অভিযুক্ত হিটুর গা ঢাকা, খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটিতে গোসলের দৃশ্য ইন্টারনেটে ভাইরালের হুমকি দিয়ে যুবতীকে ধর্ষণকারী হিটুকে খুঁজছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মুন্সি আনিসুর রহমান জানান, হিটু গা ঢাকা দেয়ার কারণে আটক করা যায়নি। তিনি ওই যুবতীকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, ঘটনাটি গোপন না করায় ওই যুবতীর উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন ধর্ষকের পরিবার ও তাদের পক্ষীয় প্রভাবশালীরা। তাদের ভয়ে মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে হিটুর পক্ষীয়রা ভাড়া বাড়িতে গিয়ে সপরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে যুবতীর অভিযোগ।
যুবতী জানিয়েছেন, ব্লাকমেইলিং করে হিটু আমার সতিত্ব হরণ করেছে। ধর্ষণের পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লেও তাকে রেহাই দেয়নি হিটু। ওই অবস্থায় তাকে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়। কয়েকদিন পরে হিটুর ভাবির সাথে আমাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে বাচ্চা নষ্ট করানো হয়। তিনি আরো জানিয়েছেন, স্বীকৃতি না পেয়ে তিনি এতোদিন পর ঘটনা ফাঁস করতে বাধ্য হয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে তথ্য দেয়ার কারণে হিটুর মা আমাকে শাসিয়েছে। তিনিসহ তাদের পক্ষে থাকা প্রভাবশালীরা আমাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় দিন যাপন করছেন। ভয়ে মামলা করারও সাহস পাচ্ছেন না। পুলিশ আমার সাথে কথা বলেছে। আমার অসহায়ত্বের কথা পুলিশকে জানিয়েছে। যুবতীর খালু জানান, আমরা গরিব মানুষ। ভাড়া বাড়িতে বসবাস করি। কেউ আমাদের পাশে থাকছে না। যার কাছে বিচার দিচ্ছি সেই টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের টাকা নেই বলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারছি না। এমনকি দফায় দফায় হুমকির কারণে এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছেন না। এই বিষয়ে তিনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দৈনিক স্পন্দনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর হিটুর পরিবার বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তারা সাংবাদিক ম্যানেজ করার জন্য প্রভাবশালীদের কাছে হাটছেন। চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনিসুর রহমান জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ধর্ষকের পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। ধর্ষকের মাকে বলা হয়েছে ওই যুবতীর দাবি অনুযায়ী তাকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে তুলতে। আমরা সাধারণ মানুষ ওই ধর্ষিতার পাশে আছি। চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সাথে জড়িত হিটুর বিচার হওয়া উচিৎ। তিনি আরো জানান, ওই যুবতীর সকল ধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মুন্সি আনিসুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে আমি ওই যুবতীর সাথে কথা বলেছি। ঘটনার বিস্তারিত শুনেছি। গোসলের দৃশ্য ইন্টারনেটে ভাইরালের হুমকি দিয়ে হিটু যুবতীকে ধর্ষণ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাকে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হিটুকে আটকের জন্য খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু তিনি গাঁ ঢাকা দিয়েছেন।