বেনাপোলের সামাজিক ব্যক্তিত্ব বংকার আর নেই # এমপি শেখ আফিল উদ্দিনসহ নেতৃবৃন্দের শোক

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল :
বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব নুরুল ইসলাম বংকার (৫৫) আর নেই। শুক্রবার সকালে তিনি বেনাপোলের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। বংকার বেনাপোল গ্রামের মৃত জমাত আলীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। জুম্মাবাদ বেনাপোল গ্রামের মধ্যপাড়া বাইতুল মামুন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে গ্রামের গণকবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে বংকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, সহসভাপতি আলহাজ সালেহ আহমেদ মিন্টু, যুগ্মসম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাসির উদ্দিন, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, শার্শা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন, উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আয়নাল হক, নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, ডিহি ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলী, বাগআঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল, কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু, গোগা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, লক্ষণপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ বজলুর রহমান, পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান, বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। মরহুম বংকার তার জীবদ্দশায় এলাকার মানুষের কাছে খুবই প্রিয়ভাজন ছিলেন। ৯০’র দশকে বেনাপোল যখন মফস্বল এলাকা, সেসময়ে তিনি বেনাপোলবাসীর শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রভাতী কিন্ডার গার্টেন নামে একটি কেজি স্কুল গড়ে তোলেন। পরে একের পর এক তিনি শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ও সাড়াতলাসহ বিভিন্ন স্থানে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অবশ্য তিনি পুঁথিগত বিদ্যায় অশিক্ষিত হওয়ায় স্কুলগুলো এখন আর নেই। তবে সেসকল স্থান এখন শহরে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া তিনি ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সেসময়ে তিনি নিজ অর্থ ব্যয় করে বেনাপোলবাসীর চিত্র বিনোদনের জন্য এলাকায় যাত্রা, নাটক, পুতুল নাচ, সার্কাসসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে আসতেন। একসময়ে বেনাপোলের অনেক শিক্ষার্থী বংকারের টাকায় বই খাতা কিনেছে, পরীক্ষার ফি দিয়েছে। ঝরে পড়া রোধে বংকার ছিলেন অক অসামান্য ব্যক্তিত্ব। স্থানীয় ছেলেরা বাইনা ধরে বংকারের কাছ থেকে নিয়েছে ফুটবলসহ খেলার সামগ্রী।