যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে কারা আসছে?

মোসাব্বির হোসাইন, যবিপ্রবি :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে স্থান পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে পদপ্রত্যাশীরা। নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে রাতদিন শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন নেতৃবৃন্দ। সভাপতি ও সম্পাদক পদে অন্তত ১৪ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাচ্ছেন ছাত্রলীগের কমিটিতে যেন চাঁদাবাজ, ডাকাত, মাদক মামলার আসামি, অনুপ্রবেশকারী, টেন্ডারবাজ, মাদকসেবী, সন্ত্রাসীদের স্থান দেওয়া না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি ও সর্বপ্রকার মিছিল মিটিং সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা। ছাত্রলীগের বিশ্বস্ত সূত্র জানায় ১০ নভেম্বরের পর শুরু হবে প্রার্থীদের যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া। তারপরই আসবে শাখা ছাত্রলীগের সেই কাক্সিক্ষত নেতৃত্ব। এ নিয়ে পদপ্রার্থীদের মাঝে তুমুল দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। লবিং, তদবীর আর এলাকাপ্রীতির বিষয়টি কাজে লাগিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করে নিজ ভিত মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন অধিকাংশরা। অনেকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি আর উপাচার্যেও সাথে সম্পর্ক রাখছেন নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি ও নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য। নিজ কর্মীদের নিয়ে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার ছলে ক্যাম্পাসের যেখানে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন পদ প্রত্যাশীরা। এরমাঝে কে হচ্ছেন যবিপ্রবি ছাত্রলীগের আগামী দিনের কান্ডারি, কেমন হবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা এ নিয়ে চলছে চুলচিরা বিশ্লেষণ। দলের প্রতি আনুগত্যশীল, মেধাবী, পরিশ্রমী ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেয়া হতে পারে বলে আভাসও পাওয়া গেছে।
আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে পদ প্রত্যাশীদের সংগঠনের দপ্তর সেলে বায়োডাটা জমা দিতে বলা হয়েছে। ১ নভেম্বর শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সাক্ষরিত এক জরুরি বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষ্ক্রীয় থাকায় ও কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করে পদপ্রার্থীদের বায়োডাটা আহ্বান করা হয়।
শুক্রবার কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পদপ্রার্থী ও তার সমর্থকরা চাঙ্গা হয়েছে। সভাপতি ও সম্পাদক পদে অন্তত ১৪ জনের নাম শোনা গেলেও এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাম্পাসে আলোচিত হচ্ছে যারা তারা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফিকুর রহমান অয়ন, সদ্য সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আল মামুন শিমন, সদ্য সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক ইলিয়াস হোসাইন রকি, শহীদ মসিয়ূর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিপ্লব কুমার দে শান্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও আসিফ আহমেদ জিসান, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সাল, শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সভাপতি শিলা আক্তার, ইংরেজি বিভাগ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস রহিত, সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ টনি, পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক খন্দকার, পদার্থ বিজ্ঞান ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন, ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল হাসান শিহাব।
শহীদ মসিয়ূর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও আসন্ন কমিটির সভাপতি প্রার্থী বিপ্লব কুমার দে শান্ত জানান, আসন্ন কমিটিতে এমন নেতৃবৃন্দ আসুক যারা সুষ্ঠু ছাত্ররাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত সহযোগী হতে পারবে।
শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফিকুর রহমান অয়ন জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে, আশা রাখি আসন্ন কমিটিতে আওয়ামী পরিবারের যোগ্য ছাত্রনেতারা মূল্যায়িত হবে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিপদে থাকে সেখানে ছাত্রনেতারা চুপ থাকে এমন ছাত্রনেতাকে যেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃত্বে না আনে এমন দাবি জানান শহীদ মসিয়ূর রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।
এদিকে ঐতিহ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের কোন কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, বয়স, নিয়মিত ছাত্র, সংগঠনের জন্য ত্যাগ। শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এই নভেম্বর মাসের পর কমিটি হলে পদপ্রত্যাশী অনেক ছাত্রনেতারই বয়স এবং ছাত্রত্ব কোনটাই থাকবে না।