নিরাপদ সড়ক দিবসে যশোরে ঝরে গেলো ২ প্রাণ

বিল্লাল হোসেন:
মঙ্গলবার ছিলো নিরাপদ সড়ক চাই দিবস। ‘জীবনের আগে জীবিকা নয়, সড়ক দুর্ঘটনা আর নয়’ প্রতিপাদ্যে সকাল ৯টায় যশোরে পালিত হচ্ছিলো কর্মসূচি। ঠিক সেই সময় ট্রাক চাপায় নিহত স্কুলছাত্র মহিদুল ইসলাম লিওনের (১৩) মৃতদেহ পড়েছিলো মহাসড়কের উপর। যশোর কৃষি উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের সামনের এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। তার ছিন্ন ভিন্ন দেহ ও রক্তের ছাপ দেখে পথচারিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে একজন রমিজ উদ্দিন নামে এক পথচারী বলেই ফেলেন নিরাপদ সড়কতো চাই, কিন্তু পাবো কবে। এদিকে মেধাবী লিওনের মৃত্যুতে তার পিতা-মাতার স্বপ্ন ভেঙেছে। এদিন দুপুরে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া বাজারে মোটরসাইকলে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান যুবক মাসুদুর রহমান (৩৭)। এই ঘটনায় আহত মামুন রাজার (২২) অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেছেন চিকিৎসক।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্কুল ড্রেস গায়ে শিশু লিওন বাইসাইকেল চালিয়ে আসছিলো। এসময় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। সাইকেলসহ ওই শিশু ট্রাকের নিচে চলে যাওয়ার পরও থামেনি চালক। কিছু দুর যাওয়ার পর ট্রাক ফেলে চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, লিওন যশোর দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাইসাইকেল চালিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলো। ৯টার দিকে জানতে পারি সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত লিওন পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার হুগলা গ্রামের সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মাহাবুবুর রহমানের ছেলে। মাহবুবুর রহমান চিটাগাং ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত। আর তার মা লুৎফুন্নাহার ছেলেকে নিয়ে যশোর আরবপুর পাওয়ার হাউজ এলাকার সালাউদ্দিনে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। লিওনের পিতা হাসপাতাল মর্গের সামনে সাংবাদিকদের জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি তিন দিন আগে ছুটিতে এসেছি। স্কুলে যাওয়ার সময় লিওন আমাদের সাথে কথা বলে গেলো। মুহুর্তেই আমার মেধাবী ছেলেটা লাশ হলো। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো। স্বপ্নগুলো ভেঙে গেলো বলতে বলতে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। হাসপাতাল মর্গে দায়িত্বরত কোতোয়ালি থানার এসআই মনিরুজ্জামান জানান, ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলে মারা যায় লিওন। তার ব্যবহৃত বাইসাইকেলটিও দুমড়ে মুচড়ে গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মরদেহ উদ্ধার করে আনে । তার মুত্যু নিয়ে পরিবারের কারো কোনো অভিযোগ নেই। যে কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মৃতদেহ পিতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে আটক করা যায়নি। এদিকে, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে বসুন্দিয়া বাজারে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত মাসুদুর রহমান অভয়নগর উপজেলার মাগুরা গ্রামের বরকত উল্লাহর ছেলে। আহত মামুন রেজার বাড়ি যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কেফায়েতনগর গ্রামে। তার বাবার নাম হোসেন আলী। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান লর্ড জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পর মারা যান মাসুদুর রহমান। আহত রানার অবস্থাও আশংকাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের দুইজনের মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সঞ্জিত কুমার জানান, মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করা হয়েছে।