মণিরাপুরের ৫ লাখ মানুষের সেবায় ৫ চিকিৎসক

আব্দুল মতিন, মণিরামপুর :
মণিরামপুর উপজেলার ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৫ চিকিৎসক। চিকিৎসকসহ নানা সংকটে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
৮ বছর আগে মণিরামপুর হাসপাতাল ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু কাগজে কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও চিকিৎসার সেবার কোনো উন্নতি ঘটেনি। গত বুধবার উপজেলার গোপিকান্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাথীকে পেট ব্যাথা জনিত কারণে হাসপাতালে আনেন তার পিতা-মাতা। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, এখানে সম্ভব নয়, সদরে নিয়ে যান। হত-দরিদ্র এ পরিবারটি ক্ষোভের সাথে বলেন যেখানে পেটের ব্যাথার চিকিৎসা নেই সেটাকে হাসপাতাল বলা যায় না।
সাথীর মত অনেক সংকটাপন্ন রোগী হাসপাতালে আসলেই চিকিৎসা না দিয়েই পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে জেলা সদরে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, এ্যানেসথেসিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও গ্রাফার), প্যাথলজিস্ট, সহকারী সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালটিতে ৩৮ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৫ জন কর্মরত রয়েছেন। এরপরে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদেও রয়েছে সংকট। এক্স-রে মেশিনটাও সচল নেই দীর্ঘদিন ধরে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের এমটি মেডিকেল আনিসুর রহমান সপ্তাহে ৩ দিন এবং ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত অ্যানেসথেসিস্ট ডাঃ সুচিন্ত দত্ত সপ্তাহে ২ দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।
উপজেলা হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা ডাঃ শুভ্রারানী দেবনাথ জানান, যতুদূর সম্ভব চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ৩৯ তম বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগকৃতদের পদায়ন হলে এর সংকট দূর হবে।