বুলবুলের শক্তি ‘কিছুটা কমেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া ‘বুলবুল’র শক্তি কিছুটা কমেছে, এরপরেও তা ১১০ কিলেমিটার গতির শক্তি নিয়ে উপকূলে আঘাত হানবে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আয়েশা খানম শনিবার রাত ৮টায় ঝড়ের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, “অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হলেও উপকূলের ২০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি আসার মধ্যে বুলবুলের শক্তি কিছুটা কমেছে। ঘণ্টা তিনেক আগেও ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার থেকে ১৪০ কিলোমিটার ছিল।

“গতি এখন কিছুটা কমেছে। ঘূর্ণিঝড়ের চারপাশে গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার।”

ঘূর্ণিঝড়টি এখন উপকূলের কাছাকাছি জানিয়ে আয়েশা খানম বলেন, “ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানা এখনও শুরু করেনি। এখন উপকূলের কাছাকাছি। মধ্যরাতে অতিক্রম করতে পারে।”

ভারতের আবহওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টায় ঘূর্ণিঝড়টি যখন উপকূলের সাগর দ্বীপে থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ছিল, তখন এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০-১৩০ কিলোমিটার। তখন এটি এগোচ্ছিল ঘণ্টায় ১৩ কিলোমিটার গতিতে।

ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানবে বলে মনে করছে তারা।

আবহাওয়াবিদ আয়েশা খানম বলেন, উপকূল অতিক্রমকালে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার থেকে ১২০ কিলোমিটার ঝড় বয়ে যাবে। এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

তিনি জানান, রাত ৮টায় ঘূর্ণিঝড়টি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং কক্সবাজার থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ২৫ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাত থেকে এ কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের টার্গেট ছিল ১৮ লাখ লোক সরাতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতায় লোকজন নিরাপদে এসেছে, কাউকে জোর করা হচ্ছে না।

“প্রায় ২৫ লাখ লোককে আশ্রয় কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নানা স্থাপনায় নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে।”