যশোরে কলেজছাত্র খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরে সোহানুর রহমান সোহাগ (২০) নামে এক কলেজছাত্র খুন হয়েছেন। শহরের মোল্লাপাড়া মালোপাড়ায় ভৈরব নদের পাড় থেকে গলাকাটা লাশ সোমবার দুপুরে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি হামিদপুর আল হেরা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং মালোপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।
নিহতের মা কোহিনুর বেগম জানিয়েছেন, গত রোববার রাত ১১ টার পর একই এলাকার সিরাজুল ইসলাম সিরার ছেলে জিতু, মৃত খায়রুলের ছেলে রায়হানসহ বেশ কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন দুইটি বন্ধ ছিল। সোমবার বেলা ১১টার দিকে নদীর পাড়ে ঘাস কাটতে গিয়ে নীলা রায় নামে এক নারী লাশের সন্ধান পান। তিনি দেখতে পান, একজনের পা ওপরের দিকে দিয়ে শুয়ে আছে। তারপর তিনি ঘটনাটি আশপাশের লোকজনকে জানালে লাশের সন্ধান পায় লোকজন। পরে পুলিশে সংবাদ দেয়া হয়। পুলিশ নদের পাড়ে রোপন করা বড় ঘাস বনের মধ্যে থেকে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের পিতা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি শ্যামলী পরিবহনের চালক। তার বড় ছেলেও ড্রাইভার। সোহাগ সঙ্গদোষে খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ইয়াবা সেবন করতো বলে শুনেছি। তাকে ভাল করার জন্য সেফ কস্টোডিতে (নিরাপদ হেফাজত) রাখার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু চারমাস পর পরীক্ষা বলে নিরাপদ হেফাজতে দেয়া হয়নি। সোমবার সকালে তার লাশ পড়ে থাকতে শুনে সেখানে গিয়ে ছেলের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে সোহাগ ছোট।
তিনি আরো জানিয়েছেন, সোহাগের কাছে দুইটি মোবাইল ফোনসেট ছিল। সেই দুইটি পাওয়া যায়নি। মোবাইল দুইটি উদ্ধার করতে পারলে খুনিদের সনাক্ত করা যাবে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই এলাকার সিরাজুল ইসলাম সিরার দুই ছেলে সেতু ও জিতু চিহ্নিত সন্ত্রাসী। মাদক কেনাবেচা থেকে শুরু করে ছিনতাই চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে যুক্ত। চলতি বছরের ১৪ জুই সন্ধ্যার দিকে বারান্দীপাড়া বিসিএমসির গলির ভেতরে বোমা তৈরিকালে বিস্ফোরণে জখম হয় জিতু। সে সময় থেকে সে কারাগারে আটক ছিল। ৪/৫দিন আগে সে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সোহাগ হত্যার পেছনে তার হাতে থাকতে পারে। এছাড়া গত শনিবার রাতে মোল্লাপাড়া আমতলা মোড়ে সিরাজুল ইসলাম সিরার সাথে বিরোধ নিয়ে একটি জটলা তৈরি হয়। কিন্তু কার সাথে বিরোধ তা জানাতে পরেনি সূত্রটি। ওই ঘটনায় সোহাগ হত্যার পেছনে দায়ী হতে পারে।
কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন রয়েছে। পেটে ও বুকে একাধিক আঘাতের ক্ষত রয়েছে। সুরতহাল তৈরি হয়েছে লাশের।
ওসি মনিরুজ্জামান আরো জানান, ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। কারা কি কারণে তাকে হত্যা করেছে তা উদঘাটনের জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে সন্দিগ্ধদের আটকের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।