কপিলমুনিতে মাদক সেবনে বাধার জের ভাইপোর হাতে ফুফু লাঞ্ছিত, ভাঙচুর

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনার কপিলমুনিতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জের ধরে আপন ফুফুকে বেধড়ক পিটিয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ভেঙে দিয়েছে সুশান্ত দাশ নামের এক মাদকসেবী। এ সময় সে দলবল নিয়ে ফুফু পপি রানী দাশের বসত ঘরে ঢুকে এলইডি টেলিভিশন, শোকেস, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তারা। গত ২৩ অক্টোবর দুপুর ২টায় সুশান্ত দাশসহ অন্যরা কপিলমুনি বাজারের নাছিরপুর গ্রামে মৃত নিয়াম উদ্দিনের বাড়িতে ঢুকে ভাড়াটিয়া ফুফুর বসত ঘরে এ ঘটনা ঘটায় তারা। সুশান্ত কপিলমুনি বাজারের ডিস ব্যবসায়ী মৃত উজ্জ্বল দাশের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২৩ অক্টোবর দুপুর ২টায় সুশান্ত’র নেতৃত্বে স্থানীয় রোস্তম সরদার, মান্দার বিশ্বাস আচমকা ডিস লাইনের সংযোগ বিচ্ছন্ন করতে যায়। এ সময় ফুফু পপি রানী দাশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণ জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ফুফুর উপর চড়াও হয়ে মারতে উদ্যাত হয় ভাইপো সুশান্ত। এ সময় রোস্তমের নির্দেশে সুশান্ত তার ফুফুকে মারধরসহ বসত ঘরে ঢুকে এলইডি টেলিভিশন, শোকেজসহ মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ফুফা দিলিপ কুমার দাশ বাড়িতে গিয়ে দেখে তান্ডব চালিয়েছে তারা। এ সময় প্রতিবাদ করলে তাকেও মারপিট করে ফোলাজখম করে সুশান্ত গং।
জানাগেছে, ব্যবসায়ীক সুবাদে ফুফা দিলিপ দাশ ১৭/১৮বছর পূর্বে কপিলমুনি বাজারের পাশে নাছিরপুর গ্রামে নিয়াম উদ্দিনের ভাড়া বাড়িতে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছেন। এবং কপিলমুনি বাজারে ওয়ার্কশপ ব্যবসা করেন তিনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস ও পারস্পারিক সম্পর্কে এমন তান্ডব ও বিরোধের প্রাথমিক কারণ হিসাবে দিলিপ জানান, তার শ্যালক ডিস ব্যবসায়ী উজ্জ্বলের মৃত্যুর পর থেকে ছেলে সুশান্ত বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অসৎ সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে সুশান্ত। এমতাবস্থায় সামাজিক সম্মান ও সম্পর্কের খাতিরে তারই মঙ্গলের জন্য আমরা এ বিষয়ে তাকে বোঝানোসহ প্রতিবাদ করি। যেটা সুশান্ত মেনে নেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় এমন ঘটনা ঘটালো সে। দিলিপ আরোও জানান, আপন ফুফুকে মারধর ও বসত ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করে এমন ক্ষতি করবে তা কখনও ভাবতেও পারিনি। এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানায় এজাহার জমা দিয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী দিলীপ ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই প্রবাস মিত্র বলেন, ‘দিলিপ সুশান্ত নামে থানায় এজাহার দিয়েছেন, ওসি স্যার আমার উপর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি দু-এক দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট থানায় পাঠাবো।’