প্রতিমা বিসর্জনে সম্পন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক:বাঙালি সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সার্বজনীন উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। একইসাথে যশোর শহরের বিভিন্ন মন্দির ও মন্ডপের প্রতিমাগুলো স্থানীয় লালদীঘিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জন।
৫দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপনী দিন মঙ্গলবার মহাদুর্গা দশমীর সকালে শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর আরাধনা শেষে যাত্রামঙ্গল ও শান্তি জল গ্রহণ শেষে গভীররাত পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এ শারদীয় দুর্গোৎসব।
শাস্ত্রমতে ৩ অক্টোবর মহাদুর্গাপঞ্চমীতে বোধনের মধ্য দিয়ে পবিত্র বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে শুরু হয় দেবী বন্দনা। পরের দিন ৪ অক্টোবর মহাদুর্গাষ্ঠীতে চিরাচরিত প্রথায় বাঙালি সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা আনন্দপ্রদানকারী ও আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী দুর্গামাকে তার সন্তানাদিসহ হিমালয় থেকে পিতৃলোক মর্ত্যে আবাহন করে শুরু হয় পূজার্চণা। আসুরিক শক্তির বিনাশ আর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের আশায় এ পূজার আয়োজন করা হয়।
বৈচিত্র্যময় মন্ডপ আর তোরণের সাথে এবার ব্যতিক্রমী বর্ণিল আলোকসজ্জায় মাতিয়ে দিয়ে যশোরের ৬৭৮টি মন্ডপ ও মন্দিরে এবার আয়োজন করা হয় শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার। এরমধ্যে যশোর পৌর এলাকায় পূজা অনুষ্ঠিত হয় ৪৪টি।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে যশোর পৌর এলাকার পূজামন্ডপের পূজারীরা দেবীপ্রতিমা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান নিয়ে শহরে শোভাযাত্রা বের করে লালদীঘিতে সমবেত হয়। অসংখ্য ভক্ত-পূজারীর উপস্থিতিতে লালদীঘির পাড়ে কোথাও তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না।
৫টা ৫৫ মিনিটে উলুধ্বনী, শঙ্খ, জয় ঢাকের তালে লালদীঘির মধ্যে নৌকায় প্রতিমা রেখে সাত পাক ঘোরানোর পর প্রথমে চৌরাস্তা মন্দিরের প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গভীররাত পর্যন্ত এ নিরঞ্জন কার্যক্রম চলে।
যশোর পৌরসভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ নিরঞ্জন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি।
নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে যশোরবাসীকে শারদীয় জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ডু।
সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ৫দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনসহ প্রতিমা নিরঞ্জন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ চন্দ্র দত্ত। তিনি শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে সার্বিক সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, র‌্যাব, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।