মেননের বক্তব্যে কামাল ‘খুশি’

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সর্বসাম্প্রতিক বক্তব্যকে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অভিযোগের পক্ষে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন।

রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এক বৈঠকের পর সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কামাল বলেন, “দেরিতে হলেও উনি (রাশেদ খান মেনন) এটা করেছেন। আমি খুশি।”

শনিবার নিজের জেলা বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির এক সভায় মেনন বলেন, “আমিও নির্বাচিত হয়েছি। তারপরও আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি পরবর্তীতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেনি দেশের মানুষ।”

বাম দল ওয়ার্কার্স পার্টি গত এক যুগ ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটে রয়েছে। জোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে গত তিনটি নির্বাচনে বিজয়ী হন মেনন। এক দফায় মন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

মেননের এই বক্তব্য প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার কারণে মেনন নির্বাচন নিয়ে এই ধরনের কথা বলতে পারেন।

তবে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যায় ওয়ার্কার্স পার্টি এক বিবৃতিতে বলেছে, মেননের বক্তব্যের অংশ বিশেষ প্রকাশ করায় ‘ভুল বার্তা’ যাচ্ছে সবার কাছে।

গত নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি: মেনন

মন্ত্রী হলে কি মেনন এ কথা বলতেন: কাদের

সমালোচনার মুখে মেননের ব্যাখ্যা

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট; তারা ফল বর্জন করে পুনর্নির্বাচনের দাবিও তোলে।

মেননের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা কামাল আরও বলেন, “আমি তো এই কথাটি বার বার বলে যাচ্ছি যে, আপনারা কেউ কি৩০ ডিসেম্বর ভোট দিয়েছিলেন? আমি এই পর্যন্ত একজনের কাছ থেকে পাইনি যে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছেন।

“এখন উনিও (রাশেদ খান মেনন) কনফার্ম করলেন। এজন্য আমি উনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

মতিঝিলে কামালের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির এই বৈঠকে আগামী ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফ্রন্টের নাগরিক শোক সমাবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, “আমরা আগামী ২২ তারিখে আবরার হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা নাগরিক শোক সমাবেশ করব। আজকে পর্যন্ত আমরা অনুমতি পাইনি। সরকার বিভিন্ন রকমের গাফিলতি করছে, এখন পর্যন্ত পরিষ্কার তারা কিছু বলছে না।

“এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখব, তারা কী করতে চায়। সরকার যদি আমাদের নাগরিক অধিকার না দেয়, মৌলিক অধিকার না দেয়, তার বিরুদ্ধে ১৭ কোটি মানুষ বাধ্য হবে তার নাগরিক অধিকার আদায় করার জন্য।”

সমাবেশের বিষয়ে কামাল বলেন, “আমরা দাবি জানাচ্ছি, সংবিধানে মৌলিক অধিকারের যে চ্যাপ্টার আছে, এসবের বরাত দিয়ে সরকারকে বলছি, সংবিধান মানুন।”

মেননের বক্তব্য নিয়ে রব বলেন, “আজকে সরকারি জোটের একজন নেতা বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো জনগণ ভোট দিতে পারে নাই, আমি সাক্ষ্য দেব। উনার সাথে সাথে বলা আছে যে, উনি মাসে ১০ লক্ষ টাকা করে পেতেন এবং নির্বাচনের সময়ে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন।

“আমরা বলতে চাই, আরও রাঘাব বোয়াল আছে, ওদের নাম প্রকাশ করেন। চুনোপুঁটি ধরতেছেন, ওয়ার্ড কমিশনার ধরতেছেন, বড় বড় রাঘাব বোয়াল কোথায়? যুবলীগের ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেছেন, আমি একা কেন, বাকিরা কোথায়?”

ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জহির উদ্দিন স্বপন, জেএসডির তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, মোশতাক হোসেন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, মমিনুল ইসলাম, বিকল্প ধারা নুরুল আমিন বেপারী, গণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।