যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শৌচাগারে ভাসছে মলমূত্র

বিল্লাল হোসেন:
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ঢুকতেই চোখে পড়লো কয়েকজন রোগী ও স্বজন নাকে কাপড় চেপে বসে আছেন। এমন করে আছেন কেনো জানতে চাইলেই তারা বলেন শৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পেট ফুলে যাচ্ছে। মুখে কাপড় না দিয়ে কোনো উপায় নেই। গন্ধে রীতিমতো টেকা দায় হয়ে পড়েছে। মহিলা মেডিসিনের মতো একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে প্রসূতি ওয়ার্ড, ডায়রিয়া ওয়ার্ড, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড ও মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে। এসব ওয়ার্ডের শৌচাগারে মলমূত্র ভাসছে। এছাড়া ওষুধ ফার্মেসির সামনে শৌচাগারের দুর্গন্ধে এক মিনিট টেকা দায়। অন্য ওয়ার্ডগুলোতে দুর্গন্ধ আছে, তবে কম। রোগী ও স্বজনরা জানিয়েছেন, শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই দুর্গন্ধে এ নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শৌচাগার থেকে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে।
মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা বেগম বলেন, হাসপাতালে এসেছি সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে শৌচাগারের দুর্গন্ধে আরো বেশি অসুস্থবোধ করছি। এতো বেশি দুর্গন্ধ যে মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসছে। আরেক রোগীর স্বজন ডলি খাতুন জানান, এখানে রোগীর প্রচণ্ড চাপ। রোগীর সাথে রয়েছে স্বজনেরা। যে কারণে শৌচাগারের ব্যবহার চলছেই। কিন্তু সে অনুযায়ী পরিষ্কার করা হচ্ছে না। ফলে পানিতে মলমূত্র ভাসছে। দুর্গন্ধে এখানে থাকা দায়। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন সেলিম রেজা জানান, গরিব মানুষ বিপদে পড়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার জন্য এসেছি। শৌচাগারের দুর্গন্ধে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। প্রসূতি (লেবার) ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন লাইলা খাতুন জানান, এতো দুর্গন্ধে ওয়ার্ডের মধ্যে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী হযরত আলী জানান, শৌচাগারের গন্ধে বমি হয়ে যায় যায় অবস্থা। আরেক রোগীর স্বজন রিজিয়া খাতুন জানান, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের শৌচাগারগুলোর পরিবেশ দেখলে আর ভিতের যেতে ইচ্ছা করে না। তারপরেও বাধ্য হয়ে যেতে হয়। শৌচাগারের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে ওয়ার্ডের মধ্যে। শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন আলেয়া বেগম জানান, দুর্গন্ধে টেকা দায়। কিন্তু কিছু করার নেই। তাদের রোগীর বিছানা শৌচাগার সংলগ্ন হওয়ায় নাকে কাপড় চেপে বসে থাকতে হয়। হাসপাতালের ওষুধ ফার্মেসির সামনে আসলেই শৌচাগারের দুগন্ধে সেখানে দাঁড়ানো কষ্টদায়ক। অনেকেই বমি করে দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের অধিকাংশ শৌচাগারে নোঙরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। ভাঙ্গাচোরা বেসিন থাকলেও হাত ধোয়ার জন্য সাবান নেই। মলমূত্র ত্যাগ করে সকলেই বের হচ্ছেন হাত না ধুয়ে। এতে রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে। নোংরা অপরিষ্কার শৌচাগারে দুর্গন্ধের কারণে যেতে হয় নাক চেপে। সবখানে উপচে পড়ে মলমূত্র। সুস্থ লোক ওই শৌচাগারে গেলে অসুস্থ হয়ে যাবে। আর রোগী আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরে এই রকম পরিস্থিতি চললেও দুর্গন্ধ দূর করার কোনো উদ্যোগ নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। ফলে রোগী ও রোগীর স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সুস্থ জানায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় দায়িত্বরতরা শৌচাগার পরিস্কারে অবহেলা করছেন। এ ব্যাপারে বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, তার জানামতে শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। কেননা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শৌচাগারের দুর্গন্ধ রোধে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া হবে।