আর কত বাড়বে পেঁয়াজের দাম ?

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পেঁয়াজের মূল্য লাগামহীন হয়ে পড়ায় জেরবার হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির জন্য এখন ক্রেতাকে কেজি প্রতি গুণতে হচ্ছে ২শ’ টাকা। পর্যায়ক্রমে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা । ক্রেতারা প্রশ্ন রেখে বলছেন, আর কত বাড়লে থামবে পেঁয়াজের দাম? তবে দাম বাড়ার কারণ জানেন না ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার যশোরের বাজারে পেঁয়াজের কেজি ২শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে এই উর্ধ্বমুখি প্রবণতায় নাভিঃশ্বাস উঠেছে ভোক্তাদের।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল শহরের বড় বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২শ টাকায়। আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকায়।
বড় বাজারের সোনারবাংলা ভান্ডারের (কমিশন এজেন্ট) মালিক নরেন সাহা জানান, আমরা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করছি। কি কারণে দাম বাড়ছে জানি না। এভাবে চললে আরও বাড়তে পারে পেঁয়াজের দাম।
১শ’৭০ টাকা থেকে ১শ’৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে রসুন। আলুর কেজি ছিল ২৫ টাকা। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয় ৪০ টাকা।
বাজারে চালের দাম গত সপ্তাহের মতো ছিল। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ২৬ টাকা থেকে ২৮ টাকা। ২৭ টাকা থেকে ২৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত মোটা চাল। প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল বিক্রি হয় ৩৬-৩৮ টাকা। কাজললতা বিক্রি হয়েছে ৩৬-৩৮ টাকা কেজিতে। ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা কেজি বিক্রি হয় মিনিকেট চাল।
বড় বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী শংকর কুমার জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবের পর সব ধরণের তরিতরকারির দাম বেড়েছে। ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে বরবটি। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয় ২০ টাকা। ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে করোলা উচ্ছে। প্রতি কেজি ডাটা বিক্রি হয় ২০ টাকা। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে একশ টাকা। ৫০ টাকা কেজি শিম, ২৫ টাকা কেজি বাঁধা কপি, ফুলকপি বিক্রি ৭০ টাকা কেজি, এবং বেগুন বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা। তিনি জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে গতকাল বাজারে তরকারির দাম ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বেশি ছিল।
বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৯০ টাকা, ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয় সুপার পাম তেল, প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হয় ৭০ টাকা।
বাজারে প্রতি কেজি বড় ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৮শ’ টাকা কেজি। সাড়ে ৫শ’টাকা থেকে সাড়ে ৬শ’টাকা কেজি বিক্রি হয় মাঝারি সাইজের ইলিশ। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হয় ১শ’৮০ টাকা থেকে ২শ’৪০টাকা। কৈ মাছ বিক্রি হয় ১শ’২০ টাকা থেকে ১শ’৩০টাকা। ১শ’২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় তেলাপিয়া মাছ। প্রতি কেজি শিং মাছ বিক্রি হয় ৪শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা। ২শ’ টাকা থেকে ২শ’৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কাতলা মাছ। পারসে মাছ কেজি বিক্রি হয় মানভেদে ৪-৫শ’ টাকা কেজি দরে।
এ ব্যাপারে জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা সুজাত হোসেন জানান, আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেশি দাম নেয়ায় তিনজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবজির দাম বেড়েছে বলে তিনি জানান।