ওয়েজ বোর্ডে আয়কর, গ্রাচ্যুইটির নতুন নিয়ম বেআইনি নয় কেন : হাই কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংবাদকর্মীদের জন্য ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ডে আয়কর পরিশোধ ও গ্রাচ্যুইটির বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত।

সেসঙ্গে বাংলাদেশ শ্রমবিধি ২(ত) অনুযায়ী ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের নবম বা পরবর্তী ওয়েজ বোর্ডের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।

ওয়েজ বোর্ডের ওই দুটি সুপারিশ চ্যালেঞ্জ করে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য ও শ্রম সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজ) সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস গত সপ্তাহে রিট আবেদনটি করেন।

তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী তীর্থ সলিল পাল ও মো. নুরুল করিম বিপ্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের বেতন বাড়াতে গত ১২ সেপ্টেম্বর নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বিপ্লব পরে সাংবাদিকদের বলেন, আবেদনে তিনটি বিষয় ছিল- এক. আগের ওয়েজ বোর্ডে মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের হয়ে আয়কর পরিশোধ করতো। নবম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী তা সাংবাদিকদেরই পরিশোধ করতে হবে।

দুই. নবম ওয়েজবোর্ডের গেজেটের সপ্তম অধ্যায়ে বলা আছে সংবাদকর্মীরা দুটো করে গ্র্যাচুইটি পাবে মূল বেতনের সমপরিমাণ। কিন্তু দ্বাদশ অধ্যায়ে এসে বলা হলো দুটো করে না একটি করে গ্র্যাচুইটি দেওয়া হবে।

এই আইনজীবী বলেন, “একই গেজেটে একবার বলা হলো দুটি করে আবার বলা হচ্ছে একটি করে। ফলে কোনটা বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিন. শ্রমবিধির ২(ত) অনুযায়ী শ্রমিক বলতে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক উভয় মাধ্যমের সংবাদ কর্মীদের বুঝানো হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা যদি ওয়েজ বোর্ডের আওতাভুক্ত হয় তাহলে কেন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা আসবে না? এই তিনটি বিষয় উল্লেখ করে রিট আবেদনটি করা হয়েছে।”

রিট আবেদনের বলা হয়েছে, সরকার শ্রম আইনের ১৪৩ধারা অনুযায়ী সংবাদপত্র শ্রমিকদের জন্য মজুরিবোর্ড গঠন করে। শ্রম আইনের ১৪৩ থেকে ১৪৮ ধারা পর্যন্ত শুধুমাত্র সংবাদপত্র শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য।

এ আইনে সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত রোয়েদাদের বিষয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে নতুন করে সুপারিশের সুযোগ নেই।

অথচ নবম ওয়েজ বোর্ড গেজেটের দ্বাদশ অধ্যায়ে মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে সাংবাদিকদের গ্রাচ্যুইটি একটি করা হয়েছে। তাছাড়া আয়করও সাংবাদিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নবম ওয়েজ বোর্ড ‘পর্যায়ক্রমে’ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এতে সাংবাদিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।

একইভাবে শ্রম আইনে সংবাদপত্র শ্রমিক বলতে কর্মরত সাংবাদিকদের বুঝানো হয়েছে। আর শ্রম বিধিমালার ২(ত)-এ সংবাদপত্র শ্রমিক বলতে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বুঝানো হয়েছে।

সরকার শ্রম আইনের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী সংবাদপত্র শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করলেও সেই মজুরি বোর্ডের সুপারিশ থেকে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগেই নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) সভাপতি দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের রিট আবেদনে নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।