ডলারের তেজিভাবে ফের ৫৮ হাজার টাকা ছাড়াল সোনার ভরি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সোনার দর বেড়েছে। আড়াই মাস পর ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা করে বেড়েছে।

সোনার ভরি ৫৮ হাজার টাকা ছাড়াল

এবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে নয়, ডলারের দাম বাড়ার কারণে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামূল হক খান দোলন।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার থেকে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ আউন্স) সবচেয়ে ভালো মানের সোনা ৫৮ হাজার ২৮ টাকায় বিক্রি হবে।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৫৫ হাজার ৬৯৬ টাকায়। ১৮ ক্যারেট বিক্রি হবে ৫০ হাজার ৬৮০ টাকা।

তবে সনাতন পদ্ধতির সোনা আগের ২৯ হাজার ১৬০ টাকা দরেই বিক্রি হবে।

শনিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেন্ট সোনা ৫৬ হাজার ৪৬২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫৪ হাজার ৫২৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪৯ হাজার ৫১৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

টানা কয়েকবার বাড়ানোর পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সব ধরনের সোনার দর ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা করে কমিয়েছিল বাজুস।

দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৪ নভেম্বর রোববার বাংলাদেশের বাজারে সোনার দর বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দর কমেছে। আন্ত:ব্যাংক লেনদেনে ডলারের দর খুব একটা বাড়েনি। তাহলে ডলারের দাম বাড়ার অজুহাতে কেনো সোনার দাম বাড়ানো হলো- এ প্রশ্নের উত্তরে বাজুসের সভাপতি দোলন বলেন, আন্ত:ব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম খুব একটা না বাড়লেও ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। কার্ব মার্কেটে ডলার ৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

“এ কথা ঠিক যে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স গোল্ডের দাম ১০ ডলার কমেছে। কিন্তু ডলারের দর বাড়ার কারণে আমরা ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা বাড়িয়েছি।”

আমরা যদি দাম না বাড়াতাম তাহলে আমাদের এখান থেকে গোল্ড ভারতে পাচার হয়ে যেতো। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার আন্ত:ব্যাংক লেনদনে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ৮৬ টাকা ৮০ পয়সা। আর মার্কেটে ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা ১০ পয়সায়।

বিয়ের মৌসুমকে সামনে রেখে সোনার দর বাড়ানো হয়েছে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে এনামুল হক দোলন বলেন, “না, বিয়ের কারণে নয়। আর এখন তো বিয়ের মৌসুম শুরুই হয়নি। বুঝতে পারছি না। ডিসেম্বরের আগে হয়তো শুরু হবে না।”

প্রতি আউন্সে ৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম সোনা থাকে।

রোববার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে।

সনাতন পদ্ধতির সোনা পুরনো অলঙ্কার গলিয়ে তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা মিলবে তার কোনো মানদণ্ড নেই।

অলংকার তৈরিতে সোনার দরের সঙ্গে মজুরি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যোগ করে দাম ঠিক করা হয়।

সোনার দাম বাড়তে বাড়তে চলতি বছরের ২৬ অগাস্ট ২২ ক্যারেট সোনা ৫৮ হাজার ২৮ টাকায় উঠেছিল। ১০ সেপ্টেম্বর ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোয় তা ৫৬ হাজার ৪৬২ টাকায় নেমে আসে।

তবে রুপার দর অপরিবর্তিত রেয়েছে। আগের ৯৩৩ টাকা ভরিতেই বিক্রি হবে এটি।