বুয়েটে র‍্যাগিংয়ে জড়িত আরও ২৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : আবরার ফাহাদ হত্যামামলার আসামিদের পর এবার বিভিন্ন সময় র‌্যাগিংয়ে জড়িত ২৬ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার জানিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ও বুয়েট বোর্ড অফ রেসিডেন্স এন্ড ডিসিপ্লিন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

গত ৬ অক্টোবর আবরার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ক্লাস বর্জন করে আসছে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ফলে প্রায় দুই মাস ধরে অচল বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার নামী এই প্রতিষ্ঠান।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীরা যে ১০ দফা দাবি তুলেছিল, ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে।

গত ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে আবরারের মৃত্যু ঘটে। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে ওই ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল বুয়েট কর্তৃপক্ষ।

১০ দফার কয়েকটি মেনে নেওয়ার পর গত ১৫ অক্টোবর মাঠের আন্দোলন থেকে সরে আসে বুয়েট শিক্ষার্থীরা; তবে মামলার অভিযোগপত্র ও অন্য দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দেয়।

পাঁচ সপ্তাহের তদন্তে গত ১৩ নভেম্বর পুলিশ ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিলেও ক্লাসে ফেরার জন্য বুয়েট কর্তৃপক্ষকে তিনটি শর্ত দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

ওই শর্তের একটি ছিল অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। এছাড়া আগের র‌্যাগের ঘটনায় অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ার দাবিও ছিল তাদের।

আবরার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের গত ২১ নভেম্বর স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। সেদিন শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য আরও ছয়জনকেও বহিষ্কার করা হয়।

বৃহস্পতিবার আরও ২৬ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হল। এরা সোহরাওয়ার্দী ও আহসানউল্লাহ হলে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল।

২৬ জন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া চারজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছে বুয়েট প্রশাসন।

বহিষ্কৃত ২৬ জনের মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থীকে হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার এবং ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অধ্যাপক মিজানুর সাংবাদিকদের বলেন, “সাম্প্রতিককালে সংঘটিত র‌্যাগিং ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বুয়েট বোর্ড অফ রেসিডেন্স এন্ড ডিসিপ্লিন কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

হল থেকে আজীবনের জন্য এবং একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত ৯ শিক্ষার্থী হলেন- সব্যসাচী দাস দিব্য, সৌমিত্র লাহিড়ী, প্লাবন চৌধুরী, নাহিদ আহমেদ, অর্ণব চৌধুরী, মো. ফরহাদ হোসেন, মো. মোবাশ্বের হোসেন শান্ত, এ এস এম মাহাদী হাসান, আকিব হাসান রাকিব। এদের মধ্যে প্রথম ছয়জন আহসানউল্লাহ হলের এবং পরের তিনজন সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

বিভিন্ন মেয়াদে আবাসিক হল ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কৃত ১৭ শিক্ষার্থী হলেন- কাজী গোলাম কিবরিয়া রিফাত, মো. সাকিব হাসান, মো. সাজ্জাদুর রহমান, সাকিব শাহরিয়া, শেখ আসিফুর রহমান আকাশ, মো. রাইয়ান তাহসিন, মেহেদী হাসান, তৈয়ব হোসেন, এ এফ এম মাহফুজুল কবির, মো. বখতিয়ার মাহবুব মুরাদ, সৈয়দ শাহরিয়ার আলম প্রত্যয়, মো. তৌফিক হাসান, মো. কুতুবুজ্জামান কাজল, মোহাম্মদ তাহমিদুল ইসলাম, ফেরদৌস হাসান ফাহিম, মো. আল-আমিন ও তাহাজিবুল ইসলাম। এরা সবাই সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

এছাড়া ভবিষ্যতে জন্য আহসানউল্লাহ হলের ৪ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা হলেন- মো. তাহসিন ফারহান ফাতিন, লোকমান হোসেন, শাফকাত বিন জাফর ও তানজিন রশিদ আবির।

তিতুমীর হলের র‍্যাগিংয়ের ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য আরেকটি কমিটি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের তিন শর্তের দ্বিতীয়টি পূরণ হলেও আরও একটি এখনও বাকি।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করলেও সে নিয়ম ভাঙলে শাস্তির নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে যুক্ত করার দাবি রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

এই শর্তের বিষয়ে অধ্যাপক মিজানুর বলেন, “আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই হয়ত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ যেহেতু বিষয়টি একটি আইনি প্রক্রিয়াও বটে, তাই আমাদের আইনজীবীদের সাথেও এই বিষয়ে কথা বলতে হবে।”

বুয়েট প্রশাসনের প্রতি ‘বিশ্বাস’ রেখে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে যেতে আহ্বান জানান।