বেনাপোলের ব্যবসায়ী মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান আর নেই # এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের শোক

বেনাপোল প্রতিনিধি:
বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ীক সংগঠন বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মশিউর রহমান (৮৫) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি ঢাকায় এ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা সন্তানসহ নাতি-নাতনি ও অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ও পরে মরহুমের গ্রামের বাড়ি গাজিপুর গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তোপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান, সহ-সভাপতি আলহাজ সালেহ আহমেদ মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নাসির উদ্দিন, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান, শার্শা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ বজলুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, বেনাপোল পৌর সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর কামরুন নাহার আন্নাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
উল্লেখ্য, হাজী মশিউর রহমান মুক্তি বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেবীরের বেশে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মৃত্যুর পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিশিষ্ট বিদ্যানুরাগী ও সাদা মনের মানুষ। তিনি শৈশবকাল থেকে তার নিঃসন্তান কাকী মরিয়মের কাছে মানুষ হয়েছিলেন। তাই তিনি নিঃসন্তান কাকীকে সারাজীবন উজ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ঠিক অপর পাশে এশিয়ান হাইওয়ে সংলগ্ন ৭৪.৬৭ শতক জমির উপর মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যা আদৌ চলন্ত পরিবহনের ন্যায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে বালুন্ডা কেস্টপুর রাস্তার পাশে ৩৮ শতক জমি কিনে দিয়েছিলেন স্কুলের ব্যয়ভার বহনের লক্ষ্যে। সেসময়ে তিনি দুই মেয়াদে ৪বছর যাবত প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ২০০৯-১০ সালে তিনি শেষবারের মতো মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার জীবদ্দশায় বলতেন আমার দুই সন্তান। এক সন্তান মেয়ে সেতু, আরেক সন্তান মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়। তাই তিনি খুব যতœ সহকারে স্কুলটির দিকে খেয়াল রাখতেন। যখনই স্কুলের চেয়ার বেঞ্চসহ অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট হতো তখনই তিনি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নতুন তৈরি করে দিতেন।
এছাড়া তিনি কয়েক মেয়াদে ছিলেন বেনাপোল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি। মৃত্যুর পূর্বে তিনি বেনাপোলে ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বেনাপোল বাজারের নিকটে কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করেছিলেন। সেখানে স্থাপন করেছিলেন সুন্দর ভবন। অবশ্য কিছু অনাকাঙ্খিত জটিলতায় তার সে স্বপ্ন আলোর মুখ দেখেনি। কিছুদিন হলো সেটি বিক্রি করে বেনাপোল বাজারে স্থাপন করেছেন বিশাল অট্রালিকা মার্কেট। তাছাড়া রাজনৈতিক স্বপ্ন দ্রষ্টায়ও তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তিনি গোলাপ ফুল প্রতিক নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। পরে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি হয়ে শার্শা উপজেলা উন্নয়নের হাল ধরলে উন্নয়নের কারিগর হাজী মশিউর রহমান আফিল উদ্দিন এমপির উন্নয়নকে ভালোবেসে তার উন্নয়নের দলে যোগদান করেন। বেনাপোলের যেখানেই এমপির উপস্থিতি, সেখানেই হাজী মশিউর রহমান লাঠি ভর দিয়ে হলেও গিয়েছেন উন্নয়নের দিশারী হয়ে।