ঢাকুরিয়া ইউপি উপনির্বাচনে কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

আব্দুল মতিন, মণিরামপুর:
মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া ইউপির উপনির্বাচন নিয়ে সরগরম হচ্ছে রাজনৈতিক মাঠ। আলোচিত এ ইউনিয়ন পরিষদের এবার কে আসবেন চেয়ারম্যান হিসেবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড় ঝাঁপ চলছে। তবে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর ক্ষেত্রে অনেকেই নিশ্চিত করে বললেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে নিশ্চিত নন কেউ। তবে গতকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ আলী সরদার, সাধারণ সম্পাদক জি,এম মঞ্জুরুল হাসান সাজ্জাদ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আয়ুব আলী গাজী নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দূর্গাপদ সিংহ পরোলোকগমণ করেন। এ কারণে ৩০ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মর্মে গত ২৪ নভেম্বর তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং জমাদান, ৫ ডিসেম্বর বাছাই এবং ১২ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন ধার্য করা হয়েছে তফশিলে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মণিরামপুরের রাজনীতি আবারও সরগরাম হয়ে উঠছে। এ লক্ষ্যে দলীয় প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের সম্ভব্য ৫ প্রার্থী মাঠে নেমেছেন বলে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এ ৫ প্রার্থী হচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ আলী সরদার, সাধারণ সম্পাদক জি,এম মঞ্জুরুল হাসান সাজ্জাদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আয়ুব আলী গাজী, যুবলীগের আহ্বায়ক জয়ন্ত বসু ও আওয়ামী লীগ সদস্য বাবলু সিংহ। এছাড়া বিএনপিতে দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি জি,এম মিজানুর রহমান এবং জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন বলে জানা গেছে। তবে কে কোনো দলের প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে নিশ্চিত নন কেউ। এক্ষেত্রে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে বলছেন, প্রার্থিতার কথা। বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত ইউনিয়নটি নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ২০১৩ সালের দিকে জয়পুর ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন আলোচনায় উঠে আসে। এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক জি,এম মঞ্জুরুল হাসান সাজ্জাদ এবং আয়ুব আলী গাজী এ ৩ জনের মধ্য থেকেই দলীয় প্রার্থী হয়ে আসবেন। এ ৩ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান আওয়ামী লীগের সভাপতি এরশাদ আলী সরদারের নাম বেশি উঠে আসছে। ১৯৮৯ সালে এরশাদ আলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন। আবারও তিনি দলীয় টিকিট পেলে বিজয়ী হবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে দলীয় প্রার্থী হলে বিজয়ী সাজ্জাদ হোসেন এবং আয়ুব আলী গাজীও বিজয়ী হবেন এমনটি আশার কথা জানিয়েছেন ইউনিয়নের দলীয় সাধারণ ভোটাররা। তবে জিএম মিজানুর রহমান যদি বিএনপি দলীয় প্রার্থী হয়ে যান সেক্ষেত্রে শঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ২৭ মামলার আসামী বিএনপি নেতা জি,এম মিজানুর রহমান ৯৬ থেকে টানা ১৪ বছর এই ইউপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে এবারও তিনি বিজয়ী হবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জোরালোভাবে। তবে বিএনপিতেও শঙ্কা রয়েছে জামায়াতকে নিয়ে। দেলোয়ার হোসেন জামায়াত দলীয় প্রার্থী হলে সেক্ষেত্রে বিএনপির রিজার্ভ ভোটে ভাঙ্গন ধরবে। অবশ্য আওয়ামী লীগেরও দলের লবিং গ্র“পিং নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বেশি। আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে যাকেই দলীয় প্রার্থী করুক সেক্ষেত্রে ভোটারা এক শিবিরে না ভিড়লে বিজয়ের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। ১৯ হাজার ৯৬০ ভোটার ৩০ ডিসেম্বর তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে কে আসছেন চেয়ারম্যান হিসেবে তা হিসাব নিকাশ চলছে। ২০১৩ সালের ২২ মার্চ পুলিশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফজলুর রহমানকে আটক করতে গেলে সংঘর্ষ-সংঘাত হয় জয়পুর ব্যাপী। এদিন গুলিতে আনিচুর রহমান নামে এক যুবক নিহত হয়। ঘটনার পর সংঘর্ষ, বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ, লুটপাত, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। যে ঘটনায় শত শত জনগণ মামলার আসামি হয়ে আজও পথে পথে ঘুরছে। তবে সেদিনের পরিবেশ মনে পড়লে আজও শিউরে উঠে ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জনগণ। তবে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আবারও নানা শঙ্কার কথা বলছেন। তবে বেশির ভাগ ভোটারের দাবি নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোক না কেন চায় সুষ্ঠু সুন্দর একটি নির্বাচন। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার সহিদুর রহমান ঢাকুরিয়া ইউপি উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জোরালোভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।