পেঁয়াজে হলো কী

বিল্লাল হোসেন:
পেঁয়াজ নিয়ে চলছে তোলপাড়। ক্ষণেক্ষণে দাম বৃদ্ধিতে ‘পেঁয়াজ’ এখন সবার মুখে মুখে। ক্রেতারা দামে হতাশ। তবে কেন এর দাম বাড়ছে বিষয়টি সবার অজানা। ২শ’ টাকার পেঁয়াজ এক লাফে হয়ে গেল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। পেঁয়াজের চোটপাটে ক্রেতারা রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষোভে অনেকেই পেঁয়াজ না কিনে বাড়ি ফিরেছেন। ক্রেতাদের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদের ইচ্ছায় পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। সবার একই প্রশ্ন পেঁয়াজে হলো কী ! শুক্রবার যশোরের খুচরা বাজারগুলোতে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। অথচ বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিলো ২০০ থেকে ২১০ টাকা। কি কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে এর কোনো সদুত্তর মিলছে না। তবে বেনাপোলের একজন আমদানিকারক বলেছেন, বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ডাবল সেঞ্চুরি টপকানোর বড় কারণ হলো ভারত থেকে না আসা।এদিকে খুচরা বিক্রেতারা অনায়াসে বলেছেন শনিবার থেকে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে। পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোচ্চার জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর শহরের বড় বাজার, বেজপাড়া তালতলা বাজার, সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজার, শার্শা উপজেলা, ঝিকরগাছা , চৌগাছা , বাঘারপাড়া ও মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা। নিম্নমানের পেঁয়াজ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়। জানা গেছে, দ্বিশতকের মধ্যে এবারই প্রথম পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এরআগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশি পেঁয়াজের কেজি দাম উঠেছিলো ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। মণিরামপুরের সাংবাদিক আব্দুল মতিন জানান, পারদের চেয়েও বেশি তাপ ছড়াচ্ছে পেঁয়াজ। যে কারণে অনেকেই পেয়াজের কাছে যাচ্ছে না। তিনি ২৪০ টাকা কেজি দরে ৫শ গ্রাম পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরেছেন। চুড়ামনকাটির খুচরা বাজারে আসা ক্রেতা তাসলিমা আক্তার ও জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এতো দরের পেঁয়াজ কিনবো না। পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না চলবে। তাদের দাবি, এটা বড় বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজার গরম করা হচ্ছে। পেঁয়াজের আকাশচুম্বী দামের কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ ব্যাপক চাপে পড়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে অবস্থান করে দেখা গেছে পেঁয়াজের দাম শুনে মলিন মুখ করে চলে যাচ্ছেন অনেকেই। আড়াইশ গ্রাম পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরছেন অনেকই। মণিরামপুর উপজেলা শহরে ব্যবসায়ী রকিব গাজী জানান, কাল (শনিবার) পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে। কি কারণে দিনে দিনে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে তার কোন উত্তর তিনি বলতে পারেননি।
যশোর শহরের বড় বাজারের সোনারবাংলা ভান্ডারের (কমিশন এজেন্ট) মালিক নরেন সাহা জানান, বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ অনেক কম। কিছুতেই সংকট কাটছে না। কোথাও পেঁয়াজের জোগান নেই। তারা বেশি দাম দিয়েও চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ পাচ্ছে না। ভারতীয় পেঁয়াজ কখন এসে বাজার সয়লাব করে ফেলে, সেই ভয়ে আমদানিকারকেরা অন্য দেশ থেকে বাড়তি পেঁয়াজ আনছেন না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
বেনাপোলের পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল জানান, ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের উপর অনেকটা নির্ভরশীল বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার। বর্তমানে ভারত পেঁয়াজ আমদানি করা বন্ধ রেখেছে। যে কারণে বাংলাদেশে পেঁয়াজ সংকট। আবার দামও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু না হলে দাম আরো বাড়বে ছাড়া কমবে না।
এ বিষয়ে যশোর জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা সুজাত হোসেন জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যাতে পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য যশোরের বাজারগুলোতে নজর রাখা হচ্ছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোচ্চার ভুমিকায় রয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য। অভিযানে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা একাধিক বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। যশোরের বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারো ইচ্ছা মতো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেয়া হবে না।