপড়া করছি, পাশেই আমার বাড়ি, একটু জিগাইলান না।

নুরুল আমিন রুহুল : না না, আপনে কথাডা তো শুনবেন। আমারে তো নির্বাচনে, আপনের ব্যাপারটা আমি পরে বলি। আমারে তো অনেকে টাকা-পয়সা, এমনে এমনে কিছু হেল্প করছে। এখন আমি তো কেউরই কোন বাল হালাইতে পারি নাই। এখন দেখলাম যে, এই একটা কমিটি, এটাতে আপনেও যাইবেন না, আমি তো বুঝছি। আপনারে তো এই ছোট কমিটি দিয়া লাভ নাই। আপনি তো আমারে জিজ্ঞাসা কইরা কথা বলবেন।

আমি তো, এই সবাই তো অনেক আশা কইরা বইসা রইছে। আশাটা বলতে, এই কথা বলতে হয়, যেমন নান্নু আমারে কিছু টাকা দিছে।

জাপানি হান্নান : হু।

নুরুল আমিন রুহুল : আমি যে এতগুলা টাকা খরচ করলাম উত্তরে, মোক্তারের কাছ থেকে কিছু টাকা নিছি, কাজী মিজান থেকে কিছু টাকা নিছি।

জাপানি হান্নান : হু।

নুরুল আমিন রুহুল : আপনারা যেভাবে দেখেন, আমি তো আর সেভাবে কথাগুলা বলতে পারি না। আর আপনি যদি নিজের লোক হইয়া না বুঝেন। এই যে একটা কমিটি দিছি, তিন মাসে শ্যাষ, এইহানে কোনো চেকের ক্ষমতা নাই, বাল ফালানি নাই। এই আপনেরে যদি তিন মাসের লাইগ্যা কমিটি দেই, আপনি কইবেন যে, ভাই আমি এইডাত যাইতাম না। মঞ্জুরে কইছি, মঞ্জু যাইবো না। ওই নুরু পাটোয়ারীরে কইছি, যাইবো না। অ্যাডক কমিটিতে কেউ যাইতে রাজি হয় না, কারণ এইডাতে কোনো মাতবরি নাই।

এখন সবার থেকে আমার একটা রিলিজ নিতে হয়, কারণ আমি তো এই কথা বলতে পারি না যে, টাকা নিছি। তো এখন যদি আপনি নিজে, আমি আপনারে কইছি যে, দুই বছর পরে আপনি বালু ধরেন। আপনে যদি এখন…

জাপানি হান্নান : না বেয়াই শুনেন…

নুরুল আমিন রুহুল : না না, এখন এইটা তো এমন কিছু না। এখন আপনি তো করছেন, আমি তো…

জাপানি হান্নান : আমরা আপনার ওইখানে গেলাম, দুই-তিনদিন গেলাম, আপনি যদি আমাদেরকে মূল্যায়ন না করেন নাই, কিন্তু অপমান কইরেন না, আমাদেরকে মূল্যায়ন না করেন, কিন্তু অপমান করার অধিকার কিন্তু কারোর নাই…

নুরুল আমিন রুহুল : না না, বাই দিস টাইমে কি হইছে, আমি কবীররেও কইছি, আপনেরে কই নাই। কেন কইছি কবীররে, বাই দিস টাইমে কি হইছে, কাজী মিজানরে খালাশিরা, বালু নিয়া কাজী মিজানের আর খালাশিদের নাম যে পত্রিকায় আসছিল, কাজী মিজানরে রাজাকারের পোলা, অমুক সমুক, এইডা সেইডা লেইখা, হেগো মধ্যে জিডি নিয়া সবগুলা পত্র-পত্রিকায় চলতেছে। এগুলা তো আমি আমার মোবাইল দিয়া কইতে পারি না, সুমনও নাই। আমি কবীররে কইছি কিছু কথা, সুমনের ইয়া দিয়া। কবীরও টের পাইছে, দেশে গিয়াও দ্যাখছে। খালাশিগো লগে একটা যুদ্ধ চলতেছে কাজী মিজানের। যুদ্ধটা কি, হেরা হেগো বিরুদ্ধে পত্রিকায় উডায়, হেরা হের বিরুদ্ধে পত্রিকায় উডায়।

জাপানি হান্নান : আমার নাও তো দিছে পত্রিকায়। সমস্যা কি, দেউক না।

নুরুল আমিন রুহুল : আরে ভাই, আপনের নাম দেয়া আর অগো নাম দেয়া, আপনি তো এইডাতে জড়িত না আমি জানি।

জাপানি হান্নান : জড়িত না, কিন্তু ওরা তো দিয়া দিছে।
নুরুল আমিন রুহুল : কে দিছে এডা?
জাপানি হান্নান : দ্যাখেন পত্রিকায় আছে তো। এইডা কে দিছে…
নুরুল আমিন রুহুল : এইডা কোন পত্রিকা?

জাপানি হান্নান : আমাগো লগে হের নামও লেইখা দিছে, যে নান্নুও আছে, জাপানি হান্নানও আছে। লেইখা দিছে বেশ ভালো কথা, আমরা যাই নাই, আমাদের মন জানে।

নুরুল আমিন রুহুল : না না, এইডাতো, এই খানকির পুতেরা এইডা নিয়া যুদ্ধ করতেছে, লেখতাছে। আমি আইজগাও টিএনওরে পাঠাইছি, যে আপনি যান, আপনি গিয়া এইডা দেখেন।

জাপানি হান্নান : না না, শোনেন, আমি একটা কথা বলি। এইগুলা বেয়াই কইয়া লাভ নাই। কারণ আপনারা আমাদের মূল্যায়ন করেন না, কিন্তু অপমানডা বেয়াই কইরেন না, অপমান করার রাইট কারোর নাই।

নুরুল আমিন রুহুল : আরে ভাই…

জাপানি হান্নান : আমাকে ডাইক্কা নিলেন আপনে, আপনি অমুকের লগে কথা কন, আমি সেলিমের লগে কথা কইয়া আইয়াম, সেটারও মূল্যায়নডা আমার গেল, এইডারও মূল্যায়নডা আমার গেল, আমি তো কিচ্ছু ভাই নাই বেয়াই, আমি কিচ্ছু চাই নাই।

নুরুল আমিন রুহুল : আরে দূরো, সেলিমের তো ক্যাসিনো নিয়া পত্র-পত্রিকায় নাম আইছে, আপনে ওইটা দেখবেন না। এখন সবাই তো বাগের উপরে আছে।

জাপানি হান্নান : যাই হোক, আমাদের তো এইডা না, আমাদেরও তো মানুষের কাছে জবাবদিহিতা আছে, আমরা একসাথে কাজ করছি। আরেকটা সবচেয়ে বড় সমস্যা হইলো, আপনেরে বেয়াই ডাকা। যদি বেয়াইডাও না কইতাম, তাইলে একটু দূরে থাকতেন, বেয়াইডা কইয়াই তো বাড়াইছেন আপনে।

নুরুল আমিন রুহুল : না না। বেয়াইডাই বা রাখলেন কই। এই যে ছবিগুলা পোস্ট করছেন, আপনের মতো লোক কি এইডা সাজে, আমারে না জিজ্ঞাস কইরা।

জাপানি হান্নান : আপনেরে আর কি জিজ্ঞামু। আপনে আমাগো চার আনা দিয়াও গুণলেন না।

নুরুল আমিন রুহুল : আরে পরশু দিন না কবে একটা ফোন দিছেন, ওই যে মহানগর আওয়ামী লীগের শাহ আলমের নাম আইছে। কেউ কইতাছে আমার নাম, আমি তো মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে যাই-ই না। হের পরে আবার এগুলা নিয়া দোউড় পারতেছি। এখন দেশটার অবস্থা কি হইছে, ওই যে নিখিলের নাম আইছে উত্তরের। সামনে সম্মেলন। এখন আপনে তো আপনার ওয়ানসাইড চিন্তা করেন। এই যে দেশটা গরম কইরা রইছে, ওমর ফারুল চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করছে, শেখ সেলিমের বইনের জামাই। এগুলা যদি লগে না মিলান, দেশটায় কি চলতাছে, কি অবস্থা হইতেছে …

জাপানি হান্নান : অন্যদিন ফোন দিলে তো আপনি ধরেন। আমারে একবার দুইবার ১০ বার ফোন করেন, আলাপ কইরা বলেন এইডা করমু, আপনে করেন না, আমিও তো একটা প্রস্তাবের জায়গা রাখি। ফোনডা পর্যন্ত আপনারা ধরেন না, কিন্তু আমাদের অপমান করার সুযোগ পাইলে তো…

নুরুল আমিন রুহুল : আরে মিয়া, ফোনডা ধরি না বাল, গেছে যা কিছু! দেশটার পরিস্থিতি কি, নিজে তো আগে সেইভ হমু। মহানগর আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, একটা নাম যদি আমার পত্রিকায় আসে বা ওই মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে শাহ আলমের নাম আইছে, ছবি আইছে, আপনে জিনিসটা দেখতেছেন না! কোন হালায় কোন দিক দিয়া ডুকায় দেয়, এডি লইয়াই তো দৌড়াইতেছি দুই-তিনদিন ধইরা। সব কথা তো বলা যায় না, ওই নিখিল মিয়ার নাম আসছে প্রথমে, নিখিল মিয়া তো দৌড়াইয়া কোনো রকমে ঠিক করছে। আর নামটা একবার আইয়া পরলে তো, সামনে সম্মেলন, দুইমাসের মধ্যে সমস্ত কিছু। কথা বলছি, এখন এইগুলা তো আপনার বুঝতে হইবো, দেখতে হইবো যে দেশটার পরিস্থিতি কি। পোস্টটা না থাকলে তো সমস্যা হইতো না।

ওই যে দশআনির নজরুল, ওরা প্রশ্রাব করতে গেছে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে, মতলবের চার-পাঁচটা পোলা ধইরা লইয়া গেছে গা। ওরা তো কইছে, আমাগো এমপি অমুক-সমুক, আমিতো এইদিকে সেফ করতে পারি না। পরে পোলাপাইনেরে চাকরি দিছি। এখন ঘটনাচক্রে যদি নাম আসে, তাইলে রাজনীতি তো মাঙ্গে দিয়া যাইবো গা। এখন একটা ফোন না ধরলেই যে রাজনীতি শেষ হইয়া গেল…

জাপানি হান্নান : শুনেন, আমারে একটা কথা বলেন। প্রশ্নটা, আপনের বউয়ের লগে আমার একটা সম্পর্ক খারাপ হইছে, আপনার বউয়ের কারণে, আমার কারণে না। আমি এমন কোনো অপরাধ করি নাই, আপনার বউ বলবে যে, হান্নানরে অ্যারেস্ট করো। এইটা পর্যন্ত আপনে বিচার করেন নাই। ঐদিন নিজের মনের বিরুদ্ধে, তারপরেও আপনেরে আনতে গেছি যে, বেয়াই যাক ঠিক আছে, সবকিছু শ্যাষ। আপনারে নিয়া দিয়া আসলাম, আপনি দাওয়াতটা পর্যন্ত দিলেন না। আমরা তিনটা-চারটা ভাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের লোকসহকারে আপনার কাজটা করলাম, আপনি দাওয়াত পর্যন্ত দেন নাই, যে বেয়াই এত তারিখে অনুষ্ঠান। আরে আপনার মায়ে মইরা গেলে, আমার আত্মীয় দেনো যাইতাম গা, কাউরে জিগাইতাম না। আপনের শ্বশুর বাড়িতে গেলে তো আপনের বউয়ের লগে আমার বইতে হইবো…

এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওটি মিথ্যা, বানোয়াট বলে দাবি করেছেন চাঁদপুর-২ আসনের এমপি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. নুরুল আমিন রুহুল। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার দ্বারা অবৈধভাবে হীন ও অশুভ স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে ফোনে আমার কণ্ঠ নকল করে তা যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দিয়েছে। এর মধ্যে মতলব থানায় একটি সাধরণ ডাইরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইসিটি আইনে শিগগিরই মামলা করা হবে