বেনাপোলে বিতর্কিত সিটি আবাসিক হোটেল মালিক মোমিনসহ দুইজন আটক, ৬৯টি সোনার বার জব্দ

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল:
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে বহুল বিতর্কিত সিটি আবাসিক হোটেল মালিক মোমিন চৌধুরীকে (৬০) আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা । এছাড়া নুরুল ইসলাম (৩৩) নামে অপর এক সোনা চোরাকারবারীকে আটক করে তারা । তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৬৯টি সোনার বার। বৃহস্পতিবার সকালে আলাদা অভিযানের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্তের বেলতলা নামক স্থান থেকে ৩.৮২ কেজি ওজনের ৪৯ টি সহ মোমিন চৌধুরীকে এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট হতে ২.৩২৯ কেজি ওজনের ২০ টি সোনার বারসহ নুরুল ইসলামকে আটক করেন ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বিশেষ দল।
আটককৃত মোমিন চৌধুরী বেনাপোল পোর্ট থানার সাদিপুর গ্রামের মৃত হাসু চৌধুরীর ছেলে ও চেকপোস্টে অবস্থিত বিতর্কিত সিটি আবাসিক হোটেলের মালিক এবং নুরুল ইসলাম বেনাপোল পোর্ট থানার পোড়াবাড়ী নারায়নপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘকাল যাবৎ বেনাপোলের সাদিপুর গ্রামের মোমিন চৌধুরী ও তার সহোদর বেলাল চৌধুরীসহ মোমিন চৌধুরীর ভাইরা একই গ্রামের বহুলালোচিত গোল্ড স¤্রাট জনা মিলে এ সোনার কারবার করে কোটিপতি বনে গেছেন। ৪৯টি সোনার বারের এ চালান আটকের পূর্বেও বেনাপোলের কাগজপুকুর মোড় থেকে ৫১পিস সোনার বারসহ আটক হয়েছিল মোমিন চৌধুরী। যার ৩৬ পিসের মামলা হলে তৎকালীন পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাইয়ুম আলী সরদার বাকি সোনার বার আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলায় জড়িয়ে যান।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ হুন্ডি, মাদক, চেরাচালান ও সোনা আটকের নিমিত্তে বিজিবি’র বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতাসহ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যার ফলে বিজিবির চৌকস দল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে নায়েক নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে সাদিপুর বেলতলা মোড় পাকা রাস্তার উপর হতে সন্দেহজনক বাইসাইকেল চালক মোমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে তল্লাশী করে তার পরিহিত লুঙ্গির সাথে কোমরে পেচানো অবস্থায় রাখা ৩.৮২ কেজি ওজনের ৪৯ টি সোনার বার উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৯১ লাখ টাকা।
একইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আরআইবি তথ্যের ভিত্তিতে আমড়াখালী চেকপোস্টে কর্মরত হাবিলদার আশেক আলীর নেতৃত্বে একটি তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আমড়াখালী চেকপোস্টের সামনে যশোর হতে বেনাপোলগামী একটি লোকাল বাসের ভিতর নুরুল ইসলামের দেহ তল্লাশী করে ২.৩২৯ কেজি ওজনের ২০ টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি ১৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
আটককৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই সোনা ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। এছাড়া উদ্ধারকৃত সোনার বার ও আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি সদস্যরা দুই সোনা চোরাকারবারীকে থানায় হস্তান্তর করেছে। শুক্রবার সকালে তাদেরকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হবে।