ইনিংস পরাজয় এড়াতে লড়ছে বাংলাদেশ

কলকাতা থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক :

দ্বিতীয় নতুন বলে দারুণ বোলিংয়ে দলকে আনন্দের একটা উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন বোলাররা। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় সেটাও উবে যেতে বসেছিল। শঙ্কা জেগেছিল দুদিনেই ম্যাচ হারের। কোণঠাসা অবস্থা থেকে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তবে ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে সফরকারীদের।

কলকাতা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৫২ রান। মুশফিক ৫৯ রানে ব্যাট করছেন। অভিজ্ঞ এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ৭০ বলের লড়াকু ইনিংস গড়া ১০ চারে।

শুরুতে একবার রিভিউ নিয়ে বাঁচেন মুশফিক। উমেশ যাদবের বাউন্সার একবার আঘাত হানে হেলমেটে। তবে নড়ে যায়নি তার আত্মবিশ্বাস। পঞ্চাশ পার হওয়ার পর আবার বাঁচেন রিভিউ নিয়ে। তার ব্যাটেই ম্যাচ তৃতীয় দিনে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ।

ইডেন গার্ডেনসে ৩ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারত ৯ উইকেটে ৩৪৭ রানে প্রথম ইনিংস ইনিংস ঘোষণা করে। পায় ২৪১ রানের লিড।

ক্যারিয়ারে ২৭তম সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। তার সঙ্গে অজিঙ্কা রাহানে ও রবীন্দ্র জাদেজার দুটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। পরে দ্বিতীয় নতুন বলে দ্রুত চার উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পেসারদের বেশ সুইং পেতে দেখেই হয়তো ইনিংসে ঘোষণা করে দেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় পেসাররা সুইং পেলেন আরও বেশি। তাদের বিপক্ষে লড়াইও করতে পারলেন না বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।

প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া ইশান্ত শর্মা শুরুতেই কাঁপিয়ে দেন বাংলাদেশকে। প্রথম ওভারে এলবিডব্লিউ করে দেন সাদমান ইসলামকে। দীর্ঘদেহী পেসার পরের ওভারে ধরেন বড় শিকার, কট বিহাইন্ড করেন মুমিনুল হককে।

প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা বাংলাদেশ অধিনায়ক এবারও রানের খাতা খুলতে পারেননি। বাংলাদেশের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন ‘পেয়ার।’

লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে প্রায় ৯০ ওভার কিপিং করার পরও মোহাম্মদ মিঠুনকে চার নম্বরে পাঠায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে ক্রিজে যাওয়া ডানহাতি ব্যাটসম্যানের হেলমেটে আঘাত হানে ইশান্তের বাউন্সার।

ভারতের প্রায় পুরো দল চলে আসে তার অবস্থা দেখতে। তাতে হয়তো নড়ে গিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। চা বিরতির পর পুল করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

টানা চতুর্থ ইনিংসে এক অঙ্কের ঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস। ইশান্তের বলে স্লিপে চমৎকার ক্যাচ নেন কোহলি।

সপ্তম ওভারে ১৩ রানে প্রথম চার উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের ব্যাটে। টেস্টে সিরিজে ধুঁকতে থাকা মাহমুদউল্লাহ শুরু থেকেই খেলতে থাকেন শট। ধীরে ধীরে কেটে যায় চাপ।

কোহলি সুইং সামলাতে ক্রিজ থেকে কিছুটা এগিয়ে ব্যাট করছিলেন। সেখানে মাহমুদউল্লাহ খেলছিলেন আরও গভীরে গিয়ে। সঙ্গে শাফলও করছিলেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা মুশফিকও দেন দারুণ সঙ্গ।

ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় কাটিয়ে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। ৭১ বলে ৬৯ রান তোলা জুটি বিচ্ছিন্ন হয় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাহমুদউল্লাহ মাঠ ছাড়লে। দ্রুত একটি সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের।

লিটনের ‘কনকাশন সাব’ মেহেদী হাসানকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন মুশফিক। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর ভাঙে জুটিটি। আক্রমণে ফিরে মিরাজকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ইনিংসে নিজের চতুর্থ উইকেট নেন ইশান্ত।

দিনের শেষ ওভারে আউট হয়ে যান আরেক ‘কনকাশন সাব’ তাইজুল ইসলাম। তার আউট দিয়ে শেষ হয় শনিবারের খেলা। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনও ৮৯ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের। সফরকারীরা তাকিয়ে ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি পাওয়া মুশফিকের দিকে।

৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার ইশান্ত। ম্যাচে তার উইকেট হলো ৯টি। উমেশ ২ উইকেট নেন ৪০ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩০.৩ ওভারে ১০৬

ভারত ১ম ইনিংস: ৮৯.৪ ওভারে ৩৪৭/৯ (ডি.) (আগের দিন ১৭৪/৩) (মায়াঙ্ক ১৪, রোহিত ২১, পুজারা ৫৫, কোহলি ১৩৬, রাহানে ৫১, জদেজা ১২, ঋদ্ধিমান ১৭*, অশ্বিন ৯, উমেশ ০, ইশান্ত ০, শামি ১০*; আল আমিন ২২.৪-৩-৮৫-৩, আবু জায়েদ ২১-৬-৭৭-২, ইবাদত ২১-৩-৯১-৩, তাইজুল ২৫-২-৮০-১)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩২.৩ ওভারে ১৫২/৬ (সাদমান ০, ইমরুল ৫, মুমিনুল ০, মিঠুন ৬, মুশফিক ৫৯*, মাহমুদউল্লাহ ৩৯ (আহত অবসর), মিরাজ ১৫, তাইজুল ১১; ইশান্ত ৯-১-৩৯-৪, উমেশ ১০.৩-০-৪০-২, শামি ৮-০-৪২-০, অশ্বিন ৫-০-১৯-০)।