লিপির সাথে ‘ক্রিকেট খেলোয়াড় পিয়া’ আটকে বিস্মিত অনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতারকচক্রের হোতা, কলগার্ল, মাদক ব্যবসায়ী লিপি খাতুন আটক হওয়ার সংবাদে যশোরে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শহরের দড়াটানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যাদের উঠাবসা তারা হবাক হয়েছেন। এই স্থানে যারা লিপিকে ওয়াকিটকিসহ দেখেছেন অনেকে তাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে মনে করতেন। আবার কোনো প্রভাবশালী বলে মনে হতো অনেকের কাছে। শহরের অনেকে তার দুরন্ত চলাফেরা প্রত্যক্ষ করেছেন।
অন্যদিকে তার সঙ্গী মনি আক্তার পিয়া দরিদ্র পরিবারের সন্তান। চাঁচড়া রায়পাড়া বিল্লাল মসজিদ গলির বাবুল খাঁর মেয়ে। তার দুই ভাই ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। পিয়াকে এলাকার লোকজন ভালো মেয়ে হিসেবে চেন। ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসাবে সে পরিচিত। বাইসাইকেল চালিয়ে কোচিং করতে যেতো। আটক হওয়া অপরাধীচক্রের সাথে তার নাম আসায় অনেকে বিস্মিত হয়েছে। ওয়াকিটকিসহ আটক সোহেলের সাথে মিশে পিয়া অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছে এলাকাবাসী।
ওই এলাকার বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, পিয়ার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। পিয়াকে তারা বাইসাইকেল চালিয়ে ক্রিকেট খেলার কোচিং করতে যেতে দেখতেন প্রায়ই। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ক্রিকেট খেলায় অংশও নিয়েছে। আচরণও ছিলো ভালো। কিন্তু পিয়া যে অপরাধ জগতে ঢুকে পড়বে তা তারা ভাবতেও পারেননি।
এলাকাবাসী জানান, পিয়ার সাথে আটক সোহেল রেলবস্তির লিটনের ছেলে। রেলস্টেশনের একটি রেস্তোরাঁর বয় ছিল সোহেল। পিয়ার সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। অনেকের ধারনা, সোহেলের পাল্লায় পড়ে পিয়া অপরাধ জগতে ঢুকে পড়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আটক লিপি খাতুন প্রায় মোটরসাইকেলে করে রেলস্টেশন এলাকার খাবার হোটেলে যেতো। এ সময় থেকে সোহেলের সাথে পরিচয় এবং তার সাথে চলাফেরা করতে দেখেছেন অনেকে। এই সোহেলের মাধ্যমে লিপি খাতুনের সাথে পিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লিপির সাথে মোটরসাইকেলে পিয়াও চলাফেরা করতো বলে অনেকে দেখেছেন।
প্রতারক কলগার্ল লিপি খাতুন শহরতলীর আরবপুর দীঘিরপাড় এলাকার ‘চাঁদের হাসি’ নামে যে ফ্লাটে ভাড়া থাকতো; ওই ফ্লাটে তার সাথে থাকতো মনি আক্তার পিয়া।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, আটক অপর একজন তৌহিদুল ওরফে ওহিদুল রেলবাজার এলাকার বিসমিল্লাহ সেলুনের পেছনের রিকসাচালক সিরাজ মিয়ার ছেলে। সিরাজ মিয়ার অভিযোগ, সোহেলের সাথে তার ছেলের ভালো সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকে তারা এক সাথে চলাফেরা করে থাকে, সোহলের পাল্লায় পড়ে তার ছেলে বিপথে চলে গেছে বলে তিনি মনে করেন। আটককৃতরা এখন জেলহাজতে আছে। আরো তথ্য জানতে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডেরও আবেদন করেছে।
গত বুধবার বিকেলে যশোর জিলা স্কুলের সামনে থেকে লিপি ও পিয়াসহ ৫জনকে আটক করে পুলিশ।