পেঁয়াজ ‘সিন্ডিকেটের’ দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক : পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজি ও মজুদদারির অভিযোগে চট্টগ্রামের রেয়াজ উদ্দিন বাজারের দুই ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভয় দেখিয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি, চিহ্নিত ১৬

২-৩ দিনে কমবে পেঁয়াজের দাম, বললেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা

মঙ্গলবার বিকেলে রেয়াজ উদ্দিন বাজারের ঘোষাল কোয়ার্টার এলাকার জে এস ট্রেডার্সের মালিক মিনহাজুদ্দিন বাপ্পি (২৮) এবং এ হোসেন ব্রাদার্সের মালিক আবুল হোসেনকে (৫৫) এই দণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. সেলিম হোসেন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম  বলেন, ওই দুই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে বার্মিজ প্রসাধন সামগ্রী রাখা।

“এরপর দোকান দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে এ হোসেন ব্রাদার্সে গত অক্টোবরে খাতুনগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি সংক্রান্ত কাগজপত্রের সন্ধান পাই।”

এর আগে রবি ও সোমবার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের কয়েকজন পেঁয়াজ আমদানিকারকের সন্ধান পায় জেলা প্রশাসন। যে আমদানিকারকরা পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজিতে জড়িত। সেই তালিকায় এই দুই প্রতিষ্ঠানের নামও ছিল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন খাতুনগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা ইনভয়েস ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ডকুমেন্ট অনুসারে এ হোসেন ব্রাদার্স ও জে এস ট্রেডার্স চলতি মাসের ২ ও ৩ তারিখ টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করেছে।

“কিন্তু তারা এসব পেঁয়াজ কোন আড়তদার বা কমিশন এজেন্টের কাছে বিক্রি করেছে সে সংক্রান্ত কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক মজুদদারি ‍ও মূল্যে কারসাজির বিষয়টি স্বীকার করেন।”

অভিযান শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. সেলিম হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, অসাধু পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে এ অভিযান দেশব্যাপী অব্যাহত থাকবে।

এ সময় দণ্ডিত দুই ব্যবসায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার হাজী ফয়েজ, বার্মা কামাল ও সৈয়দ করিম নামের তিন ব্যক্তির নাম বলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম  বলেন, “মূলত মিয়ানমারের লোকজনের সাথে যোগাযোগের সূত্রে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক পেঁয়াজ আমদানি করেন এবং খাতুনগঞ্জে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাড়তি দামে বিক্রি করতেন।

“পেঁয়াজ যেহেতু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য তাই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬ এর বিধান অনুসারে পেঁয়াজের ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আমদানির কাগজপত্র, বিক্রি রশিদ, রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। দামে কারসাজি এবং কাগজপত্র ছাড়া কালোবাজারির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করায় এই আইনে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।”

গত দুই দিন খাতুনগঞ্জে অভিযানে পেঁয়াজের বাজারে ভয় দেখিয়ে দাম বাড়ানোর সাথে জড়িত কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের যে ১৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে তার মধ্যে এই দুই প্রতিষ্ঠান ছিল।

এছাড়াও চট্টগ্রামের অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হল- খাতুনগঞ্জের মেসার্স আজমীর ভাণ্ডার ও আল্লাহর দান স্টোর এবং নুপুর মার্কেটের মেসার্স সৌরভ এন্টারপ্রাইজ।

এরমধ্যে নুপুর মার্কেটের মেসার্স সৌরভ এন্টারপ্রাইজের ঠিকানায় গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, সেটি এখন একটি জুতার দোকান।