বাঘারপাড়ার গৃহবধূ তুলি হত্যায় স্বামী জুলফিকার কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর বাঘারপাড়ার পান্তাপাড়া গ্রামের গৃহবধূ জিনিয়া ইয়াসমিন তুলি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি স্বামী জুলফিকার আলী আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো.মামুনুর রহমান আসামির জামিন আবেদনের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। জুলফিকার ওই গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ৫ বছর আগে জুলফিকার আলীর সাথে তুলির বিয়ে হয়। জুলফিকার বিমান বাহিনীতে চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকে। তুলি তার শ্বশুর বাড়ি বাঘারপাড়ার পান্তাপাড়া গ্রামে থাকত। বিয়ের পর থেকে তুলির শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। গত ১১ এপ্রিল তুলি তার পিতাকে সংবাদ দিয়ে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে আসে তাকে মারপিট করা হয়েছে বলে। ১৩ এপ্রিল তুলির দেবর শাহাবুদ্দিনের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় দেবর শাহাবুদ্দিন ঘরের মধ্যে তুলিকে আটকে রেখে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তার কর্মস্থল যশোর বিমান ঘাঁটির ইউনিটে যোগ দেয়। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা ঝিকরগাছার মোবারকপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাঘারপাড়া থানায় দুইজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
জানা গেছে, জুলফিকার আলীর স্ত্রী-সন্তান থাকতেও গোপনে বিয়ে করে। বিয়ে নিয়ে তুলির সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। জুলফিকার ও তার পরিবারের লোকজন তুলির উপর প্রায় নির্যাতন করত। তুলির দেবর শাহাবুদ্দিন গত ১৩ এপ্রিল তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এ মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামির দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় স্বামীসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই রফিকুল ইসলাম।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো নিহতের স্বামী জুলফিকার আলী, দেবর শাহাবুদ্দিন ও শাশুড়ি ফরিদা বেগম। নিহতের স্বামী জুলফিকার আলী পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। বিচারক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।