বুলবুলে প্রাণ গেল ১১ জনের, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

স্পন্দন ডেস্ক:
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনা, মাদারীপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী ও শরীয়তপুরে এখন পর্যন্ত ১১ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরা সবাই গাছচাপায় মারা গেছেন। আর আহতের সংখ্যা অন্তত ৪৮ । এছাড়া, বরগুনায় আশ্রয়কেন্দ্রে আরেকজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসল, মাছের ঘের , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা । বেশুমার ভেঙেছে গাছপালা।
সোমবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আকতার এ তথ্য জানান।
ডা. আয়শা আক্তার জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আলী বকশ ছৈয়াল (৭০) ও ডামুড্যায় আয়েশা বেগম (৫০), গোপালগঞ্জ সদরে মতি বেগম (৬৫) ও কোটালিপাড়ায় ছেকেন হাওলাদার (৭০) গাছচাপা পড়ে মারা গেছেন। আর পটুয়াখালীতে হামিদ কাজী (৬৫), বরিশালের উজিরপুরে আশালতা মজুমদার (৬৫), পিরোজপুরে নাজিরপুরে ননী মন্ডল (৫৫), খুলনার দীঘলিয়ায় আলমগীর (৪০), দাকোপে প্রমিলা মন্ডল (৫২), বাগেরহাটের রামপালে সামিয়া (১৫) ও ফকিরহাটে হিরা বেগম (২৫) গাছচাপায় মারা গেছেন। এছাড়া, বরগুনায় আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০ বছর বয়সী হালিমা খাতুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
তিনি আরও জানান, বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে মোট ৪৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ২৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি আছেন।
আয়শা আক্তার বলেন, ‘বুলবুল কবলিত এলাকা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চাঁদপুরে মোট ১৪ জেলার ১০৮টি উপজেলায় ৩ হাজার ৯৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে এক হাজার ৪৮৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।’
আরো খবর প্রতিনিধিদের রিপোর্টে-
যশোর : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে যশোর জেলার প্রায় ১ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। রোববার যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই তথ্য পেয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
যশোর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলার মণিরামপুর, কেশবপুর, ঝিকরগাছা ও সদরের বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ পরিদর্শন করেছি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ৬৯৫০ হেক্টর জমির ধান, ৫ হেক্টর কলা, ৬৫০ হেক্টর জমির মসুরি ৫ হেক্টর জমির পেঁপে গাছের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে পানি না জমায় কোন ক্ষতি হয়নি। কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ তালিকা তৈরি করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে তিনি জানান।
যশোর শার্শা উপজেলা পাঁচ ভূলাট গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, আমি ১০ বিঘা আমন ধানের চাষ করেছিলাম। আমন ধান আর কয়েকদিন পর বাড়ি উঠার কথা, কিন্তু বুলবুলের আঘাতে প্রায় ৭ বিঘা জমির ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। বুলবুল আঘাত না হানলে আমরা প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ২০ মণ ধান উৎপাদন হতো। এখন এক বিঘা থেকে ৮ থেকে ১০ মণ ধান পাওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, ১ বিঘা জমিতে পটলের লতি (চারা) রোপণ করেছি। কিন্তু গত তিনদিন বুলবুলের প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে সব লতি নষ্ট হয়ে গেছে।
বাগেরহাট : বাগেরহাটে ৪৪ হাজার ৫৬৩টি ঘরবাড়ি, ১৮ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, ৩৫ হাজার ৫২৯ হেক্টর ফসলি জমি এবং সাত হাজার ২৩৪টি মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এরমধ্যে ৩৫ হাজার ৭৭৫টি আংশিক এবং আট হাজার ৭৮৮টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে অর্ধ-শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন। এদিকে ঝড়ে গাছ পড়ে জেলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- ফকিরহাট উপজেলার মাসুম শেখের স্ত্রী হিরা বেগম এবং রামপাল উপজেলার বাবুল শেখের মেয়ে সামিয়া খাতুন।
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, বিধ্বস্ত বাড়িঘর ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে জেলার ৭৫টি ইউয়িনের মধ্যে ৬২টি ইউনিয়নকে দুর্যোগকবলিত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসব জেলার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বলা হয়েছে। মৃত দুইজনের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
কৃষি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাংবাদিকদের বলেন, বাগেরহাটে ৩৫ হাজার ৫২৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৩১ হাজার ৮০৩ হেক্টর রোপা আমন, ২ হাজার ৩৯৫ হেক্টর সবজি, ৫৪০ হেক্টর পান, ৫৭০ হেক্টর খেসারি ডাল, ৭০ হেক্টর কলা, ৯৫ হেক্টর আখ, ৩৬ হেক্টর মরিচ এবং ২০ হেক্টর সরিষার ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালেদ কনক জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাত হাজার ২৩৪টি মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছ চাষিদের প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে জেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ঘের ও টাকার পরিমাণ আরও বেশি। শুধু মোরেলগঞ্জে পাঁচ হাজারের অধিক মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বাগেরহাটের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান খান বলেন, বাগেরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৭০টি পোল ভেঙে পড়েছে। নয়টি উপজেলার বেশিরভাগ অঞ্চল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতে আমাদের একাধিক টিম কাজ করেছে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন, বুলবুলের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৮ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বাগেরহাটে ৪৪ হাজার ৫৬৩টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত দুই পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তোড়ে বাগেরহাটে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক হতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে বলে মনে করছে জেলার পল্লী বিদ্যুৎ।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে এ জেলার ছয় হাজার দুইশ’ কিলোমিটার সরবরাহ লাইনের মধ্যে ৮০৫ কিলোমিটার তার ছিঁড়ে গেছে।
এছাড়া ২০৫টি খুঁটি ও ১২৩টি ‘ক্রস আর্ম’ ভেঙে গেছে এবং ৫০টি ট্রান্সফর্মার ও ১৫০টি পল্লী বিদ্যুতের মিটার নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ারের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, “বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
দিন-রাত কাজ করে বাগেরহাট পৌর এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ আসা-যাওয়ার মধ্যে আছে।”
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দুর্যোগ কেটে যাওয়ায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর সচল হয়েছে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দর। রোববার সন্ধ্যায় সচল হয়েছে বন্দরটি। সন্ধ্যা থেকেই বন্দর জেটিতে শুরু হয়েছে দেশি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন-নির্গমন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, দুর্যোগ কেটে যাওয়ায় কমানো হয়েছে বিপদ সংকেত। সেই সঙ্গে বন্দরের পশুর চ্যানেল ও জেটিতে অবস্থানরত ১৪টি বিদেশি জাহাজে পণ্য ওঠা নামার কাজ শুরু হয়েছে। মোংলা বন্দরে আরও সাতটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজও আসছে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে পূর্ব সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে সংশ্লিষ্ট দুই রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মুলত জানা যাবে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ। তবে বনবিভাগের সংগ্রহিত প্রাথমিক তথ্য মতে, দুবলার চরে বাঁশ, গোলপাতা, হোগলা ও পলিথিন দিয়ে তৈরি জেলেদের অস্থায়ী কিছু ঘরের আংশিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বনবিভাগের বিভিন্ন ষ্টেশন ও ক্যাম্পের পুরানো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মোংলার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ’র বৈদ্যমারী ক্যাম্প এলাকায় বেশ কিছু রেইন্টি/সিরিচ গাছ উপড়ে পড়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বনের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে ইতিমধ্যে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো: শাহিন কবির ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো: জয়নাল আবেদীনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান জানানো সম্ভব হবে। তবে প্রাথমিক খোঁজ খবরে যা জানা গেছে, বুলবুলের আঘাতে বনের কটকা, হাড়বাড়িয়া ও করমজলের ফুট ট্রেইলার ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কটকা ও ভোলা টহল ফাঁড়িসহ বেশ কয়েকটি জায়গার জেটির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কটকা, করমজলসহ গহীন বনের অভ্যন্তরে টহল ক্যাম্পের ঘরের চাল ও বেড়া পড়ে আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাটে আশ্রয় কেন্দ্রে জন্ম নিয়েছে শিশু ‘বুলবুলি’। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি উপক্ষো করে আতঙ্কিত সন্তান সম্ভবা মিঠাকালী গ্রামের হনুফা বেগম স্বামী বায়েজিদ শিকদারকে সাথে নিয়ে পৌঁছান আশ্রয় কেন্দ্রে। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী এটিসি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছেনোর পর তার প্রসাব বেদনার খবর পৌঁছে যায় কন্টেল রুমে তদারকিতে থাকা বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কাছে। সাথে-সাথে তিনি মোংলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশীতে সেখানে একজন প্রশিক্ষত মহিলা ধাত্রী ও চিকিৎসক নিয়ে দ্রুত পৌঁছাতে নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার মোংলা উপজেলা হাসপাতালের ডা. রাশেদুল হাসান ও প্রশিক্ষত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাকে নিয়ে পৌঁছে যান ওই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে। আর সেখানেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের রাত ১টা ১৫ মিনিটে জন্ম দেয় হনুফা বেগম এক কন্যা শিশুর। আর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সাথে মিলিয়ে তখনই শিশুটির নাম রাখা হয় ‘বুলবুলি’। বর্তমানে মা মেয়ে দু’জনেই সুস্থ আছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ৩৬ মিনিটে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের ভেরিফাইড ফেজবুক আইডি থেকে প্রসুতি মা ও তার সদ্যজাত শিশুর ৯টি ছবিসহ সুখবরটি প্রচার করা হলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার উপকুলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরে ১৩ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও ৩৩ হাজার ৪৬০টি কাচা ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল এবং জেলা ত্রান ও দূর্যোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলায় শ’শ’ বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের নরম কাঁকড়া প্রজেক্টে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরার দু’টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের চুনা, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের ১১ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধে ব্যাপক ফাটল ও ভাঙ্গন দেখাদিয়েছে। তবে দক্ষিণ দিক থেকে পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সাতক্ষীরায় প্রাণহানির কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে
উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় কাঁচাঘর বাড়ি, মৎস্যঘের ও ফসলি জমিও রাস্তঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব অঞ্চলে প্রায় শতকারা ১০ ভাগ ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট লন্ড ভন্ড ও ধসে পড়েছে। একই সাথে তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ১০ ও ৯ নং সুরা, চাঁদনিমূখা, দাঁতিনাখালী,পাশ্বেমারি সহ এখানকার ১৫টি গ্রাম। এছাড়া বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ী, দাঁতনেখালি, পশ্চিমপুড়াটলা, নীলডুমুর, দূর্গাবটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব অঞ্চলে রাস্তার পাশের গাছ পড়ে ঘর বাড়ি চাপা পড়েছে।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জমির ধান শুয়ে পানির নিচে যাওয়ায় কৃষকের মুখে এখন হতাশার ছাপ। ক্ষতির শিকার হয়েছেন উপজেলা ইটভাটা মালিকরাও। প্রায় সব মাঠেই আমন ধান শুয়ে পানিতে তলিয়েছে। ক্ষতির শিকার হয়েছেন তরকারি ও সবজি চাষিরাও। ক্ষতি হয়েছে মসুর ও সরিষার। আর নতুন করে তৈরি করা কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে উপজেলার ১১টি ইটভাটা মালিকের মাথায় হাত উঠেছে। মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার মহেশপুর উপজেলায় ১৮ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। বাম্পার ফলনও হয়েছে সব এলাকার মাঠে। কিন্তু দুই দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার সব এলাকায় চাষকৃত ধানের শতকরা ৪০ ভাগ মাটিতে শুয়ে পড়েছে।
ফুলতলা : খুলনার ফুলতলায় গাছের ডাল ভেঙে ও ঘর চাপা পড়ে ৬ব্যক্তি আহত এবং আমন ধান ও সবজির আংশিক ক্ষতি সাধিত হয়। এলাকা ছিল ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। এদিকে ভয়াবহ ঝড়ের রাতে দুর্বৃত্তরা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আব্দুল হামিদ মোড়লের ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়।
উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের গাড়াখোলা ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন গাজী জানান, গাছের ডাল ভেঙে ও ঘর চাপা পড়ে ৬ ব্যক্তি আহত হন। এরা হলো সালাম গাজীর স্ত্রী জিনিয়া বেগম (৪০), তার পুত্র রকি ও কন্যা জান্নাতি এবং জুলমত সরদারের স্ত্রী লাভলী বেগম (৩৫), তার পুত্র আবু সাইদ (১৪) ও কন্যা টুটটুকি (১২) । এদের মধ্যে জিনিয়া বেগমকে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে ভয়াবহ ঝড়ের রাতে দুর্বৃত্তরা খুলনা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য আব্দুল হামিদ মোড়লের ফুলতলার বুড়িয়ারডাঙ্গা গ্রামস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার এস এম নাজমুল সাকিব শাহিন বলেন, প্রবল বর্ষন ও ঝড়ে উপজেলার প্রায় সাড়ে ১৫ হেক্টর জমির আমন ধান ও ২০ হেক্টর জমির সবজির আংশিক ক্ষতি হয়েছে
মোরেলগঞ্জ : মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে ১ হাজারের বেশি বসত ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি ঘর। আমন ফসরের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক হাজার মৎস্য ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখের বেশি কলাগাছ ও ১০ হাজারের বেশি বাও কুল গাছ।
সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে , উপজেলার খাউলিয়া, মোরেলগঞ্জ সদর, নিশানবাড়িয়া, বারইখালী,চিংড়াখালী ও পৌরসভা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। চিংড়াখালী ইউনিয়নে মোকছেদ আকনের একটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ লাইনের ১ হাজার ৭ শ কিলোমিটার বিদ্যুতের সংযোগ। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিদ্যুৎ বিহীন রয়েছে। ৫০ টির বেশি বিদ্যুতের খুটি ভেঙে গেছে। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখন নিরুপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. নাসির উদ্দিন।
ঝিকরগাছা : ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রকোপে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৬০ শতাংশ পাকা ধান মাটিতে পড়ে গেছে। ২ শতাংশ ধানে চিতা আসতে পারে। এতো করে কৃষকের ভোগান্তি বাড়বে দ্বিগুণ এবং ধানের খরচ বেড়ে যাবে ও দাম কম পাবে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। তবে আবহাওয়া ভালো হলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। এছাড়া কলা, পেঁপে, পটল, বেগুন, ঝাল সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার দিপংকর কুমার দাস জানান, গত তিনদিন ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রকোপে ৬০ শতাংশ ধান মাটিতে পড়ে গেছে। আধাপাকা যে ধানগুলো পড়ে গেছে তার ২ শতাংশ চিতা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে দ্রুত আবহাওয়া ভালো হয়ে গেলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
দাকোপ : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনার উপকুলিয় উপজেলা দাকোপে নিহত ১, ট্রলার ডুবি ৩, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ঘরবাড়ী ও গাছপালা বিধ্বস্ত, বিভিন্ন স্থানে খুঁটি ভেঙে পড়ায় এলাকা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং দাকোপ উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে দক্ষিন দাকোপ গ্রামের সুভাষ মন্ডলের স্ত্রী প্রমিলা মন্ডল (৫২) রান্না ঘরে গাছ চাপা পড়ে মারা গেছে। একই সময়ে চালনা বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় পশুর এবং চুনকুড়ি নদীর মোহনায় ঘাটে বাধা অবস্থায় থাকা একটি বালি বোঝাই ট্রলার এবং দুটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ডুমুরিয়া : খুলনার ডুমুরিয়ায় গাছপালা, আমনধানসহ শীতকালিন সবজির বেশি ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে বিদ্যুতের পোল পড়ে এবং তার ছিড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গাছপালা পড়ে উপজেলার সকল রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রচণ্ড বৃৃষ্টি ও নদীতে জলচ্ছাস হওয়ার ফলে বিশেষ করে নদী বেষ্টিত এলাকায় মৎস্য ঘের তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে। ঝড়ের রাতে এবং সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম, সহকারী কমিশনার ভূমি সঞ্জীব দাস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করেছেন।
তালা : সাতক্ষীরার তালায় উপজেলায় মাছের ঘের ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে। রাস্তার উপড়ে পড়েছে শত শত গাছ। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। তবে বাতাস কমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।
তালা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহাফুজুর রহমান জানান, উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১২টি ইউনিয়নে চার হাজার ৫১৩টি পরিবারের ২২ হাজার ৬৫০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৎস্য ঘেরের পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তায় উপড়ে পড়েছে গাছ। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
খলিলনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রনব ঘোষ বাবলু জানান, খলিলনগর ইউনিয়নের মৎস্যঘেরগুলো একাকার হয়ে গেছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। রাস্তার উপর অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে।
তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার জানান, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এবং কিছু ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান, বুলবুল’র কারণে উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাস্তায় বিদুৎ এর খুঁটিসহ অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে। বাতাস কমে যাওয়ায় মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।
কপিলমুনি : খুলনার কপিলমুনি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ি বিদ্ধস্ত, ফসল নষ্ট, পুকুর, ডোবা ও মাছের ঘের তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেকেই।
শরণখোলা: শরণখোলায় ভেড়িবাধ গড়িয়ে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। সহ¯্রাধিক বাড়িঘর বিধস্ত । কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুত সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ জেলেদের জালসহ মাছধরা ট্রলার ও নৌকা।
সাউথখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন জানান, রোববার সকালে ঝড়ে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় বলেশ্বর নদীর পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেরীবাধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাধ উপচে পানি প্রবেশ করে দক্ষিণ সাউথখালী, উত্তর সাউথখালী ও বগী গ্রাম প্লাবিত হয়। মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠে যায়। ঝড়ে তার ইউনিয়নে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভেঙেছে। সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হ”্ছে বলে তিনি জানান। ওই তিন গ্রামে রান্নাবান্না হয়নি বলে গ্রাম পুলিশ আঃ সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন। ঝড়ে উপজেলায় কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুটি ভেঙে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাজগঞ্জ : মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে পেঁপে গাছ লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে।
কেশবপুর : কেশবপুরে বিদ্যুৎ ও কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক গত ২ দিন যাবৎ বিদ্যুৎ বঞ্চিত রয়েছেন। অপরদিকে কৃষকের উঠতি আমন ধান, শাক-সবজিসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ির। এছাড়া উপজেলা সাতাইশকাটী ব্রাহ্মণডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের ছাউনী ও গাছের ডাল পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কেশবপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আবু আনাস মো. নাসের জানান, গাছ উপড়ে পড়ে ১৫০ স্থানে বিদ্যুতের তার ছিড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১১টি স্থানে খুটি ভেঙে পড়েছে। অসংখ্য খুটি হেলে ঝঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুত বিভাগের লোকজন দিনরাত শ্রম দিয়ে লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে গাছ উপড়ে ঘরের উপর পড়ে অসংখ্য কাঁচা পাকা ঘর ভেঙে পড়েছে। অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উঠতি আমন ধান হেলে পানির সাথে মিশে গেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষকরা ধান বাঁচাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কৃষকের ভাস্যমতে, বিলের অধিকাংশ পাকা ধান পানিতে মিশে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে আমন ধান, সরিষা, মসুর, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও কলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কালীগঞ্জ : ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে পাকা আমন ধান পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুই দিনের লাগাতর বর্ষায় শীতকালীন আগাম সবজি পঁচতে শুরু করেছে। আর পোল্ট্রির খামারগুলোতে দেখা দিয়েছে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগ। তবে কৃষকদের ভাষ্য, শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হলেও দীর্ঘ মেয়াদী এবং ব্যয়বহুল পাকা ধানের ক্ষতিটা অপুরণীয়। গো-খাদ্যেরও অভাব দেখা দেবে চরমে। কৃষকেরা বলছেন চলতি আমন মৌসুমের শুরু থেকে ক্ষেতের ধান নিয়ে সমস্যা কাটছেই না। ধান রোপনের পর থেকে অনাবৃষ্টিতে সেচ দিয়েই বাঁচাতে হয়েছে ধানগাছ। কৃষি অফিস বলছে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকৃতিতে কারও হাত নেই।