যশোরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় লাথিতে প্রাণ গেল বাবার, বখাটে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটের লাথি ও কিল ঘুষিতে প্রাণ গেল বাবা আব্দুর রাজ্জাকের (৫২)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর উপশহর সারথী মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বখাটে হোসেন আলীকে (৩০) আটক করেছে।
উভয়ে উপশহর ৬ নম্বর সেক্টরের জাফরের বাড়ির ভাড়াটিয়া। হোসেন ওই বাড়ির আবুল কালাম ওরফে কালাম হুজুরের ছেলে।
নিহতের ভাই রাজন জানিয়েছেন, তার বোন রজণীর (২৪) বিয়ে হয় সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামে। রজণীর স্বামী বিদেশে থাকেন। মাঝে মধ্যে রজণী বেড়াতে আসতেন বাপের বাড়িতে। তখন বিভিন্ন সময় রজণীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতো হোসেন আলী। মাস খানেক আগে রজণী শ্বশুর বাড়ি থেকে পিতার বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এক ফাঁকে রজণীর গোসলের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে হোসেন আলী তাকে জিম্মি করে ফেলে। পরে অন্য একজনকে দিয়ে রজণীর কাছে কু প্রস্তাব পাঠায় সে। এতে রাজি না হওয়ায় ওই ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় হোসেন। বিষয়টি রজণী তিনদিন আগে তার মাকে জানান। রজনীর মা গত বৃহস্পতিবার এই বিষয়টি রজনীর পিতাকে জানালে পিতা আব্দুর রাজ্জাক ওই রাতেই হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বলেন। এই নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
শুক্রবার সকালে ফের ঝগড়া হলে হোসেনকে একটি চড় মারেন রাজ্জাক। এ সময় হোসেনও ক্ষিপ্ত হয়ে রাজ্জাকের বুকে লাথি মারলে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজল মল্লিক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে ফের হাসপাতালে পাঠালে বিকেলে ময়নাতদন্ত হয়। রাজ্জাক স্থানীয় বাজারের নৈশ প্রহরী এবং বাজারে তার একটি চায়ের দোকান আছে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে জানতে পেরেছি একটি ছবি নিয়ে মেয়েটিকে ব্লাকমেইলিং করছিল হোসেন। ইতোমধ্যে সে দুটি বিয়ে করেছে। ছোট বউ নিয়ে সারথী মিল এলাকায় জাফরের বাড়িতে ভাড়া থাকে। তার কুনজর পড়ে রাজ্জাকের বিবাহিতা মেয়ে রজণীর প্রতি। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে গোলযোগের এক পর্যায়ে হোসেনের কিল ঘুষিতে রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। এ অভিযোগে হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের লোকজন শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হবে।