হেনী নদীর ‘কিউসেক কিউসেক’ হানি

সাবরুমে গিয়ে যদি স্থানীয়দের নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় তো অবাক হওয়ার কিছু নেই। নোয়াখালী পার করে ফেনী পৌঁছালে এ জেলার তিন পাশ ঘিরে পাওয়া যাবে ত্রিপুরাকে। আর এই ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার প্রায় তলানির দিকের শহর সাবরুম।

একুশে পদক পাওয়া অনুপম সেন তার একাত্তর স্মৃতিচারণে এক লেখায় এই শহরটির নাম নিয়েছিলেন। মার্চের শেষে পাকিস্তান বাহিনী চট্টগ্রাম দখলে নেওয়ার চেষ্টায়; তখন আগরতলায় আশ্রয় নিতে রামগড় দিয়ে আগে সাবরুমে পৌঁছেন অনুপম সেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এমন অসংখ্য জন রামগড় দিয়ে সাবরুম পৌঁছেছেন। যে এগারোটি সেক্টর করা হয়েছিল তার মধ্যে সেক্টর-১ এর সদর দপ্তর ছিল সাবরুমের অদূরে হরিণায়।

রামগড় অব্দি পৌঁছাতে অনুপম সেন পাড়ি দেন দুটো নদী; প্রথমে কর্ণফুলী, তারপর হালদা। এরপর একটা ছোট নদী পেরিয়ে সাবরুমে। যারা ওই অঞ্চলে যুদ্ধ করেছেন, অস্ত্র হাতে তাদের না জানি কতবার পারাপার করতে হয়েছে ওই নদীটি। এ নদীর নাম ফেনী।

ফেনী জেলার নামকরণ নিয়ে যে কয়েকটি গাথা আছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে ফেনী নদীর নামেই জেলার পরিচিতি। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেকার আর সব আন্তঃসীমান্ত নদীর চেয়ে ফেনীর গল্পটা একেবারে আলাদা। নদীটি নিজেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্তরেখা। ফেনী নদী ভেবেছিল নিশ্চিত এর দুই পাড়ে বসে দুই দেশের মানুষ একই হাওয়া খাবে। কিন্তু বাস্তবতা তো ভাবনা থেকে আলাদাই হয়। রাজনীতি, ভূখণ্ড, অধিকার এসব যেহেতু অস্বীকার করা যাচ্ছে না, তাই ফেনী নদীর উৎসমুখ কার ভাগে তা আগেভাগে চিহ্নিত করা জরুরি হয়ে ওঠে।

ফেনী কি আন্তঃসীমান্ত নদী? নাকি শুধুই বাংলাদেশের? এর উৎস কি বাংলাদেশ থেকে? নাকি ভারত থেকে বাংলাদেশে বয়ে চলেছে? যুগ যুগ ধরে উত্তরটি স্পষ্ট করে লিপিবদ্ধ না হওয়ায় ফেনীর জলে ভেসে-ডুবে ভিজে একসার প্রশ্নবোধক যতিচিহ্নটি।

নদীর উৎসমুখ নিয়ে প্রচলিত যে তথ্যটি অনলাইন খোঁজের মুখে উঠে আসে তা হচ্ছে- নদীটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পর্বত শ্রেণিতে ২৩°২০´ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১°৪৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

গুগল ম্যাপে এই লং-ল্যাট দিয়ে মিলল ইছাছড়ি নামের এক এলাকা। যদিও ম্যাপ অনুযায়ী, সীমান্তরেখার সাথে মিলেমিশে বয়ে চলা ফেনী নদী ইছাছড়ির আগেই বিশ্রামে গেছে। ভারতের শিলাছড়ির বেশ খানিক পর নদীটি আর এগোয়নি। ইছাছড়ি থেকে ফেনী নদীর এইখান পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো প্রবাহ যোগও নেই। নদীর ওই প্রান্ত বাংলাদেশে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নে পড়েছে।

তাহলে ফেনী নদীর উৎপত্তি হিসেবে অনলাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ওই লং-ল্যাট আদৌ সঠিক তথ্য কি?

ত্রিপুরার প্রধান নদী বলতে তালিকায় যে দশ-এগারোটির নাম আসবে তাতে ফেনী থাকলেও বাকিসব নদী ত্রিপুরার মধ্যে দিয়েই প্রবাহিত; স্থলবেষ্টিত সাবরুম ফেনী নদীর এক পাড়ের শহর; যেখানে অন্য পাড়ে বাংলাদেশ। একটু খুঁজলে জানা যাবে- আচালং, রাঙাপানি ও তাইন্দং থেকে গড়িয়ে এসেছে ফেনীর মূল প্রবাহ। এরমধ্যে আচালংকেই মূল উৎস দাবি করেন অনেকে।

রাঙামাটি সদরে কাপ্তাই হ্রদ বয়ে চলা একটি গ্রাম রাঙাপানি। ওদিকে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির উপজেলা মাটিরাঙ্গার একটি ইউনিয়ন তাইন্দং। এর দক্ষিণে তবলছড়ি ইউনিয়ন। পানছড়ি-তবলছড়ি দিয়ে, নতুবা মাটিরাঙ্গা-তাইন্দং দিয়ে যাওয়া যাবে খাগড়াছড়ির সর্বোচ্চ চূড়া ভগবান টিলায়। তাইন্দং ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত আচালং এলাকার এই ভগবান টিলা থেকে ফেনী নদীর জল গড়িয়ে সীমান্ত বিভাজন করেছে, এমন দাবি বরাবর জানিয়ে আসছে পাহাড়িরাও। দেশীয় অনেকে সরেজমিনে গিয়েও একই বক্তব্য দিয়েছেন।

মানচিত্রে রামগড় থেকে দুই দেশের মাঝে ফেনীর জলসীমান্ত অনুসরণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ অংশে রামগড়ের পর কলসির মুখ গ্রামকে তিনদিকে ঘিরে দারুণ এক বাঁক নিয়ে আবার এগিয়ে চলে এ নদী। এরপর পিলাক বাজারের কাছে এসে সেই দিকে ঢুকে গেছে ফেনীর একটি স্রোত। সম্ভবত এই প্রবাহটিই স্থানীয়ভাবে পিলাক নদী নামে পরিচিত।

এর সামনে এগিয়ে বেলছড়ি ইউনিয়নের দিকে অযোধ্যা মৌজার দিকে ফেনীর একটি শাখাপ্রবাহ এগিয়েছে। এটিই স্থানীয়ভাবে অযোধ্যা নদী নামে পরিচিত। ম ইনামুল হকের বাংলাদেশের নদনদী গ্রন্থে অযোধ্যাকে ফেনীর উপনদী বলা হয়েছে। এখান থেকে প্রবাহটি খেদাছড়া, ধলিয়া পেরিয়ে ঠেকেছে মাটিরাঙ্গায়।

অযোধ্যা পার হয়ে আরো সামনে আরেকটি বাঁক নেওয়া ফেনীর প্রবাহকে গোমতি ইউনিয়নে এসে ছোঁয় একটি চিকন ধারা। গোমতি বাজারের পর মাটিরাঙ্গার দুর্গম এলাকা বামাগোমতি পেরিয়ে ধারাটি আবার দুইদিকে চলে যায়। একটি ধারার বিস্তার তাইন্দং দিয়ে যুগলছড়ি পর্যন্ত। পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের একটি এলাকা যুগলছড়ি। আরেকটি ধারার বিস্তার মাখন তৈসা হয়ে বাদলছড়ায়। এই গ্রামগুলো মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়ন ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়ন সীমানাকে ছুঁয়ে আছে।

ওদিকে জলসীমান্তে আরেকটু এগুলেই তবলছড়ি। এ পর্যন্ত গতিপথ মিলিয়ে দেখলে ফেনী নদীর শুরু এপারে হওয়ার দাবিটিই জোরালো হবে।

দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা থেকে উপরে উঠলে গোমতী জেলা; তার পাশে ধলাই জেলা। ভারতের গবেষকদের কেউ কেউ দাবি করেন, কালাঝারি (অথবা কালাজারি) পাহাড় গড়িয়ে ২৩°২০´ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১°৪৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ফেনীর জন্ম। এই কালাঝারি পাহাড় ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া মহকুমায়।

বলা হয়, কালাঝারি পাহাড় থেকে একটি চিকন ধারা গোমতী জেলার করবুক মহকুমার জলেয়া দিয়ে সেই বারবার উচ্চারিত লং-ল্যাট পেরিয়ে আমলীঘাট (সাবরুমের পরে) পৌঁছেছে।

দক্ষিণ ত্রিপুরার করবুক মহকুমার শিলাছড়ির একটি ব্লক হচ্ছে জলেয়া। আর ওই লং-ল্যাট অনুযায়ী পাওয়া ইছাছড়িও কিন্তু ওই করবুক-জলেয়াতেই; এবং শিলাছড়ির অদূরেই রয়েছে ফেনীর এক প্রান্ত।

বিবিসি বাংলার ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে এক উদ্ধৃতিতে বলা হয়, ‘দেউটামারা’ পাহাড়ের ছড়া হচ্ছে নদীর আসল উৎস। এই পাহাড়ের সঠিক নাম আসলে দেওতামুড়া বা দেবতামুড়া। গোমতী জেলার অমরপুর আর উদয়পুরের মাঝে গোমতী নদীর তীরে বাহু মেলেছে এই পাহাড়। তবে গোমতী জেলার পাহাড়ঘেরা তীর্থমুখ থেকে জলরাশি গড়িয়েই গোমতী নদী। এর সঙ্গে সংযোগ রয়েছে ত্রিপুরার সবচেয়ে বড় সরোবর ডম্বুর হ্রদের। ডম্বুর হ্রদের জন্ম রাইমা ও সাইমা (অথবা সরমা) নদীর মিলনে। গোমতীর দুই উপনদী হওয়ার পরিচয় মিলেছে রাইমা-সাইমার।

গোমতী নদীর মূল প্রবাহ গোমতী জেলার তীর্থমুখ, অমরপুর-উদয়পুরের দেওতামুড়া হয়ে সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া দিয়ে বাংলাদেশের কুমিল্লায় ঢুকেছে। তীর্থমুখ বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষাই। আর এখান থেকে গোমতীর প্রবাহপথের নীচের অংশে পড়ছে করবুক-শিলাছড়ি-জলেয়া ও সেই লং-ল্যাট দিয়ে পাওয়া ইছাছড়ি।

গোমতীর এই প্রবাহপথের উপরের দিকে গেলে ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া এবং কালাঝারি পাহাড়ের রেঞ্জ। তাই গোমতী ও এর দুটি উপনদীকে এড়িয়ে এ পথ দিয়ে ফেনীর উৎসমুখ আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসে। গোমতী নদী তীরের দেওতামুড়া পাহাড়েরও ফেনীর উৎস হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নাকচ করা যায়।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া কয়েকটি চুক্তির মধ্যে আলোচিত চুক্তিটি ফেনী নদী নিয়ে। জেলার নাম জানলেও আগে ফেনী নদীর নাম জানতেন না এমন অনেকেই এখন ফেইসবুকে অক্লান্ত ‘ফেনী…ফেনী’ টাইপ করে চলেছেন। এমনও খুঁজে পাওয়া যাবে যারা ফেনী নদীর আদি ইতিহাস জানেন না, সঙ্কট নিয়ে ধারনা রাখেন না তারাও চুক্তি নিয়ে সমালোচনায় মুখর।

ফণী, ফেনবতী অথবা ফেনী; সাড়ে পাঁচশ বছর আগের রচনাতেও মিলবে নদীটির নাম। ত্রিপুরা, চাকমা, চট্টগ্রামের ইতিহাসের সাথে নদীটির আত্মিক যোগ আছে। একশ বছর আগেও ইংরেজরা কর নিয়েছে ফেনীঘাট থেকে। ৪৭ এর দেশভাগের পরও ফেনীর বুকে ছিল নৌকা আর পাড়ে হাটের ব্যস্ততা। দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছু পর থেকে ফেনী হারাতে শুরু করে নাব্যতা আর অর্থনীতি।

ফেনী নদীর পানি কমে আসছে বলে বাংলাদেশ অংশে ব্যাঘাত ঘটছে কৃষি কাজে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর হয়েছে, ওপারে মাটির নীচে পাইপ বসিয়ে অবৈধভাবেই নদীর পানি তুলে নিচ্ছে ভারত। এই অভিযোগ ৫-৭ বছর ধরে চলে আসছে। প্রায় ৩৬টি পাইপ দিয়ে ৭০-১০০ কিউসেক পানি অবৈধভাবে চলে যাচ্ছে ওপারে। তাহলে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি সাবরুমকে বৈধভাবে দেওয়াতে কেন এখন সমালোচনা?

কিউসেক হচ্ছে পানির প্রবাহ পরিমাপের একক। প্রতি সেকেন্ডে কত ঘনফুট পানি ছাড়া হচ্ছে সেটাই কিউসেক। এক কিউসেক মানে হল ২৮ দশমিক ৩১৭ লিটার পানি। খাবার পানির ১ লিটারের বোতলগুলোর প্রায় ২৯টা বোতলেই ওই পানি হয়ে যায়। অথবা একটি বালতি ১৫ লিটার পানি ধারণ করলে এমন দুই বালতিতে ওই পরিমাণ পানি এঁটে যাবে।ভা

ভারতকে দেওয়া ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি মানে হল ১.৮২x২৮.৩১৭ = ৫১.৫৩৬৯৪ লিটার/সেকেন্ড পানি। এই পানি নিতে বালতি লাগবে মোটে (২X৫১.৫৩৬৯৪)/২৮.৩১৭ = ৩.৬৪টি। অর্থাৎ চার বালতি পানি প্রতি সেকেন্ডে।

সরকারি-বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্ষায় ফেনীতে পানি প্রবাহ থাকে ৮-১০ হাজার কিউসেক। শুকনা মৌসুমে পানি থাকে ৫০ কিউসেক। ভারতের হিসেবে শুকনা মৌসুমে নদীতে পানি থাকে ১০০ কিউসেকের বেশি। আর চুক্তি হয়েছে এর মধ্যে থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি দেওয়ার।

মাত্রাতিরিক্ত আয়রন থাকায় ত্রিপুরায় সুপেয় জলের সঙ্কটটি আজকের নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক নদী ধন্যবাদ তিনি সেখানকার মানুষের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে দিয়ে আদি ত্রিপুরার সাথে ফেনী নদীর সম্পর্ক, মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরা থেকে সহযোগিতা পাওয়াকেও সমাদর করলেন তিনি। আর মোটে ২ কিউসেকের মত পানি দিলে যদি ৭০-১০০ কিউসেক অবৈধ উত্তোলন বন্ধ হয় তো এই চুক্তির মধ্যে দিয়ে ফেনী নদীর স্বার্থ রক্ষা করলেন তিনি।

ফেইসবুক হোক অথবা বিএনপি, ফেনী নদীর পানি চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত গৎবাঁধা ভারত বিরোধীতাই প্রাধান্য পেয়েছে। সরকার এসব অনেক সমালোচনার পাল্টা জবাবও দিয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে সরকারের উচিৎ ফেনী নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের খুব কাছে পৌঁছানো। চুক্তিটা বরং তাদের কাছেই ব্যাখ্যা করতে হবে।

মোটাদাগে ফেনী নদীকে নিয়ে চাওয়াগুলো কী কী?

ক. বাংলাদেশ-ভারত মিলে একটি আনুষ্ঠানিক সরেজমিন পর্যবেক্ষক দল গঠন করে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো ঘুরে দেখে নদীর উৎপত্তি নিয়ে দুই দেশের যে দাবি তার চূড়ান্ত সুরাহা করা।

বড় অক্ষরে শিরোনাম করার মত খবর হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে ঘুরে এসে সংবাদ সম্মেলনে বেশ স্পষ্ট করেই ঘোষণা দিয়েছেন, ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থলটি খাগড়াছড়ি; অর্থ্যাৎ বাংলাদেশেই।

এখন তাই অনলাইন ও দুই দেশের সরকারি তথ্যে ফেনী নদী নিয়ে থাকা তথ্য প্রয়োজনমত সংশোধন, সঠিক ও সুনির্দিষ্ট করাটাই আনুষ্ঠানিক কাজ।

খ. ভারতের অংশে পাম্প দিয়ে অবৈধভাবে পানি উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করা।

গ. নদীর দুই পাশের নো-ম্যানস ল্যান্ডের ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের যে টানাপোড়েন আছে, তা দুই দেশ মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে দূর করা।

ঘ. নদীর উৎপত্তি যে দেশেই হোক, সীমান্তরেখা ধরে এগুলে নদীর জলরাশি কোন দিকে বেশি তা দুই দেশের নথিতে সুনির্দিষ্ট করা।

ঙ. ফেনী নদীকে আগের মত নাব্য করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। প্রয়োজনে দুই দেশ মিলে চুক্তি করে বাজেট ভাগাভাগি করেও এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

চ. এক পাড়ের মানুষ নিজ নিজ মত বাঁধ দিলে নদীর অন্য পাড়ের মানুষ যে ভাঙনের মুখে পড়ে তা ঠেকাতে বিচ্ছিন্নভাবে নয় বরং দুই দেশ মিলেই ফেনী নদীর ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া। কলসির মুখ গ্রামটিকে ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার আগেই একে রক্ষায় কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

ছ. আশংকা রয়েছে ভারত বৈধভাবে প্রায় ২ কিউসেক পানি নিয়ে গেলে মুহুরী সেচ প্রকল্পটি হুমকির মুখে পড়বে। এই আশংকাটি অমূলকই; তবে সরকারকে স্থানীয়ভাবে কথা বলে সেই আস্থা আনতে হবে।

নদীর উৎস যে দেশেই হোক, পানি যেই বেশি পাক, সীমান্তবর্তী ফেনী নদীটি রাজনীতিক টানাপোড়নে মরে গেলে দুই দেশের মানুষেরই ভোগান্তি জুটবে সমান সমান। নদীটির অবস্থানগত কারণে দুই দেশকে মিলেমিশেই ফেরাতে হবে ফেনীর সেই স্রোত, পারাপারের সেই ব্যতিব্যস্ততা, সেই অর্থনীতি।

নদী নিয়ে ক্লিশে রাজনীতিকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং এইসব রাজনীতিতে প্রাধান্য পাক নদী। আর চৈত্রের বারুণী মেলায় দুই পাড়ের মানুষের যে মেলবন্ধন ওই আবেগটুকু মিশে থাকুক ফেনীর জলে।

———————————————–আইরিন সুলতানা