মুশফিকের লড়াইয়ে তৃতীয় দিনে ম্যাচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কলকাতা টেস্টে ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনও ৯০ রান চাই বাংলাদেশের, হাতে আছে চার উইকেট।

কোহলির সেঞ্চুরি, দ্বিতীয় নতুন বলে উজ্জ্বল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩০.৩ ওভারে ১০৬

ভারত প্রথম ইনিংস: ৮৯.৪ ওভারে ৩৪৭/৯ (ইনিংস ঘোষণা)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৩২.৩ ওভারে ১৫২/৬

তৃতীয় দিনে ম্যাচ

৭ ওভারের মধ্যে নেই ৪ উইকেট, স্কোরবোর্ডে রান কেবল ১৩, ইনিংস পরাজয় এড়ানো বহুদূর, তখন ম্যাচ তৃতীয় দিনে গড়ানো নিয়েই শঙ্কা। মাহমুদউল্লাহর পাল্টা আক্রমণে ভিন্ন কিছুর শুরু, এরপর মুশফিকের লড়াই। প্রথমবার দুই দিনে টেস্ট হারার শঙ্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় দিন উতরে গেল বাংলাদেশ।

দারুণ খেলতে থাকা মাহমুদউল্লাহ ৩৯ রান করে হ্যামস্ট্রিংয়ের টানে মাঠ ছাড়েন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তবে মিরাজকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান মুশফিক। ফিফটির জুটির পর মিরাজ বিদায় নেন, খানিকটা সঙ্গ দিয়ে হাল ছাড়েন তাইজুল। তবে মুশফিক টিকে আছেন চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে। দিন শেষ অপরাজিত তিনি ৫৯ রান করে।

ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনও ৯০ রান প্রয়োজন বাংলাদেশের।

ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে ইশান্ত শর্মা দিন শেষ করেছেন ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে। দেশের মাটিতে প্রথমবার ১০ উইকেট স্বাদ পাওয়ার আশায় তৃতীয় দিন শুরু করবেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩০.৩ ওভারে ১০৬

ভারত ১ম ইনিংস: ৮৯.৪ ওভারে ৩৪৭/৯ (ডি.) (আগের দিন ১৭৪/৩) (মায়াঙ্ক ১৪, রোহিত ২১, পুজারা ৫৫, কোহলি ১৩৬, রাহানে ৫১, জদেজা ১২, ঋদ্ধিমান ১৭*, অশ্বিন ৯, উমেশ ০, ইশান্ত ০, শামি ১০*; আল আমিন ২২.৪-৩-৮৫-৩, আবু জায়েদ ২১-৬-৭৭-২, ইবাদত ২১-৩-৯১-৩, তাইজুল ২৫-২-৮০-১)।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৩২.৩ ওভারে ১৫২/৬ (সাদমান ০, ইমরুল ৫, মুমিনুল ০, মিঠুন ৬, মুশফিক ৫৯*, মাহমুদউল্লাহ ৩৯ (আহত অবসর), মিরাজ ১৫, তাইজুল ১১; ইশান্ত ৯-১-৩৯-৪, উমেশ ১০.৩-০-৪০-২, শামি ৮-০-৪২-০, অশ্বিন ৫-০-১৯-০)।

শেষবেলায় তাইজুলের বিদায়

উমেশ যাদবের বাউন্সার সামলাতে না পেরে স্লিপে অজিঙ্কা রাহানের হাতে তুলে দিলেন তাইজুল ইসলাম। আউট হয়ে গেলেন ১১ রানে।

তার বিদায় দিয়েই দিনের খেলার সমাপ্তি টানলেন আম্পায়াররা। বাংলাদেশ দিন শেষ করল দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে।

আবার রিভিউয়ে রক্ষা মুশফিকের

দ্বিতীয়বার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর মুশফিকুর রহিম টিকে গেলেন রিভিউ নিয়ে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে সুইপ করার চেষ্টায় ঠিকমতো খেলতে পারেননি মুশফিক। বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে লাগে প্যাডে। আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ত দিলেও সেটি বদলে যায় রিভিউয়ে।

মুশফিকের রান তখন ৫৯।

মিরাজের লড়াইয়ে সমাপ্তি

মুশফিকের ফিফটি ছোঁয়ার ওভারেই আউট হয়ে গেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। থামল মুশফিকের সঙ্গে তার ৫১ রানের জুটি।

ইশান্ত শর্মার ডেলিভারিটি খুব দারুণ কিছু ছিল না। অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল, হালকা বেরিয়ে গেছে পিচ করে। মিরাজ ছেড়ে না দিয়ে খোঁচা দিলেন জায়গায় দাঁড়িয়ে। স্লিপে ক্যাচ নিলেন বিরাট কোহলি।

২২ বলে ১৫ করে ফিরলেন মিরাজ। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৩৩।

হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগে বাইরে চলে যাওয়া মাহমুদউল্লাহ ফেরেননি ব্যাটিংয়ে। মুশফিকের নতুন সঙ্গী তাইজুল ইসলাম।

মুশফিকের ফিফটি

ইশান্ত শর্মার বলে বাউন্ডারিতে মুশফিকুর রহিম স্বাদ পেলেন আরেকটি টেস্ট ফিফটির। বিপর্যয়ের মধ্যে দারুণ সব শটে তার ফিফটি এসেছে ৫৪ বলে, ৯ চারে।

সিরিজে মুশফিকের এটি দ্বিতীয় ফিফটি। চার ইনিংসে ফিফটি পাননি বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান।

জীবন পেলেন মিরাজ

রবিচন্দ্রন অশ্বিন আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচ স্লিপে নিতে পারেননি অজিঙ্কা রাহানে।

অশ্বিনের ভাসিয়ে দেওয়া বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে টার্ন করেনি, সোজা বেরিয়ে যায় বাড়তি লাফিয়ে। মিরাজ বিভ্রান্ত হয়ে বাড়িয়ে দেন ব্যাট। বল যায় স্লিপে রাহানের বুক সমান উচ্চতায়। দুহাত বাড়িয়ে বল স্পর্শ করলেও তালুবন্দী করতে পারেননি রাহানে। মিরাজ বেঁচে গেলেন ৪ রানে।

বেরিয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ

একটি জুটিতে যখন লড়াই করছে বাংলাদেশ, তখনই আবার দুঃসংবাদ। এবার কোনো উইকেট নয়, তবে উইকেট ছাড়তে বাধ্য হলেন ব্যাটসম্যান। হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়লেন মাহমুদউল্লাহ।

উমেশ যাদবের বলে সিঙ্গেল নিতে ছুটছিলেন মাহমুদউল্লাহ। রান পূর্ণ করার আগ মুহূর্তে হয়তো লাগে টান, হাত দিয়ে চেপে ধরেন ডান হ্যামস্ট্রিং। ফিজিও এসে পরীক্ষা করে দেখেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং করার অবস্থায় নেই। মাঠ ছাড়লেন আস্তে আস্তে।

৭ চারে ৪১ বলে ৩৯ করে অবসর নিলেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশ ইনিংসের সেটি ১৯তম ওভার।

রিভিউয়ে টিকলেন মুশফিক

উমেশ যাদবের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিলেও রিভিউ নিয়ে টিকে গেলেন মুশফিকুর রহিম। আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাস আঙুল তোলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নিয়েছিলেন মুশফিক। রিভিউয়ের দেখা যায়, বল প্যাডে লাগার আগে তার ব্যাটে লেগেছিল বেশ ভালোভাবেই।

মুশফিকের রান তখন ১৭।

এবার মুশফিকের হেলমেটে আঘাত

বাংলাদেশের আরও এক ব্যাটসম্যানের হেলমেটে লাগল বল। এবার শিকার মুশফিকুর রহিম, বোলার উমেশ যাদব। শরীর তাক করে আসা বাউন্সার থেকে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলেন মুশফিক, বল হেলমেটে লেগে চলে যায় সীমানার কাছাকাছি।

মুশফিক অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার সমস্যা হয়নি। তবে ফিজিও মাঠে এসে পরীক্ষা করে দেখেছেন।

আগ্রাসী জুটির ফিফটি

মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ জুটির পঞ্চাশ রান এলো বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। বিপর্যয়ের মধ্যেও দুজন ব্যাট করেছেন আগ্রাসী। জুটির ফিফটিতে লেগেছে ৪৭ বল।

জুটিতে ২৮ বলে ২৮ করেছেন মাহমুদউল্লাহ, ১৯ বলে ১৫ মুশফিক।

বাংলাদেশের পঞ্চাশ

শুরুর ধসের পর বাংলাদেশকে ‌এগিয়ে নিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। দুজনেই বেছে নিয়েছেন প্রতি আক্রমণের পথ। দুজনেই খেলেছেন দারুণ কিছু শট। দল ছুঁয়েছে পঞ্চাশ।

১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেট ৫৩। এই জুটির রান ৩২ বলে ৪০। ১৭ বলে ১৯ করে খেলছেন মাহমুদউল্লাহ, ১৭ বলে ১৬ মুশফিক।

আবারও ইশান্তের শিকার ইমরুল

সিরিজে নিজের শেষ ইনিংসেও দুই অংক ছুঁতে পারলেন না ইমরুল কায়েস। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও এই ওপেনারকে ফিরিয়েছেন ইশান্ত শর্মা।

গুড লেংথের বলে ব্যাট বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ইমরুল। সুইং করে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় থার্ড স্লিপে বিরাট কোহলির হাতে।

১৩ রানের মধ্যেই বাংলাদেশ হারাল চতুর্থ উইকেট। ইনিংস পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন আরও ২২৯ রান।

এবারও পারলেন না মিঠুন

ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে এবারও বের হতে পারলেন না মোহাম্মদ মিঠুন। চা বিরতির পর উমেশ যাদবের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ শামির হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ১২ বলে ৬ রান করা তিনি। প্রথম ইনিংসে যাদবের বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়েছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

ইন্দোরে দুই ইনিংসে মিঠুন যথাক্রমে করেছিলেন ১৩ ও ১৮।

৫.২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৯/৩। ইনিংস পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন আরও ২৩৩ রান।

চা বিরতি

বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়ে এলো চা বিরতির ঘোষণা। ২৪১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের রান ৫ ওভারে ২ উইকেটে ৭। উইকেটে আছেন ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ মিঠুন।

৫ ওভারের বোলিংয়েই বাংলাদেশের ব্যাটিং নাকাল করে ছেড়েছেন ভারতীয় পেসাররা। উইকেট পড়েছে দুটি, বল অল্পের জন্য ব্যাটের কানা নেয়নি বেশকবার, ভুগতে হয়েছে শর্ট বলেও।

দিনের খেলা বাকি ৩৯ ওভার। শেষ সেশনে পুরো খেলা হলে, ম্যাচ তৃতীয় দিনে গড়ানো নিয়েই থাকছে সংশয়। আগে কখনোই দুই দিনে টেস্ট হারেনি বাংলাদেশ।

আবার হেলমেটে বল

রিভিউয়ে রক্ষা পাওয়ার পরের ডেলিভারিতেই ইশান্ত শর্মার বল ছোবল দিল মিঠুনের হেলমেটে। শরীর তাক করে আসা শর্ট বলে পজিশনেই যেতে পারেননি মিঠুন। বলের দিকে ছিল না চোখ। বল লাগে মাথার বাম পাশে হেলমেটে। ভারতীয় দলেল সবাই ছুটে আসেন, খোঁজ নেন মিঠুনের অবস্থার। মাঠে আসেন বাংলাদেশের ফিজিও জুলিয়ান কালেফাতো। একটু পর আবার ব্যাটিং শুরু করেন মিঠুন।

ভারতের অসফল রিভিউ

ইশান্ত শর্মার অনেকটা ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি লাগে মোহাম্মদ মিঠুনের পায়ে। আম্পায়ার আউট দেননি, ভারত নেয় রিভিউ। আম্পায়ার্স কলে টিকে যান মিঠুন। টিকে থাকে ভারতেরও রিভিউও। মিঠুনের রান তখন ৩।

মুমিনুলের ‘পেয়ার’

উইকেটে যাওয়ার পর যে কয়টি বল খেলেছিলেন, মুমিনুল হক ছিলেন একদমই নড়বড়ে। শেষ পর্যন্ত টিকতেও পারলেন না বেশিক্ষণ। প্রথম ইনিংসের মতোই আউট হলেন শূন্য রানে। জোড়া শূন্য, ক্রিকেটের পরিভাষায় ‘পেয়ার।’

উইকেট শিকারি বোলার এবারও ইশান্ত। বলটি অবশ্য বিশেষ কিছু ছিল না। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে বেরিয়ে যাচ্ছিল একটু। ছেড়ে দেওয়া যেত অনায়াসেই। মুমিনুল পা না নড়িয়ে, শরীর থেকে দূরে ব্যাট পেতে দিলেন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে কিপারের গ্লাভসে।

৬ বলে শূন্য মুমিনুল। বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২। ইনিংস পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন আরও ২৪০ রান।

শুরুতেই শেষ সাদমান

ইনিংস হার এড়ানোর লড়াইয়ে নেমে প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের ধাক্কা। শূন্য রানে বিদায় দিলেন সাদমান ইসলাম।

রাউন্ড দা উইকেটে করা ইশান্ত শর্মার ডেলিভারি অফ মিডলে পিচ করে বেরিয়ে যায় একটু। সাদমানের ডিফেন্সকে ফাঁকি দিতে ওই সুইং ছিল যথেষ্ট। বল লাগে প্যাডে। এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাস। সাদমান রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার্স কলে তাকে মাঠ ছাড়তেই হয়।

৫ বলে শূন্য রানে বিদায় নিলেন সাদমান। বাংলাদেশ উইকেট হারাল দলের কোনো রান হওয়ার আগেই।

ভারতের ইনিংস ঘোষণা

দল অলআউট হওয়ার আগেই ইনিংস ছেড়ে দিল ভারত। ৯ উইকেটে ৩৪৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দিলেন বিরাট কোহলি। ২৪১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।

কৃত্রিম আলোয় দ্বিতীয় নতুন বলে অসাধারণ বোলিং করছিল বাংলাদেশ। আবু জায়েদ, আল আমিনদের বলে সুইং দেখেই হয়তো আর বেশি অপেক্ষা করলেন না ভারত অধিনায়ক। ভারতের তিন পেসারের সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৩০.৩ ওভারে ১০৬

ভারত ১ম ইনিংস: ৮৯.৪ ওভারে ৩৪৭/৯ (ডি.) (আগের দিন ১৭৪/৩) (মায়াঙ্ক ১৪, রোহিত ২১, পুজারা ৫৫, কোহলি ১৩৬, রাহানে ৫১, জদেজা ১২, ঋদ্ধিমান ১৭*, অশ্বিন ৯, উমেশ ০, ইশান্ত ০, শামি ১০*; আল আমিন ২২.৪-৩-৮৫-৩, আবু জায়েদ ২১-৬-৭৭-২, ইবাদত ২১-৩-৯১-৩, তাইজুল ২৫-২-৮০-১)

আল আমিনের আরেকটি

দ্বিতীয় নতুন বলে একের পর এক উইকেট নিচ্ছে বাংলাদেশ। এবার আল আমিন হোসেন শিকার ইশান্ত শর্মা।

আল আমিনের এই ডেলিভারিও আগের উইকেটের মতো। বল পিচ করে ভেতরে ঢুকেছে অনেকটা। লাইন মিস করেছেন ইশান্ত শর্মা। এলবিডব্লিউ দিয়েছেন আম্পায়ার। অশ্বিনের মতো ইশান্তও টিকতে পারেননি রিভিউ নিয়ে।

শূন্য রানে শেষ ইশান্ত শর্মাও। ভারত ৯ উইকেটে ৩৩১।

উঠল না উমেশ ঝড়

আগের টেস্টে দারুণ এক ক্যামিও ইনিংস খেলা উমেশ যাদবকে এবার ঝড় তোলার আগেই থামাল বাংলাদেশ।

উমেশ চেষ্টা করেছিলেন তার মতোই। স্টাম্পের বাইরের বলে চেষ্টা করেছিলেন গায়ের জোরে উড়িয়ে মারতে। বল সুইং করে বেরিয়ে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যায় দ্বিতীয় স্লিপে সাদমানের হাতে।

উমেশ ফিরলেন শূন্য রানে। ভারত ৮ উইকেটে ৩৩০।

বিদায় অশ্বিনেরও

দ্বিতীয় নতুন বলে দ্বিতীয় সাফল্য পেল বাংলাদেশ। বিরাট কোহলির পর এবারও বিদায় নিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

দ্বিতীয় নতুন বলে আল আমিনের এটি ছিল প্রথম ওভার। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল ভেতরে ঢোকে বেশ খানিকটা। লাইন মিস করেন অশ্বিন। এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। অশ্বিন রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি।

৯ রানে বিদায় নিলেন অশ্বিন। ভারতের রান ৭ উইকেটে ৩২৯।

তাইজুলের অসাধারণ ক্যাচে ফিরলেন কোহলি

বিরাট কোহলিকে ফেরাতে প্রয়োজন ছিল হয়তো বিশেষ কিছু। তেমন কিছুই উপহার দিলেন তাইজুল ইসলাম।

ইবাদত হোসেনের বলটি যদিও ছিল একদমই বাজে। লেগ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ। কোহলি ফ্লিক করেছিলেন, টাইমিং হয়েছিল দুর্দান্ত। ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে বল উড়ে যাচ্ছিল সীমানার দিকে। তাইজুল ছুটে এসে বলের একটু সামনে চলে এসেছিলেন। এরপর ডানদিকে নিজেকে পুরো শূন্যে ভাসিয়ে শরীরের পেছনে চলে যাওয়া বল জমিয়েছেন হাতে।

কোহলির ইনিংস থামল ১৯৪ বলে ১৩৬ রান করে। ভারতের রান ৬ উইকেটে ৩০৮। লিড ২০২ রানের।

নতুন বল

৮০ ওভার শেষ হতেই দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন ইবাদত হোসেন।

বিরতির পরই সাফল্য

বিরতির পরই সাফল্য পেল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনের দ্বিতীয় বলেই রবীন্দ্র জাদেজাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন আবু জায়েদ চৌধুরি।

রাউন্ড দা উইকেটে করা লেংথ বলটির লাইন পড়তে ভুল করেন জাদেজা। ছেড়ে দিয়েছিলেন শট না খেলে। বল লাগে অফ স্টাম্পে।

১২ রানে ফিরলেন জাদেজা। ভাঙল ৫৩ রানের জুটি। আবু জায়েদ পেলেন ম্যাচে প্রথম উইকেট।

ভারতের রান ৫ উইকেটে ২৮৯।

ভারতের আরেকটি সেশন

যথারীতি ভারতের দাপুটে পারফরম্যান্সে শেষ হলো আরেকটি সেশন। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ভারত হারিয়েছে কেবল ১টি উইকেট, রান তুলেছে ১১৫।

ভারতের রান ৪ উইকেটে ২৮৯, লিড ১৮৩ রানের।

ক্যারিয়ারের ২৭তম ও অধিনায়ক হিসেবে ২০ততম টেস্ট সেঞ্চুরি করে কোহলি বিরতিতে গেছেন ১৩০ রানে অপরাজিত থেকে। ১২ রান নিয়ে তার সঙ্গী রবীন্দ্র জাদেজা। অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৫৩।

সেশনের একমাত্র আউট হওয়া ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানে। তাইজুল ইসলামের বলে ৫১ রানে আউট হয়েছে আলগা শট খেলে।

আরেক জুটির ফিফটি

রাহানের বিদায়ের পর বিরাট কোহলিকে সঙ্গ দিচ্ছেন রবীন্দ্র জাদেজা। আরও একটি জুটিতে ভারত পেয়েছে ফিফটি।

কোহলি-জাদেজা জুটির পঞ্চশ এসেছে ৮৪ বলে। জুটির ৪০ রানই এসেছে কোহলির ব্যাট থেকে।

৭৬ ওভার শেষে ভারতের রান ৪ উইকেটে ২৮৯। কোহলি খেলছেন ১৩০ রানে।

ছবি: বিসিসিআই

ছবি: বিসিসিআই
কোহলি টানা চার বাউন্ডারি

তাইজুল ইসলামের বলে কিছুক্ষণের জন্য কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগছিলেন বিরাট কোহলি। তবে সময়ের সঙ্গে ঝেরে ফেলেছেন তা। আবার খেলছেন দাপটে। পেসার আবু জায়েদ চৌধুরির টানা চার বলে মেরেছেন চারটি বাউন্ডারি।

কোহলির ২৭

বিরাট কোহলির ব্যাটে আরেকটি সেঞ্চুরি। আগের টেস্টে শূন্য রানে আউট হওয়ার হতাশা পেছনে ফেলে ভারতীয় অধিনায়ক দেখা দিলেন চেনা রূপে।

১৫৯ বলে কোহলি স্পর্শ করলেন ২৭তম টেস্ট সেঞ্চুরি। ইনিংসে বাউন্ডারি ১২টি।

অধিনায়ক হিসেবে কোহলির সেঞ্চুরি হলো ২০টি। পেছনে ফেললেন অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের ১৯ সেঞ্চুরিকে। অধিনায়ক হিসেবে কোহলির চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল গ্রায়েম স্মিথের, ২৫টি।

অবশেষে উইকেট

কোহলি-রাহানের জুটি যখন সেঞ্চুরির কাছে, বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উইকেট এনে দিলেন তাইজুল ইসলাম। জুটি ভাঙলেন অজিঙ্কা রাহানেকে ফিরিয়ে।

ডেলিভারিটি অবশ্য ভালো কিছু ছিল না। স্টাম্পের বাইরে, বেশ শর্ট বল। তবে বল পিচ করে মন্থর হয়ে এসেছে ব্যাটে। রাহানে কাট করার পজিশনে চলে যান আগেই, ব্যাটও চালিয়ে দেন। তাতে হয়নি টাইমিং, পাননি গ্যাপ। বল যায় পয়েন্টে ইবাদতের হাতে।

৫১ রানে আউট হলেন রাহানে। চতুর্থ উইকেটে জুটি ছিল ৯৯ রানের।

ভারতের রান ৪ উইকেটে ২৩৬। লিড ১৩০ রানের।

কোহলির সঙ্গে উইকেটে যোগ দিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা।

রাহানের পঞ্চাশ

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অজিঙ্কা রাহানে করলেন আরেকটি ফিফটি। ৬৫ বলে ৭ চারে এসেছে তার পঞ্চাশ।

সবশেষ ১০ ইনিংসে এটি রাহানের সপ্তম ফিফটি ছোঁয়া স্কোর।

ভারতের দুইশ, লিড একশ

অনায়াস এগিয়ে চলার পথে ভারতের স্কোর স্পর্শ করল দুইশ। দলের রান রেট সাড়ে তিনের ওপর।

৫৫ ওভার শেষে ভারতের রান ৩ উইকেটে ২০৭। লিড ১০১ রানের। ৭৯ রানে খেলছেন কোহলি, রাহানে ৩৬।

জুটির পঞ্চাশ

আগের দিন বিরাট কোহলি ও অজিঙ্কা রাহানের জমে যাওয়া জুটি নতুন দিনেও শুরুটা করেছে ভালো। জুটির পঞ্চাশ এসেছে কেবল ৬৮ বলেই।

৫৩ রানের জুটিতে ২৯ করেছেন রাহানে, কোহলি ২৩।

আরেকটি চ্যালেঞ্জিং দিন

ম্যাচের গতিপথ অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গেছে প্রথম দিনেই। দ্বিতীয় দিনে সেই পথ খানিকটা বদলে দেওয়ার আশায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ। যদি খানিকটা রোমাঞ্চ ফেরানো যায় ম্যাচে!

দুই দলের প্রথম দিন-রাতের টেস্টের প্রথম দিনে দ্বিতীয় সেশনেই ১০৬ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ভারত দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১৭৪ রানে। ৭ উইকেট নিয়ে প্রথম দিনেই তাদের লিড ৬৮ রানের।

৫৯ রানে দিন শুরু করবেন বিরাট কোহলি, ২৩ রানে অজিঙ্কা রাহানে। আগের দিন দুজনেই ব্যাট করেছেন স্বচ্ছন্দে। অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম ৫ হাজার রানের রেকর্ড গড়েছেন কোহলি। আজ বাংলাদেশের প্রথম চ্যালেঞ্জ, এই দুজনকে দ্রুত থামানো।

প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৩০.৩ ওভারে ১০৬ (সাদমান ২৯, ইমরুল ৪, মুমিনুল ০, মিঠুন ০, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৬, লিটন ২৬ (আহত অবসর), নাঈম ১৯, ইবাদত ১, মিরাজ ৮, আল আমিন ১*, আবু জায়েদ ০; ইশান্ত ১২-৪-২২-৫, উমেশ ৭-২-২৯-৩, শামি ১০.৩-২-৩৬-২, জাদেজা ১-০-৫-০)।

ভারত ১ম ইনিংস: ৪৬ ওভারে ১৭৪/৩ (মায়াঙ্ক ১৪, রোহিত ২১, পুজারা ৫৫, কোহলি ৫৯*, রাহানে ২৩*; আল আমিন ১৪-৩-৪৯-১, আবু জায়েদ ১২-৩-৪০-০, ইবাদত ১২-১-৬১-২, তাইজুল ৮-০-২৩-০)