ট্রাম্পের আইনজীবীর সঙ্গে পম্পেওর ফোনালাপের প্রমাণ প্রকাশ

নিউজডেস্ক :
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউক্রেইনের কথোপকথন সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তথ্য পাওয়ার স্বাধীনতার ভিত্তিতে ‘আমেরিকান ওভারসাইট’র অনুরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ওই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয় বলে জানায় বিবিসি।

ওই নথিপত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি গিউলিয়ানির সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যে কারণগুলোর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন তদন্ত চলছে তার অন্যতম ইউক্রেইনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য শক্ত প্রতিপক্ষ জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি তদন্ত শুরু করতে ইউক্রেইন সরকারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প কথা মত কাজ না করলে দেশটির ‍সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তা তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

যদি ট্রাম্পের দাবি, হুমকি দিতে নয় বরং ইউরোপের দেশগুলোর পক্ষ থেকে সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তের মত এই তদন্তকেও ‘উইচ হান্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি তিনি অন্যায় কিছু করেনি।

ট্রাম্পের আইনজীবী গিউলিয়ানের বিরুদ্ধে ইউক্রেইনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেরি ইউভানোভিচকে অসম্মান ও অদক্ষ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা অভিযোগ আছে।

ইউভানোভিচ ইউক্রেইনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি নিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও এ বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন কিনা এখন সেটাই প্রশ্ন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যতে দেখা যায়, পম্পেও এবং গিউলিয়ানি প্রায় প্রায়ই কথা বলতেন। কিন্তু তাদের আলাপের বিষয়বস্তু কী ছিল তা এখনো জানা যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইমেইলও আছে। ইমেইলের তথ্যানুযায়ী তারা দুইজন ২৭ ও ২৯ ‍মার্চ ফোনে কথা বলেছেন।

গিউলিয়ানির সহযোগীরা ট্রাম্পের একজন ব্যক্তিগত সহকারীকে ইমেইল করে পম্পেওর ফোন নম্বর চাওয়ার পর দ্বিতীয়বার গিউলিয়ানি-পম্পেওর মধ্যে ফোনালাপ হয়।

আর গত মে মাসে ইউভানোভিচকে ইউক্রেইনের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এক বিবৃতিতে আমেরিকান ওভারসাইট’র নির্বাহী পরিচালক অস্টিন এভার্স বলেন, “কেন মাইক পম্পেও কংগ্রেসের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেননি সেটা আমরা এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

“যদিও এটা সবে নথি প্রকাশের শুরু। আদালতের নির্দেশে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সবকিছু গোপন রাখার কৌশলের পাথুরেদেয়াল ধসে পড়বে তখন আরো ভয়ঙ্কর প্রমাণ পাওয়া যাবে।”

আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্প তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডেমোক্রেট নেতা জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনোস্কিকে টেলিফোনে চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই ফোনালাপের তথ্য হাতে পেয়েছে বলে দাবি করে।

যার ভিত্তিতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের ঘোষণা দেয়।

তারপর কয়েক সপ্তাহের রুদ্ধদ্বার শুনানি প্রক্রিয়া চলার পর গত সপ্তাহ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির সামনে অভিশংসন তদন্তের প্রকাশ্য শুনানি শুরু হয়।

গত শুক্রবার শুনানিতে সাক্ষ্য দেন ইউক্রেইনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মেরি ইউভানোভিচ।

কংগ্রেসের সামনে ইউভানোভিচ ইউক্রেইনে নিযুক্ত থাকার সময় কিভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং কিভাবে ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই এ বছরের শুরুতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়, তার বর্ণনা দেন।