তরিকুল ইসলাম শুধু যশোরের নেতা না, দেশের রাজনৈতিক আইডল ছিলেন : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সরকারকে বিদায় করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের সময় এসেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। আর এই আন্দোলন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
 সোমবার বিকেলে যশোর জেলা পরিষদ (বিডি) মিলনায়তনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই রাজনীতিকে যদি সঠিক পথে নিতে পারি, আমরা যদি আরও বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করতে পারি তাহলে অবশ্যই বিজয় আমাদের আসবেই আসবেই। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলীয়করণ, বিচার ব্যবস্থাকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যার ফলে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রটাই ভেঙে পড়েছে। সরকার কতটা দুর্বল হয়ে গেছে। তা বোঝা যায় এই দেশে সঠিক আইনের ব্যবহার নেই। দেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা নেই।
তরিকুল ইসলামকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তরিকুল ইসলাম শুধু যশোরের নেতা ছিলেন না। বিএনপির অভিভাবক এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক আইডল ছিলেন। দলের দুঃসময়ে মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়েছি। এসময়ে একে একে দলের পরীক্ষিত নেতা হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম ও সাদেক হোসেন খোকাসহ বেশ কিছু সিনিয়র নেতাকে হারিয়েছি। এদের রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করতে হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শাহাজাহান, শামছুজ্জামান দুলু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, মেহেদী হাসান রুমী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান প্রমুখ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে বেলা ১২টায় তরিকুল ইসলামের করব জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। এছাড়া কবরস্থানের পাশেই কারবালার মাঠে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে পবিত্র কোরআন শরীফ বিতরণ করা হয়। কোরআন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্মসূচি শুরু করেন। জেলা যুবদল ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।