‘ধর্ষণের পর বিয়ের চাপ দিলে মাদ্রাসাছাত্রী জয়নাবকে হত্যা করি’

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নড়াইল থেকে বাঘারপাড়ায় ডেকে এনে ধর্ষণ করার পর বিয়ের চাপ দিলে মাদ্রাসাছাত্রী জয়নাবকে একটি ঘের পাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয়। জয়নাব হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আটক মজিবুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য দিয়েছে। মঙ্গলবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো.মামুনুর রহমান আসামির জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মজিবুল যশোর সদরের চাঁনপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে।
মঙ্গলবার যশোরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত জয়নাব নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের জিয়াউর শেখের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। জয়নাবের দুলাভাই আসাদুজ্জামান সদর উপজেলার চাঁনপাড়া গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করেন এবং মসজিদের কোয়ার্টারে থাকেন। ওই কোয়ার্টার সংলগ্ন মজিবুল ইসলামের বাড়ি। দুলাভাইয়ের কোয়ার্টারে বেড়াতে আসার সুবাদে মজিবুল ইসলামের সাথে ১ মাস আগে জয়নাবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর গত ৩ নভেম্বর প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে জয়নাব নড়াইল থেকে বাঘারপাড়ায় আসে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মজিবুল ইসলাম তাকে বাঘারপাড়ার ভাঙ্গুরা গ্রামের জনৈক রউফ ফকিরের মাছের ঘেরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে মজিবুল তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় জয়নাব তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মজিবুল ইসলাম গলা চেপে ধরলে জয়নাব কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মারা গেছে ভেবে এ সময় মজিবুল তাকে পুকুরের ভেতর ফেলে দেয়। কিন্তু পুকুরের ভেতর তাকে নড়াচড়া করতে দেখে মজিবুল ইসলাম ফের তাকে পুকুর থেকে তুলে আনেন এবং বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে তার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কোলের ভেতরই মারা যায় জয়নাব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, জয়নাব মারা যাওয়ায় মজিবুল ইসলাম পালিয়ে ঢাকায় চলে যায়। এরপর সেখান থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যায়। পরে আবার যশোরে ফিরে এসে নিজে অপহৃত হয়েছে বলে নাটক করে। পুলিশকে খবর দেয়া হয় যে, তাকে অপহরণ করে হামিদপুরের একটি বাড়িতে হাত-পা বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে। এ খবর পেয়ে গত ৬ নভেম্বর পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে তাকে দড়ি দিয়ে আলগা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে জয়নাব হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।
মজিবুল ইসলাম হেপাটাইসিস-বি ভাইরাস রোগে আক্রান্ত। তার একাধিক মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদের এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
বাঘারপাড়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মজিবুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।