দুই রুবেলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া

বিল্লাল হোসেন:
দুই রুবেলের অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পিতা মাতার মুখে হাসি ফোটাতে চট্রগামের মীরেরসরাইয়ে দিনমজুরের কাজে গিয়ে ক্রেনের তার ছিটকে পড়ে মুহূর্তেই লাশ হন তারা। একই মহল্লার দুই যুবকের মৃত্যুর খবরে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি অনেকেই। তাদের পিতামাতাসহ পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আর্তনাদে ওই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মৃতদেহ ফেরার অপেক্ষায় সময় কাটছে তাদের। প্রতিবেশীরা নিহতদের বাড়িতে গিয়ে শান্তনা দিচ্ছেন।
নিহতের স্বজন আব্দুর রাজ্জাকসহ আরো কয়েকজন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ নিয়ে রওনা হয়েছেন। বুধবার ভোরে মৃতদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছাতে পারে। মৃতদেহ বাড়িতে আসার পর জানাযা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই মৃত্যু খবর আসার পর থেকেই ইসলামপুরে শোকের মাতম চলছে। নিহতদের পরিবারে কাঁন্না থামছেনা। অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে দ্ইু পরিবারের সদস্যদের মুখের হাসি শেষ হয়ে গেছে। দুইদিন ধরে নিহতদের বাড়িতে রান্নাবান্নাও হয়নি। মহল্লাবাসীও শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় কাজে যাওয়ার কারণে দুই রুবেল খুব বেশি বাড়িতে থাকতেন না। কিন্তু মাঝে মধ্যে বাড়িতে এসে সবার সাথে মিশে থাকতেন। নিহত দুই রুবেলকে এলাকাবাসী ভালো মানুষ হিসেবে জানতেন। এভাবে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যাবেন এটা কেউ ধারণা করতে পারেননি। জানা গেছে, রুবেল শিকদার আনুমানিক ১ বছর আগে বিয়ে করেছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। আর রুবেল ব্যাপারী ছিলেন অবিবাহিত। তিনিও পিতা মাতার ছোট ছেলে ছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের হারুন হোসেনের ছেলে রুবেল শিকদার (২৮) ও মুহাম্মদ আলীর ছেলে রুবেল ব্যাপারী (২৩) চট্রগামের মীরেরসরাইল উপজেলায় ক্রেনে করে বিদ্যুতের হাইভোল্টেজের টাওয়ারের উপর নির্মাণ সামগ্রী উঠানোর কাজ করছিলেন। এসময় ক্রেনের তার ছিড়ে গেলে তারা দুইজন ছিটকে নিচে পড়েন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মারা যান দুই রুবেল। তারা গত মাসে ভারতের কল্পতরু ট্রান্সমিশন লিমিডেট কোম্পানির শ্রমিক হিসেবে সেখানে কাজে গিয়েছিলেন। এ খবর পৌঁছালে পরিবারের সদস্যসহ স্বজনরা কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন। প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে ছুটে যান।