ঘুষের লাখ টাকাসহ দুদকের জালে কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার ও অফিস সহকারী

মণিরামপুরে তোলপাড়-
মণিরামপুর প্রতিনিধি:
ঘুষের লাখ টাকাসহ কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার যশোর মণিরামপুরের সুব্রত কুমার সিংহ ও তার অফিস সহকারী রফিকুল ইসলামকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিজ অফিসকক্ষে ঘুষ লেনদেনের সময় ঘুষের ১ লাখ ৪ হাজার ৪শ’ টাকাসহ তাদের হাতেনাতে আটক করেছে দুদক।
আটক সুব্রত কুমার সিংহ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা দূর্গাপদ সিংহের ছেলে। সুব্রত আটকের ঘটনায় মণিরামপুরে তোলপাড় চলছে। কারণ তিনি অল্প কয়েকদিনে এলাকাসহ ফরিদপুরে শ্বশুরবাড়িতে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। যার সিংহভাগ ঘুষের টাকায়। তার আয়ের সাথে সম্পদের কোন মিল নেই।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সমন্বিত জেলা দুদক কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রি অফিসে ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে ঘুষের এক লাখ ৪হাজার ৪শত টাকাসহ তাদের আটক করে দুদকের অভিযানিক দল। এ সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্্েরট পার্থ প্রতীম শীল, কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল কুষ্টিয়া রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। সেখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দলিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হয়। সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে আমাদের কাছে হঠাৎ সংবাদ আসে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি দুদক সদর দফতরকে তাৎক্ষণিক অবহিত করে অনুমতি সাপেক্ষে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ ও অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলকে ঘুষের টাকাসহ হাতে নাতে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।