যশোরে তৃতীয় আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ‘ঈর্ষা এক ঠান্ডা নীল আগুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে তৃতীয় আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে তৃতীয় দিনে সোমবার পরিবেশিত হয় সৈয়দ শামসুল হক রচিত এবং অনন্ত হিরা নির্দেশিত নাটক ’ঈর্ষা’ ঢাকার প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের শিল্পীদের পরিবেশনায় নাটক ঈর্ষার মুল কাহিনী-প্রেমিকের হৃদয় যদি পোড়েতো একমাত্র ঈর্ষার আগুনেই পোড়ে ঈর্ষায় যে পোড়েনি, প্রেম সে হৃদয়ে ধরেনি,ঈর্ষা এক ঠান্ডা নীল আগুন। ‘ঈর্ষা’ নামের কাব্যনাটকের গল্প এতোটাই জীবন থেকে জীবনে বিস্তৃত আর দ্বন্দ্ব সংঘাতে মুখর যা বর্ণনাতীত। সেই সঙ্গে আছে আবার শিল্পের সঙ্গে শিল্পের দ্বন্দ্ব আছে শিল্পীর সাথে শিল্পীর দ্বন্দ্বও। আছে মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর প্রেম, ভালোবাসা; আছে মানব জীবনের আরেক অপরিহার্য এবং অত্যন্ত গোপন বিষয় শারিরীক সম্পর্ক বা যৌনতার কথা। আছে রূপসী বাংলার, শ্যামল উজ্জ্বল, রূপশালী গর্ভবতী ধানের বাংলার রূপের বর্ণনা, আছে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধও। সব মিলিয়ে জীবন ও জীবন উত্তীর্ণ শিল্পের নানা প্রসঙ্গের এতো এতো বিষয় যে শিল্প সম্পর্কে নাট্যকার বলেছেনÑ ‘শিল্পের তুলনায় জীবন বড়ই ক্ষণস্থায়ী’। ‘প্রেম যদি প্রতারণা করে শিল্প দেবে আমাকে আশ্রয়।
বিবর্তন যশোর আয়োজিত এই নাট্যোৎসবে দর্শকের উপস্থিতিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ জুড়েই ছিল প্রাণবন্ত। উৎসব হয়ে ওঠে নাট্য প্রেমী দর্শকের মিলনমেলা।
১ঘণ্টা ৫০ মিনিটের নাটকে পাত্রপাত্রি মাত্র ৩ জন। তারা হলেন নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু ও নির্দেশক অনন্ত হিরা। নেপথ্যে ছিলেন মঞ্চ নির্দেশনায় শাহীনুর রহমান, আলোকসজ্জায় জিল্লুর রহমান, সংগীততে রামিজ রাজু এবং পোশাকসজ্জায় ছিলেন নূনা আফরোজ। নাটকে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ৩ টি চরিত্র আর ৭টি সংলাপ। নাটকটির সবচেয়ে বড় সংলাপের ব্যাপ্তি ২৬ মিনিট এবং সবচেয়ে ছোট সংলাপটি ১২ মিনিটের।