জাপটে ধরে ছবি তুলে প্রতারণা করে গৃহবধূকে ধর্ষণ,আটক ১

তপন চক্রবর্তী, তালা (সাতক্ষীরা) :
সাতক্ষীরার তালায় গৃহবধূকে জাপটে ধরে ছবি ধারণ করে ইন্টারনেট ও স্বামীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
শুক্রবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তালা থানায় মামলাটি করেন ওই গৃহবধূ। এঘটনার এজাহারভুক্ত আসামী কামাল সানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কামাল সানা তালা উপজেলা দোহার গ্রামের ফাজেল সানার ছেলে।
ধর্ষণের স্বীকার ওই গৃহবধু (২৫) জানান, তার স্বামী দীর্ঘ দিন যাবৎ যশোরের একটি ইট ভাটায় কাজ করার সুবাদে যশোরে অবস্থান করে আসছিল। অভিযুক্ত কামাল সানা তার স্বামীর দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। যার সূত্র ধরে সে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত। আকষ্মিক কামাল তাকে একদিন কু-প্রস্তাব দেয়। তার কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর দুপুরে কামাল তাকে কৌশলে বাড়ির পাশে নদীর তীরে ডেকে নিয়ে যায়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কামাল তাকে ঝাঁপটে ধরে। এসময় তার সাথে অজ্ঞাত ব্যক্তির সহায়তায় তাৎক্ষণিক একাধিক আপত্তিকর ছবি তোলে।
থানায় সাংবাদিকদের কাছে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, কামাল তাকে ওই ছবি দেখিয়ে বলে,‘তার প্রস্তাবে রাজী না হলে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে, এমনকি তার স্বামীর কাছে পৌঁছে দিয়ে তার সংসার ভাঙ্গার হুমকি দেয়।’ ওই দিন কোন রকম নিজেকে রক্ষা করে বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হন তিনি।
এরপরও ওই গৃহবধূর পিছু ছাড়েনি কামাল। যার ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফের কামাল সানা গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে ও নানাবিধ হুমকি দিয়ে জিম্মি করে তাকে ধর্ষণ করে। শুধু এখানেই শেষ নয়, বিষয়টি কাউকে না বলতে তার স্বামী-সন্তানদের সবাইকে হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনার শিকার গৃহবধু এক প্রকার নিরুপায় হয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। তারপরও প্রতারক কামাল গত বুধবার তার কাছে থাকা অশ্লীল ছবিগুলো তার স্বামী রফিকুলের কাছে পৌছে দেয় । এঘটনায় তাদের সংসার ভাঙতে বসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে থানায় মামলার খবর পেয়ে কামাল ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ওই গৃহবধূসহ তার পরিবারকে নানাবিধ হুমকি দিয়ে আসছে। তবে ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে জানান ওই গৃহবধূ।
এব্যাপারে কামাল সানা জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে একটি কুচক্রী মহল মান-সম্মান নষ্ট করতে ওই মহিলাকে ব্যবহার করছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়ায় অভিযুক্ত কামালকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।