যশোরে কাটাছেঁড়া ও ব্যথামুক্ত প্রসব সেবা শুরু করলো আদ্-দ্বীন

বিল্লাল হোসেন:
কাটাছেঁড়া ও ব্যথামুক্ত প্রসব সেবা শুরু করলো যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। আর এই চিকিৎসাসেবার নাম হলো ইপিডুরাল পদ্ধতিতে নরমাল ডেলিভারী। বৃহস্পতিবার এই পদ্ধতিতে সালমা খাতুনের (৩৫) মেয়ে সন্তান হয়েছে। রাজধানীর বাইরে ইপিডুরাল পদ্ধতিতে সন্তান প্রসব এটিই প্রথম। সালমা খাতুন যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের শরাফত আলীর স্ত্রী। সামান্য খরচে ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারী হওয়ায় সালমার পরিবার অনেক খুশি।
জানা গেছ, ইপিডুরাল পদ্ধতি হলো প্রসবের আগে প্রসূতির শরীরে বিশেষ ব্যবস্থায় বেদনানাশক দেওয়া হয়। বেদনানাশকের প্রভাবে প্রসূতি সন্তান প্রসবের সময় কোনো ব্যথা অনুভব করেন না। আবার শরীর অবশ হয় না। প্রসূতি প্রয়োজনে হাঁটাহাটি করতে পারবেন ও স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। এছাড়া প্রসবের পরপরই নবজাতককে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোতেও সমস্যা হয় না।
আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ম্যানেজার শাহিনা জানান, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের চেয়ে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবে সব সময় গুরুত্ব দেন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তাদের সর্বদা পরিকল্পনা উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের। এরই ধারাবাহিকতায় এখানে ইপিডুরাল পদ্ধতিতে নরমাল ডেলিভারী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন থেকে মাত্র ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে কাটাছেঁড়া ও ব্যথামুক্ত সন্তান প্রসব করতে পারবেন রোগীরা।
যশোরে ইপিডুরাল পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবকারী সালমা খাতুন জানান, সন্তান প্রসবের সময় যতই এগিয়ে আসছিলো তিনি ততো বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিলেন। চিন্তায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলেন না তিনি। ভয় পাচ্ছিলেন কখন জানি কি হয়। কিন্তু ইপিডুরাল পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবে তিনি কোনো ব্যথা পাননি। এখন তিনি স্বাভাবিক ও সুস্থ আছেন। মনেই হচ্ছে না কিছু সময় আগে তার সন্তান প্রসব হয়েছে। তার স্বামী শরাফত আলী জানান, গত ২০ অক্টোবর স্ত্রী সালমা খাতুনকে এখানে ভর্তি করেছিলাম। তারপর থেকে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। নরমাল ডেলিভাঈ হবে না সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করতে হবে এমনটা ভেবে সময় কাটছিলো তার। কিন্তু তিনি দুশ্চিন্তামুক্ত। ইপিডুরাল পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবে তার পরিবার অনেক খুশি। সেই সাথে অদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও সেবিকাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শীলা পোদ্দার জানান, ইপিডুরাল এক ধরনের স্বাভাবিক প্রসব। এতে সব কিছুই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রেখেই সন্তান প্রসব করানো হয়। কোনো সিজার বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। বৃহস্পতিবার প্রসূতি সালমা খাতুনের ইপিডুরাল পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের সময় তিনি সর্বক্ষণ সেখানে ছিলেন। আমার সঙ্গে ছিলেন এ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক শিব প্রসাদ সাহা, সেবিকা শহরবানু ও ফেরদৌসি খাতুন। সবাই মিলে রোগীকে মনিটরিং করেছি। বাচ্চার হার্টবিট, মায়ের জরায়ুর অবস্থা, জরায়ুর মুখ কেমন খুলে গেল ইত্যাদি দেখা হয়। এছাড়া ইপিডুরাল দেয়ার ফলে মায়ের ব্লাড প্রেসারসহ অন্যান্য সব দিক ঠিক আছে কিনা সেদিকেও নজর রাখতে হয়। এখানে তিনি এই পদ্ধতিতে প্রথম সন্তান প্রসব করালেন। তিনি আরো বলেন ব্যথামুক্ত ডেলিভারী মাকে দুশ্চিন্তা ও অবসাদ মুক্ত করে একটি সুস্থ শিশু উপহার দেবে।