যশোরে আলোচিত ছয় শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে চাঞ্চল্যকর ছয় শিশু ছাত্রী ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় আমিনুর রহমানকে যাবজ্জীবন এবং ৬ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক টিএম মুসা এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। আমিনুর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার গড়িমহল গ্রামে মোহাম্মদ হানেফের ছেলে ও যশোর শহরের খড়কি দক্ষিণপাড়ার পীরবাড়ির পাশের বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এম ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, মাত্র ছয় মাসে আলোচিত এ ঘটনার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ষক আমিনুর রহমান কারাগারে আটক আছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার গড়িমহল গ্রামে হানেফ আলীর ছেলে তিনটি সন্তানের জনক আমিনুর রহমান যশোর শহরের খড়কি দক্ষিণপাড়া রেললাইনের পাশে এহসানুল হক সেতুর বাগান বাড়ির কেয়াটেকারের দায়িত্বে ছিল। এ বাড়ির একটি ঘরে আমিনুর থাকত। স্থানীয় মাওলানা শাহ আব্দুল করিম (রহ.) খড়কী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে ছোট্ট ছেলে ও মেয়েরা সেতুর বাগানবাড়িতে আম কুড়াতে যেতো। ওই সময় কেয়ারটেকার আমিনুর রহমান অল্প বয়সের মেয়েদের আম, চকলেট, ক্যাটবেরি দেয়াসহ বিভিন্নভাবে লোভ দেখাত। এই লোভ দেখিয়ে প্রথমে আমিনুর তিনটি শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করে। বিভিন্ন সময়ে একে একে ছয় শিশুকে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ বিষয় জানাজানির পর স্থানীয়ভাবে শালিস বিচার হয়। এক পর্যায়ে অভিভাবকরা চলতি বছরের ১ মে কোতয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দেন। এতে তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা হয়। পুলিশি আটকের ভয়ে আমিনুর বেনাপোলে পালিয়ে যান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই হায়াত মাহমুদ খাঁন ৪ মে আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। এরপর আমিনুর বিভিন্ন সময় ৫/৬ শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
পাশাপাশি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওই ৬ শিশুর মধ্যে ৪ জনের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। আর ৬ জনই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরত জাবীন নি¤œীর আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আটক আসামির দেয়া জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় আটক আসামি আমিনুর রহমানকে অভিযুক্ত করে গত ৩০ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা হায়াত মাহমুদ খাঁন।
মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৬ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। রায়ে বিচারক দুই সাজা একই সাথে চলার আদেশ দিয়েছেন।