‘প্রজন্ম মিলনমেলা’ এখন রায়পুর ইউনিয়নবাসির প্রাণের দোলা

মাসুম বিল্লাহ :
‘প্রজন্ম মিলন মেলা’ একটি শিক্ষামূলক ও অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাবলুজ্জামান বিপুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কৃঞ্চনগর গ্রামে ২০০৪ সালে এক ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় ‘প্রজন্ম মিলন মেলা’। সেই থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে চলেছে সংগঠনটি। একই সাথে সমাজের নানা উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিচ্ছে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা।
একের পর এক জনকল্যাণ ও শিক্ষামূলক কাজ করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হলো-
* প্রতিবছর রমজান মাসে ইফতার মাহফিল ও কোরআন তেলওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
* গ্রামের সকল জীবিত ব্যক্তিদের উন্নতি ও সুস্থতার জন্য দোয়া করে থাকেন।
* গ্রামের সকল মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
*রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা ও রক্তদানে সহয়তা করেছে।
*বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা
*ডেঙ্গু জ্বরের সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ।
* বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা।
* গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করা।
* কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুপযোগী কাদাযুক্ত খেলার মাঠ সমান ও মাঠে ঘাস রোপণ করা।
* এ ছাড়াও প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান।
* প্রতি বছর ঈদুল আজহার ৩য় দিনে ঈদ পুর্নমিলনী অনুষ্ঠান ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যা শুধু রায়পুর ইউনিয়ন নয় গোটা বাঘারপাড়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মিলন মেলায় রুপ নেয়।
* এ ছাড়া অত্র ইউনিয়নে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও দারিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই ও প্রয়োজনীয় নোট প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থীরা প্রজন্ম মিলন মেলার প্রতি জানালেন কৃতজ্ঞতা, আর অবিভাবকেরাও অনেক খুশি প্রজন্মের প্রতি।
সংগঠনের বর্তমান সভাপতি প্রভাষক মোঃ সোহাগ হোসেন সংগঠন নিয়ে দেখছেন নতুন স্বপ্ন। উদ্দেশ্যের কথা জানালেন এভাবে।
* নিরক্ষর মুক্ত গ্রম গড়ে তোলা। ১৫-৬০ বছর বয়োসী নারী ও পুরুষদের মাঝে।
*একটি পূর্ণাঙ্গ লাইবেরী প্রতিষ্ঠা করা।
*দারিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই প্রদান।
*সু-শিক্ষার আলোই আলোকিত হওয়ার জন্য নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করা।
*নিজ সন্তানকে বিদ্যালয়মূখি করার জন্য অবিভাবকদেরকে সচেতন করা।
* দরিদ্রতা ও বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যো বিভিন্ন পেশায় নিয়জিত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে পেশাজীবী সংগঠন গড়ে তোলা।
*দারিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
*এলাকার শান্তি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষে গুনীজন সংবর্ধনা।
তবে এসব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক বন্ধুর পথ।
সংগঠনটি শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে থেমে থাকেনি ‘প্রজন্ম মিলন মেলার’ উদ্যোমী তরুণেরা।
২০০৭ সাল থেকে মোঃ সোহাগ হোসেন সংগঠনটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ২০১৪ সালে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সংগঠনটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তখন মোঃ সোহাগ হোসেন গ্রামের সবাইকে একত্রিত করে ভাঙা তরি জোড়া লাগান। তখন নুর উদ্দীন,অলিউজ্জামান, গিয়াস উদ্দীনসহ আরো অনেকে সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি মোঃ সোহাগ হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। ২০১৬ সালে আখের আল ইমনকে সভাপতি ও আল আমিন’কে সাধারণ সম্পাদক করে পুর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। কিন্তু মাত্র ৮ মাস পর সাধারণ সম্পাদক বিদেশে চলে যাওয়া ও সভাপতির ব্যস্ততার কারণে কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। আখের আল ইমন ও সোহাগ হোসেনের সমন্বয় করে ২০১৭ সালে ঈদ পুর্নমিলনী ও গুনীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এবং একই বছরে মোঃ সোহাগ হোসেনকে সভাপতি করে একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী কমিটি করা হয়। এবং গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ও সংগঠনের পূর্বের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি করা হয়।
সংগঠনটির বর্তমান উপদেষ্টা কমিটি:
মোঃ বাবলুজ্জামান (বিপু), মো. আবুল কাশেম, মো. নূর উদ্দীন, মো. আতিকুর রহমান, মো. টিপু সুলতান, ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. ইসরাল হোসেন রিপন, মো. অলিউজ্জামান (অলিজ) মো. গিয়াস উদ্দীন, মো. রফিকুল ইসলাম,
প্রজন্ম মিলন মেলার বর্তমান কার্যকরী কমিটিঃ
সভাপতি মো. সোহাগ হোসেন, সহসভাপতি ১-মো. আখের আল ইমন, ২-মো. আরিফুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মো. রাব্বি হোসাইন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ১-মো. বিপ্লব হোসেন ২-মো. মহাব্বত হোসেন, ক্যাশিয়ার মো. রাজিব হোসেন, সহক্যাশিয়ার মো. বিপুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান আলী, যুগ্মসাংগঠনিক সম্পাদকঃ মো. রাকিবুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক. মো. ইখলাজ হোসেন, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান মধু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকঃ মো. আবু সাইদ শিমুল, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকঃ ১ -মো. সৈকত হোসেন, ২-মো. মাসুম বিল্লাহ (সুমন)। সর্বোপরী প্রজন্ম মিলন মেলার সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বললেন তাদের আরো উন্নয়নমূলক আরো পরিকল্পনা রয়েছে কিন্তু অর্থের অভাবে সম্ভব হচ্ছে না। তবে উপদেষ্টা ও সদস্যদের নিজেদের অর্থে একটি সেবা ফান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। জনসেবা ও মানবকল্যাণে সুধী মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন তারা।