জয়নাল হাজারী আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদে

✍নিজস্ব প্রতিবেদক :  আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে দলটির ফেনীর এক সময়কার নেতা জয়নাল আবেদীন হাজারীকে।

বিতর্কিত সাবেক এই সংসদ সদস্যকে উপদেষ্টা পরিষদে আনা হচ্ছে বলে সম্প্রতি খবর চাউর হলেও ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষ থেকে কিছু বলা হচ্ছিল না।

সোমবার ঢাকার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে হাজারীর হাতে উপদেষ্টা হিসেবে তাকে মনোনীত করার চিঠি তুলে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, “প্রবীণ নেতা জয়নাল হাজারী নিজের হাতে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদে মনোনীত হওয়ার চিঠি গ্রহণ করেন।”

কাদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, “আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে দেওয়া ক্ষমতা বলে আপনাকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। আশা করি, আপনার শ্রম, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সংগঠনে নতুন গতিবেগ সঞ্চারিত করতে সহায়তা করবেন।”

জয়নাল হাজারীকে নিয়ে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদে সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়াল। এই পরিষদে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদের মতো বর্ষীয়ান নেতারা রয়েছেন।

বর্তমানে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হাজারীকে চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি ৪০ লাখ টাকা অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই টাকা নিতে এ মাসের শুরুতে গণভবনে গিয়েছিলেন তিনি।

জয়নাল হাজারী ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফেনী-২ (সদর) আসনে তিনি ১৯৯৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন।

১৯৯৬-০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাজারীর বিরুদ্ধে ফেনীতে বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর অভিযোগ ওঠেছিল, যা ছিল সারাদেশে আলোচিত।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশ ছেড়েছিলেন হাজারী। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ২০০৪ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়।

আট বছর দেশের বাইরে থাকার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে হাজারীও দেশে ফেরেন। তবে ফেনীতে তার সেই ‘রাজত্ব’ আর ফিরে পাননি তিনি। তার ওই নির্বাচনী আসনটি এখন নিজাম হাজারীর দখলে, তিনিও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এদিকে সব মামলা থেকে খালাস পেলেও অনেকটা নিভৃতেই থাকছেন জয়নাল হাজারী; সাপ্তাহিক হাজারিকা নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনাও করছেন তিনি।