যশোরাঞ্চলে তৃতীয় দিনেও অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘটে নাকাল মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরাঞ্চলের ১৮ রুটে গতকাল মঙ্গলবারও তৃতীয় দিনের মত অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘট চলেছে। নতুন সড়ক আইন সংশোধনসহ দশ দফা দাবিতে এই অঞ্চলের পরিবহণ শ্রমিকরা গাড়ি নিয়ে রাজপথে না নামায় এই ধর্মঘট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে গাড়ি চলাচলের অনুরোধ রাখেননি শ্রমিক নেতারা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বৈধ কাগজপত্র না থাকা চালকরা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি পালন করছেন। এবং ইন্ধন দিচ্ছেন শ্রমিক নেতারা। আবার প্রকাশ্য শ্রমিক নেতারা বলছেন, এই ধর্মঘটের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। গাড়ি চলাচল না করায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে পরিবহন সংকটে বিকল্প হিসেবে ট্রেনপথ বেছে নিচ্ছেন যাত্রীরা। যে কারণে যশোরের ট্রেন স্টেশনের যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন রেল কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, শাস্তির খড়গ নিয়ে রাস্তায় নামতে চাইছে না শ্রমিকরা। এজন্য স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। আর বৈধ কাগজপত্রের চালকরা বলছেন, অবৈধ কাগজপত্রের চালকরা গাড়ি নিয়ে রাজপথে নামতে সাহস পাচ্ছে না। তাই শ্রমিক নেতাদের ইন্ধনে তারা ধর্মঘট পালন করছে। এক্ষেত্রে অনেককেই বাধ্য করা হচ্ছে।
যশোর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: তৌহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে ধর্মঘট না হওয়ায় আলোচনাও ফলপ্রসূ হচ্ছে না। তবে আলোচনা চলছে।
জানা যায়, সড়ক আইন ২০১৮ সংশোধনসহ দশ দফা দাবিতে রোববার সকাল থেকে যশোর অঞ্চলের ১৮রুটে স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো মানুষ। বৈধ কাগজপত্রের চালকরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ওইসব গাড়ির চালকদের দাবি, শ্রমিক নেতারা শ্রমিকদের মাঠে নামিয়ে জিম্মি করছে। এজন্য বৈধ কাগজপত্র থাকলেও অনেক চালক নামতে পারছেন না।
শহরের খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন, শহরের বকচর এলাকার বাদল রহমান। তিনি বলেন, ঘোষণা ছাড়াই পরিবহন ধর্মঘট চলছে। অথচ কেউ দায় নিচ্ছে না। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। বৈধ শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হোক।
শহরের পালবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে বাবলু কুমার নামে এক যাত্রী বলেন, জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি কেউ আমলে নিতে চায় না। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া উচিত।
এদিকে, রোববার দিনভর এই অচলাবস্থার পর সোমবার রাতে যশোর সার্কিট হাউজে প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী ধর্মঘট নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন সোমবার পরিবহণ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে জানালেও শ্রমিকদের অবস্থান নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা।
যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা হোসেন বলেন, আমাদের প্রশাসনের সাথে আলাচনা হয়েছে। আমরা ডিসি সাহেবকে বলেছি, শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় ধর্মঘট করছে। এখানে আমাদের কথা শুনছেনা তারা।
সংগঠনের সভাপতি মামুনূর রশিদ বাচ্চু আরও বলেন, শ্রমিকদের কর্মবিরতি মালিক ও শ্রমিকদের কোনো সংগঠন ডাকেনি। ফাঁসির দড়ি সামনে নিয়ে শ্রমিকরা পরিবহনে কাজ করতে রাজি নয়। তাই তারা স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি শুরু করেছে। এটা কোনো ইউনিয়ন বা ফেডারেশনের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি নয়। পরিবহন শ্রমিকরা ইচ্ছামত কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, সোমবার রাতে বৈঠকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আশ্বাস দিয়েছিল তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করবে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি যাতে শ্রমিকরা ধর্মঘট উঠিয়ে নেয়।
এদিকে যশোরের রেল স্ট্রেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। যশোর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার এম সাইদুজ্জামান জানান, ট্রেনে টিকিট না থাকলেও যাত্রীরা দাঁড়িয়ে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছেন। অনেকে বগির সামনে এমনকি জানালার উপর বসে যাতায়াত করছেন।