যশোরে অ্যাড. আমির হোসেনকে আসামি করে স্ত্রী সোনিয়া হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে গৃহবধূ সোনিয়া খাতুনকে হত্যার অভিযোগে স্বামী অ্যাড. আমির হোসেনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলাটি করেছেন নিহত সোনিয়া খাতুনের পিতা সিরাজুল ইসলাম।
সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ডহেরপাড়া গ্রামের বিশ্বাসপাড়ার মৃত হাবিব মুন্সীর ছেলে আমির হোসেনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুনের লাশ গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঘরের ভেতর পাওয়া যায়। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় তার এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাকে খুন করা হয়েছে বলে পিতা অভিযোগ করেন।
সোনিয়া খাতুনের চাচা লেবুতলা গ্রামের বাসিন্দা গালিব হাসান ও একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের নারী মেম্বার রোমিছা খাতুনের অভিযোগ, তাকে মারধরের পর গলাটিপে হত্যা করেছেন আমির হোসেন। শুধু তাই নয়, আমির হোসেনের পক্ষে কাশিমপুর ইউনিয়নের নারী মেম্বর কাজল রেখা গত রোববার দুপুরে হাসপাতালে এসে সোনিয়ার স্বজনদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালালে জনরোষে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন। এতে সবার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয় আমির হোসেন তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া খাতুনের লাশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার স্বামী আমির হোসেন দেখতে আসেননি। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপণ রয়েছেন। বহুল বিতর্কিত আইনজীবী আমির হোসেন স্ত্রী হত্যার দায় থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য নানাভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিহতের মামা আব্দুস সাত্তার ও চাচা গালিব হোসেন জানান, বিয়ের কয়েকদিন পরেই সোনিয়া জানতে পারে আমির হোসেনের চরিত্র ভালো না। একাধিক নারীর সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। লাম্পট্য জীবন থেকে বেরিয়ে আসার কথা বললেই আমির ক্ষুব্ধ হয়ে তার স্ত্রীকে মারপিট করতেন। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হলো। আমির এরআগে এক পতিতা সর্দারণীকে বিয়ে করে নির্যাতন চালায়। তার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়েও নেয়। ওই সর্দারণীর টাকায় আমির গ্রামে দোতলা বাড়ি করে এসি লাগিয়েছেন। এ ভবনের একটি কক্ষে তিনি বিভিন্ন নারী এনে ফূর্তি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সর্দারণী অ্যাড. আমিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠায়। এঘটনায় আইনজীবী সমিতি থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়।
কোতয়ালি থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, তারা আমির হোসেনকে আটকের জন্য চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে সোনিয়া খাতুনের পিতা সিরাজুল ইসলাম গত রোববার রাতে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তার মেয়ের কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন আমির হোসেন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে তার মেয়েকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আমির হোসেন। পরে এই হত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে লাশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়।