কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ওসি রবিউল ইসলাম

✍ ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের ফকিরহাটে খুলনা-ঢাকা ও খুলনা-মোংলা মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনে হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাইওয়ে থানার ওসির বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকরা এ অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি রবিউল ইসলাম।

খুলনা মোংলা মহাসড়ক এলাকার ট্রাক, নসিমন ও অটোরিকশা চালকেরা জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে খুলনা মোংলা মহাসড়ক এলাকায় শুরু করেন অভিযানের নামে ট্রাক, নসিমন ও অটোরিকশা আটক।

প্রতিদিন ১০-১৫টি অটোরিকশা আটক করে থানায় নিয়ে আসা তাদের নিত্য নৈমত্তিক কাজ। আটকের পর চালকদের সন্ধ্যার পর থানায় যোগাযোগ করতে বলে দেয়া হয়। চালকরা সন্ধ্যার পর থানায় গেলে প্রতি গাড়ি ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে এ দেনদরবার। এভাবে নিয়মিত চলছে হাইওয়ে ওসির বাণিজ্য।

সন্ধ্যার পর যারা যোগাযোগ না করে তাদের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় ট্রাফিক হেডকোয়ার্টারে।

খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ট্রাক চালক ফারুক হোসেনসহ ৮-১০ জন ট্রাকচালক বলেন, আমরা মোংলা থেকে সিমেন্ট এবং পাথর আনতে গেলে আসার পথে কাটাখালী হায়ওয়ে পুলিশ আমাদের কাছ থেকে প্রতিবারই ১০০০ (এক হাজার) টাকা করে চাঁদা নেয়। যদি আমরা চাঁদা না দিই তাহলে আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করাসহ ট্রাক আটক করে রাখা হয়।

ট্রাক শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে হাইওয়ে থানার ওসি বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট স্থাপন করেছেন। চেকপোস্টের কাজই হল মালবাহী ট্রাক, ট্রলি ও মিনি ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করা। তাছাড়া খুলনা-ঢাকা, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলছে লাইসেন্স এবং নম্বরবিহীন ট্রলি-টমটম।

এসব চালকরা বলেন, প্রতি মাসে হাইওয়ে থানাকে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের টাকা দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। তাছাড়া মিনিট্রাক ও ডাম্পার ট্রাকগুলো মাসিক টোকেনের ভিত্তিতে চলে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, এসব মিথ্যা কথা আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করি না।

ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিবো।