আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকে ……… শেখ আফিল উদ্দিন এমপি

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল:
যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। সেদিন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলে মিলে যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করেছি। তাই এই দেশ আমাদের সকলের। এখানে ধর্ম যার যার দেশ সবার। এই চেতনা নিয়েই স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ শার্শা উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ শার্শা উপজেলা শাখার আহবায়ক দিলীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি আরো বলেন একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র্র নির্মাণের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন। যা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করেছেন। মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে এদেশের মুসলিমদের সাথে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সবাই ভালো থাকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকে। তাই ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বারবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ শার্শা উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও নব-নির্বাচিত সভাপতি জয়দেব কুমার সিংহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন আরো বলেন, এদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়ন দেখেছেন। দেখেছেন জামায়াত-বিএনপিসহ অন্যান্য দলের শাসনামল। বঙ্গবন্ধু এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য দল এদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টানদেরকে কেবল সংখ্যালঘু ভেবে তাদের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের তান্ডবলীলা এদেশের মানুষ দেখেছেন। দেখেছেন দেশটাকে তারা কিভাবে লুটেপুটে খেয়েছিল। সার, তেল, বিদ্যুতের অভাবে আমাদের চাষীরা মাঠের ফলন ভালো পেতোনা। সিন্ডিকেট তৈরি করে তারা ডিলারের মাধ্যমে সার, তেল বিক্রি করেছে। করেছে কারেন্টের খাম্বার রাজনীতি। সেখানে একমাত্র আওয়ামী লীগ দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে সার আর তেলকে করেছেন মানুষের নাগালের মধ্যে। যা আজ কৃষকের বাড়ি বাড়ি দৌড়াচ্ছে। এনেছেন বিদ্যুতায়নের প্রায় শতভাগ পরিবর্তন। এখন সার আর তেলের জন্য বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলের মতো গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছেনা আমাদের চাষীদের। বিদ্যুতের অভাবে ক্ষেতের ফসল মার যাচ্ছেনা। পূর্বের সেই এক বিঘা জমিতে যেখানে ১০-১৫ মনের ফসল হতো এখন সেখানে বেড়ে হয়েছে ৩০ মন।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান অহিদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি মন্ডলীর সদস্য রবিনসন আর বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষাল, কোষাধ্যক্ষ যোগেশ পাল, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ-উদ-দৌলা অলোক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শার্শা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার।
পরে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ যশোর জেলা শাখার নেতৃত্বে জয়দেব সিংহকে সভাপতি ও উত্তম রায়কে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট শার্শা উপজেলা শাখার নব-গঠিত কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।
এসময় কমিটির নব-নির্বাচিত সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সংগঠনের সদস্যরা।
নব-নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যরা হলেন সভাপতি মন্ডলী বিকাশ আইচ, দিলীপ রায়, সলমন দাস, সুবোল বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব কান্তি বিশ্বাষ, প্রসাদ কুমার খা, মিলন দে, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু লাল বিশ্বাষ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বিকাশ দেবনাথ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাষ, দপ্তর সম্পাদক দিলীপ বিশ্বাষ, সহ দপ্তর সম্পাদক শ্যামল রায়, প্রচার সম্পাদক সুমন রায়, সহ প্রচার সম্পাদক পূর্ণ চন্দ্র দেবনাথ, গণসংযোগ সম্পাদক সাধন গোস্বামী, মিথিল চন্দ্র সিংহ, যুব বিষয়ক সম্পাদক সুকুমার দাস, সমীর রায়, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক জয়দেব বিশ্বাস, সুমন কুমার ভোলা, আইন বিষয়ক সম্পাদক প্রসেনজিৎ দাস প্রমুখ।