মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির শাসন জারিতে মোদী মন্ত্রিসভার সায়

নিউজ ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির পক্ষে সায় দিয়েছে।

২৪ অক্টোবর নির্বাচনের ফল প্রকাশ পেলেও এখনও মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতে পারেনি কোনও দল।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, মঙ্গলবার গোটা পরিস্থিতি জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে একটি রিপোর্ট পাঠান রাজ্যপাল ভগৎ সিংহ কোশিয়ারি। সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থার কারণে কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সুপারিশ করেন তিনি। তার এ সুপারিশই অনুমোদন করেছেন রাষ্ট্রপতি।

এনসিপি কে সময় না দিয়েই রাজ্যপালের সুপারিশ:

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিকে (এনসিপি) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ভগৎ সিংহ কোশিয়ারি। এনসিপি সেই সময়সীমা পেরোনোর আগে সকাল ১১ টায় তার কাছে আরো সময় চাওয়ার পর কোশিয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে ওই রিপোর্ট পাঠান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এরপর এক বৈঠকে মহারাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং মন্ত্রিসভা সেখানে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির পক্ষে সায় দেয় ।

মহারাষ্ট্রে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এবং সরকার গঠনের দাবিও কেউ না জানানোয় সাংবিধানিক রীতি মেনে রাজ্যপাল প্রথমে বৃহত্তম দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি)সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন না পাওয়ায় বিজেপি অনাগ্রহ দেখালে প্রথমে শিবসেনা, তারপর ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিকে (এনসিপি) সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের গভর্নর।

কিন্তু তাদেরকে সরকার গঠনের জন্য বাড়তি সময় না দিয়েই গভর্নর কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির প্রস্তাব করেছেন এবং তাতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সইও করেছেন। ফলে সাংবিধানিক ভাবে মহারাষ্ট্রে ৩৫৬ ধারা অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়েছে।

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে তাড়াহুড়োর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টে যাবে শিব সেনা:

বিরোধীদলগুলো মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি নিয়ে গর্ভনর তাড়াহুড়ো করেছেন বলে অভিযোগ করেছে। সরকার গঠনের জন্য বাড়তি সময় না-দেওয়ায় মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিব সেনা।

ওদিকে, এ পরিস্থিতির মধ্যে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে তৎপর হয়েছেন কংগ্রেস পার্টির সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীও। তিনি মঙ্গলবার শারদ পাওয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলে শিব সেনার সঙ্গে জোটপ্রক্রিয়া নিয়ে তৎ‌পর হওয়ার কথা বলেছেন। সমঝোতা চূড়ান্ত করতে তিনি তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলও পাঠিয়েছেন মুম্বাইয়ে।

মহারাষ্ট্রে গত ২১ অক্টোবর ভোটের পর ২৪ অক্টোবর বিধাসভার নির্বাচনের ফল প্রকাশ পায়। এতে দেখা যায়, বিধানসভার মোট ২৮৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১০৫টি, শিবসেনা ৫৬টি, এনসিপি ৫৪টি এবং কংগ্রেস ৪৪টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১৪৫টি আসন প্রয়োজন।

নিয়মানুযায়ী, ভোটের ফল প্রকাশের ১৬ দিনের মধ্যে গভর্নরের কাছে সরকার গঠনের আবেদন করতে হয়। ওই সময়ের মধ্যে কেউই সরকার গঠনের আবেদন না পাঠালে গভর্নর প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপি’র কাছে তাদের মত জানতে চান।

বিজেপি সরকার গঠনে আগ্রহ না দেখালে শিবসেনা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, এনসিপি’র সময় শেষ হয়নি, কংগ্রেস-শিবসেনার সঙ্গে আলোচনা চলছে, তখন এভাবে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি কার্যত অন্যায়।

কংগ্রেস নেতা আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আনন্দবাজারকে বলেন, গভর্নরের আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল। কারও উদ্দেশ্য সাধন করতেই তিনি এই তাড়াহুড়ো করেছেন।

বামপন্থি দলগুলো থেকেও গভর্নরের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়েছে।