যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে মুচলেকায় রক্ষা কৃষ্ণ সিন্ডিকেট

বিল্লাল হোসেন :
আর্থিক কেলেংকারী এবং ওষুধ লুটপাটের ঘটনার তদন্তে সত্যতা মিললেও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে দায়িত্বরত কৃষ্ণ সিন্ডিকেট মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুর্বলতার কারণে এত বড় অপরাধ করেও পার পেয়ে গেলো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। প্রথম অবস্থায় ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা ও অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে দায়িত্ব প্রত্যাহারের বুলি আওড়ালেও হঠাৎ করেই নীরব হয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালে আলোচনা হচ্ছে কৃষ্ণ সিন্ডিকেট সত্যিই ক্ষমতাধর। তাই একের পর এক অপরাধ করেও কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বরাবরই সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু। অস্ত্রোপচার কক্ষে কৃষ্ণ সিন্ডিকেটের ওষুধ লুটপাট ও রোগী জিম্মি করে অর্থবাণিজ্যের ঘটনায়ও তিনি শক্ত অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু কয়েকজন দাপটশালী চিকিৎসকের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ওই দাপটশালী চিকিৎসকরা আলোচনায় তত্ত্বাধায়ককে বলেছেন কৃষ্ণ দেব, আশানুর রহমান ও স্বপন কুমারসহ আরো কয়েকজন ছাড়া অস্ত্রোপচার কক্ষ অচল। কারণ তারা সব রকমের কাজে ‘এক্সপাট’। তাই তাদেরকে সেখান থেকে অন্যত্র সরানো যাবেনা। কয়েকজন কর্মচারী আরো জানান, তবে তাদের চেয়েও অনেক পারদর্শী কর্মচারী রয়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মরত। এরপরেও কৃষ্ণ সিন্ডিকেটের সদস্যদের নানা অজুহাতে অস্ত্রোপচার কক্ষে দায়িত্বে রাখা হয় বছরের পর বছর। একযুগেও তাদের দায়িত্বের রোস্ট্রারও পরিবর্তন হয় না অজ্ঞাত কারণে। সূত্র জানায়, ওই সিন্ডিকেটের ধান্দাবাজ কর্মচারীদের দিয়ে নানাভাবে উপকৃত হন দাপটশালী ওই চিকিৎসকরা। অনেক সময় চিকিৎসককে না ডেকে ছোট খাটো কাজগুলো তারা নিজেরাই করে দেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, কৃষ্ণ দেবসহ আরো কয়েকজন কর্মচারী অস্ত্রোপচার কক্ষে অনিয়ম ও অর্থবাণিজ্যের সাথে জড়িত বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তিনি দুই দফা কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে আলোচনায় বসেছেন। সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত কর্মচারীদের সতর্ক করে ক্ষমা করে দেয়ার। সে অনুযায়ী কৃষ্ণ দেব ও আশানুর রহমানকে ক্ষমা করে দিয়ে মঙ্গলবার মুচলেকা নেয়া হয়েছে। তারা মুচলেকায় বলেছেন, “আগামীতে এ ধরনের অন্যায় ও অপরাধ করবো না। যদি করে থাকি তাহলে স্থানীয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বড় ধরণের শাস্তি আমরা মাথা পেতে নেবো”। আবুল কালাম আজাদ লিটু আরো জানান, কোনো চিকিৎসক কৃষ্ণ দেবসহ অন্য কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা প্রদান করেননি। মানবিক কারণে এবার তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর পিত্তথলির পাথর অস্ত্রোপচারের পর মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক রোগীকে আটকে রেখে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় ও চিকিৎসকরে স্বাক্ষর বিহীন শর্ট স্লিপের মাধ্যমে ওষুধ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীরা। ওই দিনই তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন হয়। তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয় অজ্ঞান বিভাগের চিকিৎসক অস্ত্রোপচার কক্ষের ইনচার্জ আহসান হাবীব। কমিটির অন্য দুইজন ছিলেন সদস্য সচিব সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল ও সদস্য আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ। ঘটনার ৮দিন পর ৩ নভেম্বর তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। পরিছন্নতাকর্মী কৃষ্ণ দেবসহ সেখানে দায়িত্বরত আরো কয়েকজন কর্মচারী এই লুটপাট সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি।