মনীষী কথা : বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের পুরোধা পুরুষ আবুল হুসেন

এস,এম শাকিরুল আলম শাকিল :
বড় পরিচয় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের পুরোধা। একাধারে দার্শনিক,প্রাবন্ধিক,সমাজ সংষ্কারক ও সমাজ চিন্তাবিদ। নাম আবুল হুসেন। জন্ম ১৮৯৭ সালের ৬ জানুয়ারি যশোর জেলার ফুলের রাজধানী নামে
খ্যাত পানিসারা গ্রামে।
আবুল হুসেনের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঝিকরগাছা মিডিয়াম ইংলিশ স্কুলে। এরপর কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ, বি.এল এবং এম.এল ডিগ্রী অর্জন করার পর শিক্ষাকতাকে পেশা হিসাবে বেছে নেন। পরবর্তীতে কিছু দিন জজকোর্ট এবং হাইকোর্টে আইন ব্যবসায়ও নিয়োজিত হন প্রথিতযশা
এই সমাজ সংষ্কারক।
অন্ধধর্ম ভক্তি এবং সামাজিক গোঁড়ামির ঘোর বিরোধী ছিলেন আবুল হুসেন। তার দর্শনের মূল নির্যাস ছিলো মুক্ত চিন্তার অনুশীলন। আবুল হুসেনের সাহিত্য কর্মের লক্ষ্য ছিলো হিন্দু মুসলমানকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে বাংলা সাহিত্যের এক নতুন দিক উন্মোচন করা। এই লক্ষে ১৯২৬ সালের ৬ই
জানুয়ারি তিনি ড.মুহাম্মাদ শহীদুল্লার নেতৃত্বে গঠিত “মুসলিম সাহিত্য সমাজ” নামক সংগঠনের সাথে যুক্ত হন।এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ছিলো সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে বাংলার হিন্দু মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ করে সামাজে বিদ্যমান অন্ধবিশ্বাস ও কুসংষ্কারকে দূর করা।
মননশীল ও সমাজ মনষ্ক প্রাবন্ধিক হিসাবে আবুল হুসেনের সুখ্যাতি ছিল।তিনি একাধারে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লিখে গেছেন।তৎকালিন সমাজের আলোড়ন সৃষ্টিকারী “শিখা” পত্রিকা স¤পাদনা-প্রকাশনা তার সাহিত্যধারা মুল্যায়নকে সহযোগিতা করে।তার প্রকাশিত রচনার মধ্যে রয়েছে
মুসলিম কালচার,নেশার ফের,মিনি,প্রিতির কুড়ি,দ্যা প্রবলেম অব রিভার্স ইন ব্যাঙ্গল,সবজানতা,রুদ্ধ ব্যথা প্রমুখ। আবুল হুসেনের মৃত্যুর পর তার প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত লেখাগুলির পান্ডলিপি তার প্রতিষ্ঠিত মর্ডান লাইব্রেরিতে সংরক্ষন করা হয়। কিন্ত ১৯৪৭ সালে কোলকাতায় সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা
দেখা দিলে মর্ডান লাইব্রেরিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ফলে নষ্ট হয়ে যায় সংরক্ষিত লেখা গুলি। আবুল হুসেন মাত্র ৪১ বছর ৯ মাস ৯ দিন বয়সে পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবার ইন্তেকাল করেন।